হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে গতকাল রাতে দুবাই থেকে আগত একটি ফ্লাইটে তল্লাশি করে যাত্রীবিহীন সিটের নিচে কালো স্কচটেপে মোড়ানো ৮০ পিস গোল্ডবার পেল ঢাকা কাস্টমস। এর ওজন ৯৩৩১ গ্রাম; যার বাজারমূল্য ২০ কোটি টাকা। এবিষয়ে শাহজালাল বিমানবন্দর থানায় মামলা দায়েরের করা হয়েছে।
আজ বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. আল আমিন শেখ আজ বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) এ বিষয়টি জানিয়েছেন।
আল আমিন শেখ জানান, ঢাকা কাস্টমস হাউস গতকাল রাত ৯টা ৩৫ মিনিটে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে দুবাই থেকে আগত একটি ফ্লাইটে স্বর্ণ চোরাচালান সংঘটিত হচ্ছে এমন খবর আসে। এর পরিপ্রেক্ষিতে দ্রুত বিমানবন্দরে কাস্টমস হাউস কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা বিমানের অভ্যন্তরে রামেজিং বা বিশেষ তল্লাশি করে। অবশ্য সেই সময় বিমানটি যাত্রীবিহীন অবস্থায় ছিল। পরবর্তীতে যাত্রীবিহীন দুবাইয়ের ফ্লাইটটি রাত ৯টা ৪০ মিনিটে বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার উপস্থিতিতে তল্লাশি করে ১৯এ সিটের নিচে কালো স্কচটেপে মোড়ানো কতিপয় বস্তু পাওয়া যায়। ওই কালো স্কচটেপে মোড়ানো বস্তুগুলো কাস্টমস হলে নিয়ে এসে বিভিন্ন সংস্থার উপস্থিতিতে ইনভেন্ট্রি করে ৮০পিস গোল্ডবার পাওয়া যায়; যার ওজন ৯৩৩১ গ্রাম এবং বাজারমূল্য ২০ কোটি টাকা।
স্বর্ণবারগুলো মালিকবিহীন অবস্থায় পাওয়া যায়। ফ্লাইট দুবাইয়ের সংশ্লিষ্ট এয়ারক্রাফটের সিটের নিচে কালো স্কচটেপে মোড়ানো অবস্থায় অত্যন্ত সুকৌশলে লুকিয়ে স্বর্ণবারগুলো অবৈধভাবে শুল্ক-করাদি ফাঁকি দিয়ে চোরাচালানের উদ্দেশ্যে দেশে আনা হয়; যা পরবর্তীতে যেকোনো পথে বিমানবন্দর সীমানার বাইরে পাচারের আশঙ্কা ছিল। এক্ষেত্রে কাস্টমস হাউসের কর্ম তৎপরতায় স্বর্ণ চোরাচালানটি প্রতিরোধ করা সম্ভব হয়েছে।
অভিযানটি ঢাকা কাস্টমস হাউস এবং বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা যৌথভাবে পরিচালনা করে। জব্দ করা স্বর্ণবারগুলো মূল্যবান হওয়ায় তাৎক্ষণিকভাবে বিমানবন্দর কাস্টমসের গুদামে জমা করা হয়। অখালাসকৃত বা চোরাচালানের অভিযোগে জব্দ ও বাজেয়াপ্তকৃত পণ্যের নিষ্পত্তি পদ্ধতি সংক্রান্ত স্থায়ী আদেশ মোতাবেক মূল্যবান ধাতু হিসেবে স্বর্ণবারগুলো বাংলাদেশ ব্যাংকে জমা দেওয়ার কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। জব্দ বিষয়ে বিমানবন্দর থানায় একটি ফৌজদারি মামলা দায়েরের করা হয়েছে।