সাম্প্রতিক সময়ে ফর্মের তুঙ্গে ছিলেন পেসার নাহিদ রানা। কিন্তু চোটের কারণে ডারউইন টেস্টে ছিলেন না তিনি। সেই অভাব অনূভব করতে দেননি হাসান মাহমুদ। দারুণ বোলিংয়ে আলো কেড়েছেন তিনি। বাংলাদেশ যে অস্ট্রেলিয়াকে হারাতে পারে, এই আত্মবিশ্বাসটা প্রথম তৈরি করেছিলেন হাসান।
দুর্দান্ত বোলিংয়ে প্রথম ইনিংসে অস্ট্রেলিয়াকে প্রথম ইনিংসে আটকে দেন মোটে ১৯৮ রানে। একাই ৬ উইকেট শিকার করে অসিদের ব্যাটিং লাইনআপের কোমর ভেঙে দেন এই পেসার। সবমিলিয়ে ৫৫ রান খরচায় ৬ উইকেট নিয়ে টাইগারদের হয়ে অসিদের বিপক্ষে সেরা টেস্ট বোলিংয়ের নতুন রেকর্ড গড়েন হাসান।
এরপর দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নেমেও স্বাগতিক ব্যাটারা হাসানের তোপের মুখে পড়েন। ইনিংসের শুরুতেই দুই ওপেনারকে সাজঘরে পাঠান তিনি। এরপর যখন দলের বিপর্যয় সামাল দেওয়ার চেষ্টা করছিলেন ক্যামেরন গ্রিন, তাকেও ফিরিয়ে স্বস্তি এনে দেন এই পেসার। পুরো ম্যাচে ১১১ রান খরচ করে মোট ৯ উইকেট শিকার করে ম্যাচসেরার পুরস্কার নিজের করে নিয়েছেন হাসান।
ম্যাচ শেষে সাফল্যের পেছনের গল্প বলতে গিয়ে হাসান মাহমুদ জানান, অনুশীলনে প্রতিটি মুহূর্ত কতটা গুরুত্ব দিয়ে কাজ করেছেন তারা। তিনি বলেন, ‘ম্যাচের আগের অনুশীলন সেশনে আমরা প্রতিটি সেকেন্ডে নিজেদের সর্বোচ্চটা দিয়ে চেষ্টা করেছি। ফল কী হবে, তা নিয়ে না ভেবে আমরা শুধু নিজেদের ওপর বিশ্বাস রেখেছিলাম।’
অস্ট্রেলিয়ার শক্তিশালী ব্যাটিং লাইনআপের বিপক্ষে সাফল্যের কৌশল নিয়ে হাসান বলেন, ‘কোচদের সঙ্গে বসে আমাদের সুনির্দিষ্ট কিছু দলীয় পরিকল্পনা ছিল। আমরা প্রতিপক্ষের ভিডিও বিশ্লেষণ করে নিজেদের হোমওয়ার্ক সেরেছিলাম এবং মাঠে নেমে ঠিক সেটাই নিখুঁতভাবে বাস্তবায়ন করেছি। মূলত এই পরিকল্পনাগুলোই মাঠে ব্যবধান গড়ে দিয়েছে।’
দীর্ঘ ২৩ বছর পর অস্ট্রেলিয়ায় টেস্ট খেলতে গিয়েছে বাংলাদেশ। তাই ডারউইনের কন্ডিশনও অচেনা। সেখানেও নিজেদের সাফল্যের মূল্যায়ন করতে গিয়ে হাসান বলেন, ‘আমাদের বোলাররা পুরো সময় জুড়ে দারুণ ধৈর্য দেখিয়েছে। সবাই সঠিক লাইন ও লেংথ বজায় রেখে বল করে গেছে, আর তার সুফলও আমরা হাতেনাতে পেয়েছি।’
দেশের মানুষের ভালোবাসার কথা স্মরণ করে হাসান আরও বলেন, ‘বাংলাদেশে আমার পরিবার, বন্ধু-বান্ধব ও দেশের সব মানুষ আমাদের এই পারফরম্যান্স দেখে নিশ্চয়ই অনেক আনন্দিত হয়েছেন। আমি বুঝতে পারছি তারা এখন এই মুহূর্তটি কীভাবে উদযাপন করছেন। দেশের মানুষের এই ভালোবাসা আমার কাছে অনেক বড় পাওয়া।’