বাবার মরদেহ দাফনের জন্য কবরস্থানের জমি নিয়ে দুই ভাইয়ের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এই ঘটনার পর অসহায় বৃদ্ধা মাকেও বাড়ি থেকে বের করে দিয়েছে তারা। আজ সোমবার (২৪ আগস্ট) সকালে যশোরের কেশবপুর উপজেলার গৌরীঘোনা ইউনিয়নের সন্যাসগাছা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয়রা জানায়, আজ সকালে সন্যাসগাছা গ্রামের বৃদ্ধ আব্দুল খালেক (৭২) মারা যান। তার মৃত্যুর পর সম্পত্তির বিরোধ প্রকাশ্যে রূপ নেয়।
প্রতিবেশীরা জানায়, চার-পাঁচ বছর আগে বড় ভাই মাহাবুর রহমান বসতবাড়ি ও পারিবারিক কবরস্থানসহ সব সম্পত্তি বাবার কাছ থেকে নিজের নামে রেজিস্ট্রি করে নেন এবং আধা কিলোমিটার দূরে নতুন বাড়ি বানিয়ে আলাদা থাকা শুরু করেন। এরপর ছোট ভাই আছাবুর রহমান গ্রাম্য মাতব্বরদের মধ্যস্থতায় সেই পুরোনো বসতবাড়ি ও কবরস্থান বড় ভাইয়ের কাছ থেকে কিনে নিয়ে বসবাস করছিলেন।
জীবনের শেষ দিনগুলোতে অসুস্থ বাবা আব্দুল খালেক বড় ছেলে মাহাবুর রহমানের আশ্রয়েই ছিলেন। আজ সকালে তার মৃত্যুর পর বড় ভাই পুরোনো বাড়ির কবরস্থানে বাবার মরদেহ দাফনের জন্য কবর খুঁড়তে গেলে বাঁধ সাধেন ছোট ভাই আছাবুর। ক্রয় সূত্রে জমির একক মালিকানা দাবি করে দাফনে বাধা দিলে মুহূর্তের মধ্যে দুই ভাই ও তাদের স্বজনরা দেশীয় অস্ত্র ও লাঠিসোঁটা নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এত গুরুতর আহত হন বড় ভাই মাহাবুর রহমান, তার স্ত্রী মমতাজ বেগম ও মেয়ে লিলিমা খাতুন এবং ছোট ভাই আছাবুর রহমান ও তার স্ত্রী হালিমা বেগম। বর্তমানে তারা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
এদিকে সংঘর্ষের পর মাকেও সন্তানরা বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দেন। তিনি গ্রামের অন্য একজনের বাড়িতে আশ্রয় নেন।
ঘটনার খবর পেয়ে কেশবপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) যোগেশ চন্দ মণ্ডলের নেতৃত্বে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
কেশবপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) যোগেশ চন্দ মণ্ডল ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, ঘটনাস্থলে গিয়ে আহতদের উদ্ধার করে দ্রুত চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। পরে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের মধ্যস্থতায় পৈতৃক কবরস্থানেই আব্দুল খালেকের মরদেহ দাফন করা হয়েছে। এ বিষয়ে ভুক্তভোগীদের চিকিৎসা শেষে লিখিত অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও জানান তিনি।