কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতের সুগন্ধা পয়েন্টে প্রভাবশালী এক মন্ত্রীর নাম ব্যবহার করে সরকারি খাসজমি দখলের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। গত শুক্রবার গভীর রাতে সৈকতের প্রবেশপথের ডান পাশে ১০ একরের বেশি জায়গা টিন ও বাঁশের বেড়া দিয়ে ঘিরে ফেলা হয়।
গতকাল শনিবার (১৫ আগস্ট) সন্ধ্যা ৬টার দিকে কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে ঘেরাও করা জায়গার টিন ও বাঁশের বেড়া ভেঙে গুঁড়িয়ে দেয়। পর্যটন সেলের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তানভীর হোসেন সায়েমের নেতৃত্বে এ অভিযান চালানো হয় বলে জানা গেছে।
এ ঘটনায় ওই এলাকায় থাকা দুই শতাধিক ভাসমান দোকানের হকারদের সরিয়ে দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে।
স্থানীয় হকারদের অভিযোগ, রাতের মধ্যে দোকান সরিয়ে নেওয়ার জন্য তাদের চাপ দেওয়া হয়। এ সময় জায়গা ছাড়তে মন্ত্রীর নাম ব্যবহার করা হয়েছিল বলেও দাবি করে তারা।
স্থানীয়রা জানায়, গত শুক্রবার মধ্যরাতে ৩০ থেকে ৪০ শ্রমিক সেখানে গিয়ে দ্রুত বেড়া নির্মাণ করে। শ্রমিকরা জানায়, এক মন্ত্রীর ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিরা জায়গাটি ঘিরে দিয়েছে। তবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কারও নাম তারা প্রকাশ করেনি।
হকারদের দাবি, বেড়া দেওয়ার আগে ওই এলাকায় দুই শতাধিক ভাসমান দোকান ছিল। রাতেই তাদের দোকান সরিয়ে নিতে বলা হয়। এ নিয়ে কয়েকজন হকারের সঙ্গে শ্রমিকদের কথা-কাটাকাটিও হয়। পরে বিষয়টি প্রকাশ্যে এলে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে ক্ষুব্ধ হকাররা টিনের বেড়ার একটি অংশ ভাঙচুর করে।
যে মন্ত্রীর নাম ব্যবহার করে জমি দখলের অভিযোগ তার পিএস হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, ‘স্যারের নাম ব্যবহার করার কোনো সুযোগ নেই। কেউ যদি তার নাম ব্যবহার করে থাকে এবং জায়গাটি খাসজমি হয়, তাহলে জেলা প্রশাসন ব্যবস্থা নেবে। আর জায়গাটি ব্যক্তিমালিকানাধীন হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি থানায় অভিযোগ করে আইনগত ব্যবস্থা নিতে পারবেন।’
জেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি শাহাদাত হোসেন রিপন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জমি ঘেরাওয়ের ছবি প্রকাশ করে দাবি করেন, মন্ত্রীর নাম ব্যবহার করে এস আলম গ্রুপের একটি প্লটও ঘিরে ফেলা হয়েছে। একই সঙ্গে সরকারি রাজস্ব দেওয়া অস্থায়ী কার্ডধারীদের দোকান করতে না দেওয়ার বিষয়টিও তুলে ধরেন তিনি।
শাহাদাত হোসেন রিপন প্রশ্ন তোলেন, মন্ত্রী নিজে এসবের সঙ্গে জড়িত কি না, নাকি তার নাম ব্যবহার করে অন্য কেউ এসব কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছে।
বিএনপির মিডিয়া সেলের জেলা প্রতিনিধি আলমগীর চৌধুরীও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ ঘটনায় প্রশ্ন তুলেছেন।
জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট শামীম আরা স্বপ্না বলেন, তিনি জেলার বাইরে আছেন এবং বিভিন্ন মাধ্যমে বিষয়টি শুনেছেন। বিষয়টি মন্ত্রীকে অবহিত করার জন্য সাংবাদিকদের অনুরোধ করেন তিনি।
জেলা প্রশাসনের পর্যটন সেলের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তানভীর হোসেন সায়েম বলেন, সরকারি জায়গা অবৈধভাবে দখলের ঘটনায় একজনকে শনাক্ত করা হয়েছে। জায়গাটির মালিকানা বা বৈধ ইজারার কোনো নথি থাকলে তা জেলা প্রশাসক অথবা অতিরিক্ত জেলা প্রশাসকের (রাজস্ব) কাছে উপস্থাপনের জন্য বলা হয়েছিল।
নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আরও বলেন, সরকারি জমি দখল বা ঘেরাও করার অনুমতি প্রশাসনের পক্ষ থেকে কাউকে দেওয়া হয়নি। অবৈধ টিনের বেড়া ও স্থাপনা সরিয়ে নিতে সময় দেওয়া হয়েছিল। পরে নির্দেশনা অনুযায়ী জেলা প্রশাসনের টিম ঘটনাস্থলে গিয়ে বেড়া অপসারণ করে।
জেলা প্রশাসক আ. মান্নান জানান, বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অবৈধ দখলে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানান তিনি।