জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর উদ্বোধন হচ্ছে আজ বুধবার (৫ আগস্ট)। সকাল ৯টায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাদুঘরটির উদ্বোধন করবেন। উদ্বোধন শেষে জাদুঘরটি ঘুরে দেখবেন তিনি। উদ্বোধনের দিন জাদুঘর শুধু আমন্ত্রিত অতিথিদের জন্য খোলা থাকবে; সবার জন্য উন্মুক্ত হবে বৃহস্পতিবার থেকে।
সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য জানান।
ছাত্র-জনতার তীব্র আন্দোলনের মুখে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পতন হয় আওয়ামী লীগ সরকারের। রক্তক্ষয়ী সেই গণঅভ্যুত্থানে দীর্ঘ ১৭ বছরের শাসনেরও অবসান ঘটে।
সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, প্রধানমন্ত্রী জাদুঘরের সংরক্ষিত নিদর্শন, আলোকচিত্র, দলিলপত্র ও স্মারকগুলো পরিদর্শনের মাধ্যমে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ইতিহাস সম্পর্কে অবহিত হবেন।
এতদিন নানা জটিলতার কারণে চব্বিশের আন্দোলনের স্মৃতিচিহ্ন হিসেবে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বাসভবন গণভবনকে রূপান্তর করে গড়ে তোলা জাদুঘর চালু করা যায়নি।
২০২৪ সালের ৫ অগাস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মুখে দেশ ছেড়ে ভারতে চলে যান সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সেদিন তার সরকারি বাসভবন গণভবনে ব্যাপক ভাঙচুর ও লুটপাট চালানো হয়। এরপর ৮ অগাস্ট অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার শপথ নেয়। পরে এই সরকারের অধীনেই জুলাইয়ের নানা স্মৃতিচিহ্ন নিয়ে সেই গণভবনে তৈরি করা হয় জুলাই স্মৃতি জাদুঘর।
মঙ্গলবার সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, “বাংলাদেশের ফ্যাসিবাদ বিরোধী গণতান্ত্রিক সংগ্রামের ইতিহাসে এক অবিস্মরণীয় মাইলফলক জুলাই গণঅভ্যুত্থান। এর গৌরবময় স্মৃতি সংরক্ষণ, সংগ্রামের প্রকৃত ইতিহাস নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরা এবং নিহত ও জুলাই যোদ্ধাদের আত্মত্যাগের স্মারক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে এই জাদুঘর।”
আমন্ত্রিত অতিথি ছাড়াও উদ্বোধন অনুষ্ঠানে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ‘বীরত্বগাথা’ ও আত্মত্যাগের স্মৃতিচারণ করে জুলাই যোদ্ধা এবং জুলাইয়ে নিহত পরিবারের সদস্যরা বক্তব্য দেবেন। এছাড়া অনুষ্ঠানে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ঘটনাপ্রবাহ, গণমানুষের অংশগ্রহণ এবং বিজয়ের ইতিহাসভিত্তিক একটি প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হবে বলে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলেছে মন্ত্রণালয়।
অনুষ্ঠানের সাংস্কৃতিক পর্বে দেশের খ্যাতনামা শিল্পীদের অংশগ্রহণে দেশাত্মবোধক গান, আবৃত্তি ও পরিবেশনার মাধ্যমে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনা, দেশপ্রেম এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ তুলে ধরা হবে। অনুষ্ঠানে কূটনীতিক, বুদ্ধিজীবী, শিক্ষাবিদ, সংস্কৃতিজন, জুলাই যোদ্ধা, জুলাইয়ে নিহত পরিবারের সদস্য, রাজনৈতিক ব্যক্তি, গণমাধ্যমকর্মী এবং বিভিন্ন পেশার ব্যক্তিরা উপস্থিত থাকবেন বলে জানা গেছে।