অবিশ্বাস্য! অতুলনীয়! অকল্পনীয়! আরও অনেক বিশেষণ দিয়েই পাকিস্তানের এই জয়কে বর্ণনা করা যায়। ‘আনপ্রেডিক্টেবল পাকিস্তান’ যেন আবারও ফিরে এলো। আর সেই গল্পের নায়ক শাদাব খান। প্রবল ঝড়ে ডুবতে বসা তরীকে দক্ষ নাবিকের মতো নিয়ে এলেন তীরে। ইতিহাস গড়ে পাকিস্তানকে এনে দিলেন অবিশ্বাস্য জয়। ম্যান ইন গ্রিনদের নিয়ে গেলেন ত্রিদেশীয় সিরিজের ফাইনালে।
আজ রোববার (২৫ অক্টোবর) রাওয়ালপিন্ডিতে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে ৪৬.৪ ওভারে সব কটি উইকেট হারিয়ে ২৪১ রান তুলেছিল ইংল্যান্ড। জবাব দিতে নেমে ৪৭.১ ওভারে ৯ উইকেট হারিয়ে লক্ষ্যে পৌঁছে যায় পাকিস্তান। টানা তিন জয়ে তারা জায়গা করে নিল ত্রিদেশীয় সিরিজের ফাইনালে।
ইংল্যান্ডের দেওয়া ২৪২ রান তাড়া করতে নেমে ৩৩.৫ ওভারে ১৫৪ রান তুলতেই ৯ উইকেট হারিয়ে ফেলে পাকিস্তান। তখন শেষ ব্যাটার হিসেবে উইকেটে থাকা শাদাব খানকে সঙ্গ দিতে নামেন হারিস রউফ। দুজন মিলে রেকর্ড জুটি গড়ে পাকিস্তানকে জয় এনে দেন।
দশম উইকেট জুটিতে ৮০ বলে ৮৯ রান করেন এই দুজন। ওয়ানডে ইতিহাসে সফল রান তাড়ায় দশম উইকেটে এটিই এখন সর্বোচ্চ জুটির বিশ্ব রেকর্ড। এই জুটিতে অবশ্য শাদাবের অবদানই বেশি। ৬১ বল খেলে ৮১ রান করেন তিনি। আর ১৯ বল খেলে ৭ রান যোগ করেন রউফ। শেষ পর্যন্ত ৯৬ বলে ১১৩ রানে অপরাজিত থাকেন শাদাব।
অথচ নবম ব্যাটার হিসেবে অভিষিক্ত রাজাউল্লাহ যখন ফেরেন শাদাবের রান তখনও ৩৫ হয়নি। সেখান থেকেই যেন তিনি অবিশ্বাস্য গল্প লিখলেন। হারিস রউফকে নিয়ে লড়াইয়ের বারুদ জ্বালালেন রাওয়ালপিন্ডির মাঠে। ইংল্যান্ডকে ভাসালেন হতাশার সাগরে। পাকিস্তানকে জেতাতে তুলে নেন ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় ওয়ানডে সেঞ্চুরি।
সফল রান তাড়ায় দশম উইকেটে সর্বোচ্চ জুটির রেকর্ডটি এত দিন ছিল পাকিস্তানের বিপক্ষে। ১৯৭৫ সালে প্রথম ওয়ানডে বিশ্বকাপে পাকিস্তানের বিপক্ষে দশম উইকেটে ৬৪ রানের জুটি গড়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে জিতিয়েছিলেন ড্যারেক মারে ও অ্যান্ডি রবার্টস।
এর আগে রান তাড়ায় নেমে শুরুতেই ব্যাটিং ধসে পড়ে পাকিস্তান। মাত্র ৩১ রানের মাঝেই বিদায় নেন টপঅর্ডারের তিন ব্যাটার। প্যাভিলিয়নের পথ ধরেন ফখর জামান (১৮ বলে ১০), সাইম আইয়ুব (১২ বলে ৬) ও বাবর আজম (১২ বলে ১০)।
এরপর কিছুটা প্রতিরোধের চেষ্টা করেছিলেন সাদ বেগ আর সালমান আলী আঘা। চতুর্থ উইকেটে ৩১ বলে ৪৩ রানের জুটি গড়েছিলেন তারা। আশা জাগানো সেই জুটির পতন হয় সাদ বেগ ফিরলে। ২২ বলে ৩২ রান করে জেমি ওয়েভারটনের শিকার হন তিনি।
পঞ্চম উইকেট জুটিতেও কিছুটা আশা জাগিয়েছিলেন সালমান আর হাসান নাওয়াজ। ৬৪ বল খেল ২৮ রান তুলেছিলেন তারা। দেখেশুনে খেলতে গিয়েও ইনিংস বড় করতে পারেননি হাসান নাওয়াজ। ৩৩ বলে ১৫ রান করে ফেরেন তিনি।
এরপর আবারও ব্যাটিং ধস দেখে পাকিস্তান। পরের ৫১ রান তুলতেই হারায় ৪ উইকেট এতে। ফলে স্কোর দাঁড়ায় ১৫৪ রানে ৯ উইকেট। সেখান থেকেই অসাধ্যকে সাধন করেন শাদাব আর রউফ। রাওয়ালপিন্ডির গ্যালারিতে আনন্দের উপলক্ষ্য এনে দেন তারা।
ইংল্যান্ডের হয়ে সর্বোচ্চ ৩টি উইকেট নেন ওয়েভারটন। সমান দুটি করে উইকেট যায় গাস আটকিনসন আর লিয়াম ডওসনের ঝুলিতে।
এর আগে টস হেরে ব্যাট করতে নেমে নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারিয়েছে ইংল্যান্ড। টপঅর্ডার কিংবা মিডলঅর্ডার– কোনো ব্যাটাররাই দায়িত্ব নিতে পারেননি। শাহিন শাহ আফ্রিদির পেস আগুনে পুড়েছেন সফরকারী ব্যাটাররা। টম ব্যান্টন (৫ বলে ৪), জো রুট (৭ বলে ৫), হ্যারি ব্রুকরা (৭ বলে ১) কোনো প্রতিরোধই গড়তে পারেননি।
বাকিদের ব্যর্থতার ভীরে আলো ছড়িয়েছেন ওপেনার বেক ডাকেট। উইকেট কামড়ে ধরে একপ্রান্ত আগলে রেখে সেঞ্চুরি তুলে নিয়েছেন তিনি। ইংল্যান্ডকে এনে দিয়েছেন লড়াইয়ের পুঁজি। ১১১ বল খেলে ১০৫ রান লড়াকু ইনিংস খেলেন এই ইংলিশ ওপেনার।
এর বাইরে আর কোনো ব্যাটার হাফসেঞ্চুরিও করতে পারেননি। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৫২ বলে ৪২ রান এসেছে স্যাম কারানের ব্যাট থেকে। আর শেষদিকে ২৮ বলে ৩৬ রানের গুরুত্বপূর্ণ ইনিংস খেলেছিলেন গাস আটকিনসন। এতেই ২৪১ রানের লড়াইয়ের পুঁজি দাঁড় করিয়েছিল ইংল্যান্ড।
পাকিস্তানের হয়ে সর্বোচ্চ ৪ উইকেট শিকার করেছিলেন শাহিন আফ্রিদি। সমান দুটি করে উইকেট পেয়েছিলেন অভিষিক্ত পেসার রেজাউল্লাহ ও স্পিনার আরাফাত মিনহাজ। আর একটি উইকেট নেন হারিস রউফ।