গুদামের বেড়া ভেঙে সার লুটের ঘটনায় একতরফা তদন্তের অভিযোগ

কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীর শিলখুড়ি ইউনিয়নের সার ডিলার মেসার্স শাহ আমানত এন্টারপ্রাইজের গুদামের বেড়া ভেঙে সার নিয়ে যাওয়ার ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটি তাদের প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদনে ডিলারের বিরুদ্ধে গাফিলতি, সার ক্রেতাদের রশিদ না দেওয়া ও রেজিস্টারে ঘঁষামাজার অভিযোগ উঠলেও সার লুটের ঘটনায় কাউকেই অভিযুক্ত বা চিহ্নিত করা হয়নি। একতরফা এ তদন্ত প্রতিবেদন নিয়ে জনমনে ব্যাপক ক্ষোভ, সন্দেহ ও নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। অপরদিকে গত বৃহস্পতিবার থেকে ওই ইউনিয়নে সার বিতরণ বন্ধ থাকায় শত শত কৃষকের দুশ্চিন্তা চরম আকার ধারণ করেছে।

গত সোমবার সন্ধ্যায় সহকারী কমিশনার (ভূমি) আমিনুল হক তারেকের নেতৃত্বে গঠিত পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) অমৃত দেবনাথের নিকট প্রতিবেদনটি দাখিল করেন। ইউএনও রাতেই তদন্ত প্রতিবেদনটি কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসকের কাছে পাঠিয়ে দেন।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, বেড়া ভেঙে সার লুটের আগের দিন গত শনিবার শিলখুড়ি ইউনিয়ন কৃষক দলের সদস্য সচিব এনামুল হক তার ফেসবুকে ডিলারদের জবাবদিহিতা সংক্রান্ত একটি স্ট্যাটাস দেন। সেখানে তিনি ডিলারদের নিরপেক্ষ তদন্ত ও জবাবদিহিতার আওতায় আনার কথা এবং খুচরা বিক্রেতাদের কাছে সার বিক্রির বিষয়ে সতর্ক করে সকাল ৯টায় দলীয় নেতাকর্মীদের উপস্থিত থাকতে বলেন। 

অনুসন্ধানে আরও জানা যায়, শিলখুড়ি ইউনিয়ন বিএনপির এক প্রভাবশালী নেতার ভাই সেখানকার বিএডিসি অনুমোদিত সার ডিলার। সেখানকার কতিপয় খুচরা সার বিক্রেতা বিসিআইসি ডিলারের কাছে সার চেয়ে না পাওয়ায় তার ওপর ক্ষুব্ধ ছিলেন।

অন্যদিকে, সার লুটের ঘটনার পর ইউএনওর সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত জরুরি সভায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় নিয়োজিত একজন প্রতিনিধি দাবি করেন, সার বিতরণ কেন্দ্র করে বিশৃঙ্খলা ঘটতে পারে- এমন তথ্য তার কাছে ছিল এবং তিনি একটি টিম প্রস্তুতও রেখেছিলেন। কিন্তু ঘটনা ঘটার আগে কেন উপজেলা প্রশাসন বা কৃষি দপ্তরকে তা জানানো হয়নি, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

মেসার্স শাহ আমানত এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী তাইফুর রহমান মুকুল বলেন, রোববার সার বিতরণের কথা ছিল। কিন্তু তার আগের দিন শনিবার রাতে ইউনিয়ন কৃষক দলের সদস্য সচিবের করা ফেসবুক পোস্টের সঙ্গে রোববার সকালে ডিলার পয়েন্টে পাঁচ শতাধিক মানুষ আসা ও গুদামের বেড়া ভেঙে সার লুটের যোগসূত্র থাকতে পারে। তদন্ত প্রতিবেদনে এসব বিষয় ও বিভিন্ন পক্ষের জড়িত থাকার তথ্য না থাকায় এটি নিয়ে জনমনে সংশয় তৈরি হয়েছে।

এ বিষয়ে উপজেলা কৃষক দলের আহ্বায়ক সুরুজ্জামান বলেন, ইউনিয়ন কৃষক দলের সদস্য সচিবকে ফেসবুক পোস্টের ব্যাপারে সতর্ক করা হয়েছে এবং তিনি পোস্টটি মুছে দিয়েছেন। 

অন্যদিকে তদন্ত কমিটির সভাপতি আমিনুল হক তারেক বলেন, ফেসবুক পোস্টের বিষয়টি তাদের জানা ছিল না। তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন ও স্থানীয় কৃষকদের সঙ্গে কথা বলেই প্রতিবেদন প্রস্তুত করেছেন।

ভূরুঙ্গামারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আজিম উদ্দিন বলেন, সার ডিলার বাদী হয়ে আব্দুল লতিফ নামে এক ব্যক্তির নাম উল্লেখ করে একটি জিডি করেছেন এবং এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) অমৃত দেবনাথ বলেন, ডিলারের বিরুদ্ধে বেশ কিছু অভিযোগ থাকায় তাকে শোকজ করা হয়েছে। তবে গুদামের বেড়া ভেঙে সার নিয়ে যাওয়ার ঘটনায় কাউকে অভিযুক্ত বা চিহ্নিত করা যায়নি বলে তদন্ত প্রতিবেদনটি জেলা প্রশাসকের কাছে পাঠানো হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *