পাকিস্তানে পৌঁছেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী, বৈঠক নিয়ে অনিশ্চয়তা

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় এক বিশেষ কূটনৈতিক তৎপরতা শুরু হয়েছে। শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) রাতে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল নিয়ে ইসলামাবাদে পৌঁছেছেন। একই সময়ে হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দুই বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং জ্যারেড কুশনারও আলোচনার উদ্দেশ্যে আজ শনিবার (২৫ এপ্রিল) পাকিস্তানে যাচ্ছেন। তবে সরাসরি আলোচনার সম্ভাবনা নিয়ে দুই পক্ষ থেকেই পাওয়া যাচ্ছে পরস্পরবিরোধী সংকেত। খবর ডনের। 

পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র তাহির আন্দরাবি জানিয়েছেন, নূর খান বিমান ঘাঁটিতে ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে অভ্যর্থনা জানান পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দায়ের এবং সেনাবাহিনী প্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির। আজ পাকিস্তানের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে বৈঠকে বসবেন আরাঘচি। ইসহাক দায়ের এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক পোস্টে এই সফরকে ‘আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রচারের সার্থমণ্ডিত প্রচেষ্টা’ হিসেবে অভিহিত করেছেন।

মার্কিন দূতরা পাকিস্তানে পৌঁছালেও ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সরাসরি কোনো বৈঠকের পরিকল্পনা তেহরানের নেই। বাঘাই বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো সরাসরি বৈঠক হবে না। ইরানের পর্যবেক্ষণ ও দাবিগুলো কেবল মধ্যস্থতাকারী পাকিস্তানের মাধ্যমেই ওয়াশিংটনকে জানানো হবে।

এদিকে ওয়াশিংটনে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, ইরান শান্তি আলোচনার জন্য একটি ‘প্রস্তাব’ তৈরি করছে যা মার্কিন শর্তগুলো পূরণ করতে পারে। হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলাইন লেভিট জানিয়েছেন, উইটকফ ও কুশনার সরাসরি ইরানিদের বক্তব্য শুনতে পাকিস্তানে যাচ্ছেন। যদিও আগের দফার আলোচনায় নেতৃত্ব দেওয়া ভাইস-প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এই সফরে যাচ্ছেন না। তবে প্রয়োজনে তাকে যে কোনো সময় পাঠানো হতে পারে বলে তিনি ‘স্ট্যান্ডবাই’ রয়েছেন।

পাকিস্তানের সরকারি সূত্রগুলো জানিয়েছে, মার্কিন ও ইরানি প্রতিনিধিদের মধ্যে সরাসরি সংলাপের পরিবেশ তৈরির চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে ইসলামাবাদ। বর্তমানে একটি মার্কিন নিরাপত্তা ও লজিস্টিক দল ফেডারেল ক্যাপিটালে অবস্থান করছে। সরাসরি বৈঠক না হলেও, পাকিস্তান ‘সেতু’ হিসেবে উভয় পক্ষের প্রস্তাবগুলো আদান-প্রদান করবে। মূলত হরমুজ প্রণালিতে অচলাবস্থা নিরসন ও পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে একটি স্থায়ী সমঝোতায় পৌঁছানোই এই কূটনৈতিক দৌড়ঝাঁপের প্রধান লক্ষ্য।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *