ইরানের সঙ্গে আলোচনার জন্য পাকিস্তানে প্রতিনিধি পাঠাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র : রিপোর্ট

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আগামী দিনগুলোতে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচির সঙ্গে আলোচনায় অংশ নিতে তার বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনারকে পাকিস্তানে পাঠানোর পরিকল্পনা করছেন। ট্রাম্প প্রশাসনের দুজন কর্মকর্তার বরাত দিয়ে শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) সংবাদমাধ্যম সিএনএনকে এ তথ্য জানিয়েছে।

কর্মকর্তারা জানান, যেহেতু ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবফ অংশগ্রহণ করছেন না, তাই মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সেরও আলোচনায় অংশ নেওয়ার পরিকল্পনা নেই।

কর্মকর্তারা আরও জানান, আলোচনা সামনে এগোলে জে ডি ভ্যান্স ইসলামাবাদে যাওয়ার জন্য প্রস্তুত থাকবেন। আপাতত তার প্রতিনিধিরা পাকিস্তানে গিয়ে আলোচনায় অংশ নেবেন।

কুশনার ও উইটকফ কয়েক মাস ধরে তেহরানের পারমাণবিক উপাদান নিয়ে একটি সম্ভাব্য চুক্তির বিষয়ে ইরানের কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করে আসছেন।

এদিকে, তিন দেশ সফরে যাচ্ছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী  আব্বাস আরাঘচি। শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) ওমান, পাকিস্তান ও রাশিয়া সফরের শুরুতে নিজের এক্স অ্যাকাউন্টে এক পোস্টে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, দ্বিপাক্ষিক বিষয়ে আমাদের অংশীদারদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে সমন্বয় করতে এবং আঞ্চলিক ঘটনাবলি নিয়ে পরামর্শ করার জন্য তিনি ইসলামাবাদ, মাসকাট ও মস্কোতে ‘সময়োপযোগী সফরে’ যাচ্ছেন।

এক্সে আরাঘচি লেখেন, আমাদের প্রতিবেশীরাই আমাদের অগ্রাধিকার।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এই সফর পাকিস্তানের কর্মকর্তারা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সরাসরি আলোচনা পুনরায় শুরুর ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

এর আগে, কৌশলগত জলপথ হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলের ক্ষেত্রে মিত্র বা ‘বন্ধু’ দেশগুলোকে টোল বা মাশুল থেকে অব্যাহতি দেওয়ার ঘোষণা দেয় ইরান। আজ শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা আরআইএ নভোস্তি এক প্রতিবেদনে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।

মস্কোতে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত কাজেম জালালি সংবাদ সংস্থাটিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, আমরা কিছু দেশের জন্য বিশেষ ছাড় বা ব্যতিক্রমের ব্যবস্থা করেছি। ভবিষ্যতে কী হবে তা এখনই বলতে পারছি না। তবে এই মুহূর্তে আমাদের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বন্ধু রাষ্ট্রগুলোর জন্য এই সুবিধা নিশ্চিত করার চেষ্টা করছে। তিনি উদাহরণ হিসেবে রাশিয়ার নাম উল্লেখ করে জানান, রুশ জাহাজগুলো এই টোল মওকুফ সুবিধার আওতায় থাকছে।

গত সপ্তাহেই ইরান ঘোষণা করেছিল, হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তাদের যে বিপুল অর্থ ব্যয় হয়, তা পুষিয়ে নিতে এই জলপথ ব্যবহারকারী প্রতিটি বাণিজ্যিক জাহাজকে নির্দিষ্ট হারে মাশুল দিতে হবে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর নৌ-অবরোধের মুখে ইরান ‘কূটনৈতিক ব্লক’ তৈরির চেষ্টা করছে। রাশিয়ার মতো শক্তিধর মিত্রদের বিশেষ সুবিধা দিয়ে তেহরান মূলত আন্তর্জাতিক মহলে নিজের অবস্থান সুসংহত করতে চায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *