জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসে রাজধানীর সব সড়কজুড়ে মিছিল, জনসমুদ্র নয়াপল্টন

জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে সমাবেশ ও শোভাযাত্রা উদযাপনে শনিবার (৭ নভেম্বর) রাজধানীর সব সড়কেই দেখা গেছে জনতার মিছিল, আর সবগুলো মিছিল এসে মিশে নয়াপল্টন রূপ নেয় জনসমুদ্রে।

জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে বিএনপির সমাবেশ ও শোভাযাত্রা শুরু হয় বেলা ৩টার দিকে। দলের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে থেকে শোভাযাত্রাটি শুরু হয়।

কর্মসূচি উপলক্ষে নয়াপল্টনে সকাল থেকেই বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে ও আশপাশের এলাকায় জড়ো হতে শুরু করেন নেতা-কর্মী ও সাধারণ মানুষেরা।

খণ্ড-খণ্ড মিছিল নিয়ে ঢাকা মহানগরের বিভিন্ন থানা, ওয়ার্ড এবং আশপাশের জেলাগুলো থেকে সকাল থেকেই নয়াপল্টনে আসেন নেতা-কর্মীরা। তাদের হাতে শোভা পাচ্ছিল জাতীয় ও দলীয় পতাকা, ব্যানার, ফেস্টুন এবং শীর্ষ নেতাদের ছবি সংবলিত প্ল্যাকার্ড। নানা রঙের টি-শার্ট ও টুপি পরে স্লোগানে-স্লোগানে পুরো এলাকা মুখরিত হয়ে উঠে।

শোভাযাত্রার শুরুতে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে নির্মিত অস্থায়ী মঞ্চে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রেখে এবং শোভাযাত্রার উদ্বোধন ঘোষণা করেন বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সমাবেশে দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীসহ স্থায়ী কমিটির সদস্যরাও বক্তব্য রাখেন।

সমাবেশ শেষে নয়াপল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে থেকেই এ সুসজ্জিত শোভাযাত্রাটি যাত্রা শুরু করে। এরপর রাজধানীর নির্ধারিত সড়কগুলো পেরিয়ে সেটি গিয়ে থামে মানিক মিঞা অ্যাভিনিউতে।

নয়াপল্টন ও আশপাশের এলাকা ফকিরাপুল, দৈনিক বাংলা, আরামবাগ, নাইটিংগেল মোড়, বিজয়নগর, কাকরাইল, শান্তিনগর ও মালিবাগ পর্যন্ত জনতার স্রোত র‌্যালিকে জনসমুদ্রে পরিনত করে।

বিএনপি দীর্ঘ ২০ বছর পর ক্ষমতায় ফেরার পর জাতীয় এ দিবসটিতে ব্যাপক আনন্দ উচ্ছ্বাস ও আবেগ ছিল চোখে পড়ার মতো।

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, আজকের শোভাযাত্রাকে কেন্দ্র করে দলের পক্ষ থেকে ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়। নেতা-কর্মীরা আগেভাগেই নয়াপল্টনে এসেছেন। আজকের শোভাযাত্রায় বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান নিজেই নেতৃত্ব দিচ্ছেন। এটা আমাদের জন্য গর্বের। এতে নেতা-কর্মীরা অনুপ্রাণিত হবেন। দল ও সংগঠনগুলো নতুন করে শক্তি সঞ্চয় করবে। পাশাপাশি বিপুল সংখ্যক সাধারণ মানুষ আজ এই সমাবেশ ও র‌্যালিতে শরিক হয়েছেন। বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা বাধাগ্রস্ত করার সব ষড়যন্ত্র দেশপ্রেমিক জাতীয়াবাদী শক্তি ও জনগণ নস্যাৎ করে দেবে— এটিই জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসের শপথ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *