নেপালে বন্যার ১০ দিন পর আটকে পড়া দুইজনকে জীবিত উদ্ধার

ভয়াবহ বন্যার ১০ দিন পর নেপালের উদ্ধারকারীরা একটি সুড়ঙ্গ থেকে এক চীনা নাগরিককে এবং আংশিক নিমজ্জিত একটি বাড়ি থেকে এক নারীকে জীবিত উদ্ধার করেছেন। গত ১০ দিন আগে ঘটা এই প্রলয়ংকরী বন্যার পর থেকে হাজার হাজার নিখোঁজ মানুষের খোঁজে জরুরি উদ্ধারকারী দলগুলো নতুন করে জোরালো অভিযান শুরু করেছে। খবর বার্তা সংস্থা এএফপির।

শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) নেপালের সেনাবাহিনীর এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, সেনাবাহিনী ও বিদেশি বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে গঠিত একটি দল রসুয়া জেলার ‘আপার ট্রিশুলি-১ হাইড্রোপ্রোজেক্ট’-এর ৭৩৮ ফুট ভেতরের একটি টানেল থেকে ওই চীনা নাগরিককে উদ্ধার করে।

সেনাবাহিনীর ফেসবুক পেজে প্রকাশিত একটি ছবিতে দেখা গেছে, লুহাইতাও নামের ওই ব্যক্তিকে ক্যামোফ্লেজ পোশাক পরা দুজন উদ্ধারকারী ধরে রেখেছেন। এ সময় তাকে সতর্ক মনে হলেও তার হাত দুটি ঘন ও ভেজা কাদায় ঢাকা ছিল। সেনাবাহিনী জানিয়েছে, বর্তমানে তার শারীরিক অবস্থা পরীক্ষা করে দেখা হচ্ছে এবং আরও অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

গত ২৬ আগস্ট বিশাল হিমবাহ ও পাথর ধসের পর চিন-নেপাল সীমান্তজুড়ে সুনামির মতো ধেয়ে আসা পানি ও কাদার তীব্র স্রোতে জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের যে শত শত শ্রমিক নিখোঁজ হন, লুহাইতাও তাদেরই একজন ছিলেন।

দিনের শেষভাগে কর্তৃপক্ষ জানায়, নেপালের আর্মড পুলিশ ফোর্সের সদস্যরা নুয়াকোট জেলায় কাদা ও ধ্বংসস্তূপে চাপা পড়া একটি ঘর থেকে চন্দ্রিকা শ্রেষ্ঠা (৬৪) নামে এক নারীকে জীবিত উদ্ধার করেছেন।

এ প্রসঙ্গে পুলিশের ডেপুটি সুপারিনটেনডেন্ট ইকবাল হাওয়ারি বলেন, এলাকাটি পরিষ্কার করার সময় পুলিশের একটি দল তাকে খুঁজে পায়। চিকিৎসার জন্য তাকে আকাশপথে রাজধানী কাঠমান্ডুতে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। পুলিশ ফোর্সের প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা গেছে, উপর থেকে তার ঘরের কিছু অংশ দেখা যাচ্ছে এবং নিচের তলার ঘরগুলো ঘন কাদার নিচে তলিয়ে গেছে।

নেপালের প্রধানমন্ত্রী বলেন্দ্র শাহ বলেছেন, চন্দ্রিকা শ্রেষ্ঠাকে উদ্ধার করার ঘটনাটি পুরো জাতিকে আশার আলো দেখাচ্ছে।

নেপালের জাতীয় দুর্যোগ সংস্থা জানিয়েছে, এ পর্যন্ত নেপালে ১ হাজার ৩৩১টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে, যা তাদের আগের ১ হাজার ৩৪৪ জনের হিসাবের থেকে কিছুটা সংশোধন করা হয়েছে। দেশটিতে এখনো প্রায় ৫ হাজার মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন।

চীনা রাষ্ট্রীয় সংবাদ মাধ্যম জানিয়েছে, তিব্বতে ৩১ জন নিহত এবং ৫৩১ জন নিখোঁজ রয়েছেন।

এর ফলে শত শত পর্যটক ও তীর্থযাত্রীসহ মোট মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৩৬২ জনে এবং নিখোঁজের সংখ্যা ৫ হাজার ৫০০ ছাড়িয়ে গেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *