টানা বৃষ্টি ও ভারতের উজান থেকে নেমে আসা ঢলে কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে পদ্মা নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। এতে উপজেলার রামকৃষ্ণপুর ও চিলমারী ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে প্রায় অর্ধলাখ মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। ডুবে গেছে সড়ক ও আবাদি জমি। পানি ঢুকে পড়ায় এসব এলাকার ১৮টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পাঠদান বন্ধ রয়েছে।
রান্নার জায়গা ও চলাচলের পথ তলিয়ে যাওয়ায় চরাঞ্চলের মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। অনেক এলাকায় নৌকা ছাড়া চলাচলের উপায় নেই। ঘরবাড়ি ও বসতভিটার আশপাশে বিষধর সাপের উপদ্রব বেড়ে যাওয়ায় আতঙ্কে রয়েছেন বানভাসি মানুষ। গবাদিপশু নিয়ে বিপাকে পড়েছেন কৃষকরা। দেখা দিয়েছে গোখাদ্য ও বিশুদ্ধ পানির সংকটের আশঙ্কা।
পানিতে তলিয়ে গেছে রোপা আমন, কলা, মরিচসহ বিভিন্ন ফসল। প্রাথমিক হিসাবে প্রায় ৩৫০ হেক্টর ফসলি জমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে অনেক এলাকার যোগাযোগ প্রায় বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। এর মধ্যে নতুন করে চিলমারী ইউনিয়নের উদয়নগরসহ কয়েকটি এলাকায় পদ্মার ভাঙন শুরু হওয়ায় দুর্গত মানুষের উদ্বেগ আরও বেড়েছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সূত্রে জানা গেছে, উজান থেকে ফারাক্কা হয়ে নেমে আসা ঢলের কারণে গত এক সপ্তাহ ধরে পদ্মার পানি দ্রুত বাড়ছে। শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) সকাল ৯টায় হার্ডিঞ্জ ব্রিজ পয়েন্টে পানির উচ্চতা রেকর্ড করা হয়েছে ১৩ দশমিক শূন্য ২ মিটার, যা বিপৎসীমার ৭৮ সেন্টিমিটার নিচে। বৃহস্পতিবার বিকেলে সেখানে পানির উচ্চতা ছিল ১২ দশমিক ৮৮ মিটার। অর্থাৎ ১৮ ঘণ্টায় পানি বেড়েছে ১৪ সেন্টিমিটার।
অন্যদিকে, ভাগজত পয়েন্টে শুক্রবার সকাল ৯টায় পানির উচ্চতা ছিল ১৪ দশমিক ৯০ মিটার, যা বিপৎসীমার ৬২ সেন্টিমিটার নিচে। পাউবো জানিয়েছে, এ পয়েন্টে প্রতিদিন গড়ে ১৫ থেকে ১৭ সেন্টিমিটার করে পানি বাড়ছে।
কুষ্টিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আসফাউদদৌলা বলেন, উজান থেকে নেমে আসা ঢলের কারণে পদ্মার পানি বাড়ছে। তবে আগামী দুই-এক দিনের মধ্যে পানি কমতে শুরু করবে বলে তারা ধারণা করছেন।

উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মুশতাক আহম্মেদ বলেন, শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনায় চিলমারী ও রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়নের ১৮টি প্রাথমিক ও দুটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে শ্রেণি পাঠদান স্থগিত রাখা হয়েছে। তবে বন্যায় গৃহহীন মানুষকে আশ্রয় দেওয়ার জন্য বিদ্যালয় ভবনগুলো খোলা থাকবে।
দৌলতপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অনিন্দ্য গুহ বলেন, বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় উপজেলা প্রশাসন সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে সমন্বয় করে জরুরি ত্রাণ সহায়তা কার্যক্রম চালুর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। ইতোমধ্যে চিলমারী ইউনিয়নের অসহায় ও দুস্থ পরিবারের মধ্যে সীমিত পরিসরে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে।
কুষ্টিয়া-১ (দৌলতপুর) আসনের সংসদ সদস্য রেজা আহমেদ বাচ্চু মোল্লা বলেন, দুটি ইউনিয়নের মানুষ চরম দুর্ভোগে রয়েছেন। পরিস্থিতির ওপর সার্বক্ষণিক নজর রাখা হচ্ছে এবং দুর্গত মানুষের সহায়তায় সরকারের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।