ইন্টার মায়ামিকে ক্লাবের ইতিহাসের সবচেয়ে সফল মৌসুম উপহার দেওয়ার মাত্র কয়েক মাস পরেই কোচের পদ থেকে সরে দাঁড়ালেন আর্জেন্টাইন কিংবদন্তি হাভিয়ের মাচেরানো।
আনুষ্ঠানিকভাবে মাচেরানো তার এই বিদায়ের পেছনে ‘ব্যক্তিগত কারণ’ উল্লেখ করেছেন এবং ক্লাব, খেলোয়াড় ও ভক্তদের ধন্যবাদ জানিয়েছেন।তবে ফুটবল বিশ্বে এই টাইমিং নিয়ে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।
মাচেরানোর অধীনে গত মৌসুমে ইন্টার মায়ামি অপ্রতিরোধ্য হয়ে উঠেছিল।তার কোচিংয়েই ক্লাবটি প্রথমবারের মতো এমএলএস কাপ এবং ইস্টার্ন কনফারেন্সের শিরোপা জেতে। সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে এক মৌসুমে রেকর্ড ১০১টি গোল করার কৃতিত্ব দেখায় মায়ামি।
এছাড়া ফিফা ক্লাব বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে পৌঁছানো এবং প্রথম এমএলএস দল হিসেবে ইউরোপীয় কোনো প্রতিপক্ষকে হারানো; সবই ছিল মাচেরানোর সাফল্যের মুকুটে একেকটি পালক।
২০২৫ সালের সেই আকাশচুম্বী সাফল্যের পর ২০২৬ মৌসুমে মুদ্রার উল্টো পিঠ দেখতে শুরু করে মায়ামি।মৌসুমের শুরুতেই এলএএফসি’র কাছে বড় পরাজয় এবং ঘরের মাঠে প্রথম দুই ম্যাচে জয়হীন থাকা দলের ওপর চাপ বাড়িয়ে দেয়। সবচেয়ে বড় ধাক্কা ছিল কনকাকাফ চ্যাম্পিয়নস কাপ থেকে দ্রুত বিদায় নেওয়া, যা এই মৌসুমে ক্লাবের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য ছিল।
মাঠে দলের খেলাতেও কিছুটা পরিবর্তনের ছাপ দেখা যাচ্ছিল। বিশেষ করে লিওনেল মেসির ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীলতা এবং আক্রমণভাগে আগের মতো সংহতি না থাকা নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠছিল।
মাচেরানোর এই বিদায়ে তার পূর্বসূরি জেরার্ডো মার্টিনোর চলে যাওয়ার ছাপ ফুটে উঠেছে। ২০২৪ সালে মার্টিনোও ঠিক একইভাবে “ব্যক্তিগত কারণ” দেখিয়ে ক্লাব ছেড়েছিলেন। উভয় কোচের ক্ষেত্রেই দেখা গেছে, সাফল্যের পরপরই যখন প্রত্যাশার পারদ চড়তে শুরু করেছে, তখনই তারা বিদায় নিয়েছেন।
এটি ইঙ্গিত দেয় যে, ইন্টার মায়ামিতে সাফল্য পেলেও টিকে থাকাটা বেশ চ্যালেঞ্জিং এবং এখানে ধারাবাহিকতার চেয়ে তাৎক্ষণিক প্রত্যাশা পূরণকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
বিদায়বেলায় মাচেরানো কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, ‘প্রথম শিরোপার স্মৃতি আমি সবসময় মনে রাখব।’
ইন্টার মায়ামির অন্যতম মালিক হোর্হে মাসও তার ঐতিহাসিক অবদানের জন্য যথাযথ সম্মান জানিয়েছেন। তবে মাঠের পারফরম্যান্সের নিম্নগতি, বড় টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় এবং হাই-প্রোফাইল স্কোয়াড সামলানোর মানসিক চাপের সম্মিলিত ফলাফলই যে এই বিদায়, তা বলার অপেক্ষা রাখে না।
এসএন/পিডিকে