দীর্ঘ ২৩ বছর পর অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে গিয়ে বাংলাদেশ দল টেস্টে ইতিহাস গড়বে—এমন বিশ্বাস করা মানুষ খুঁজে পাওয়াই ছিল কঠিন। তবে নিজের ওপর ও দলের সামর্থ্য নিয়ে শতভাগ আস্থা ছিল অলরাউন্ডার মেহেদী হাসান মিরাজের। প্রস্তুতি ম্যাচের ব্যর্থতা ভুলে অসিদের মাটিতে টেস্ট জয়ের বিশ্বাস নিয়েই দল মাঠে নেমেছিল বলে জানিয়েছেন তিনি।
ম্যাচ শেষে পুরস্কার বিতরণী মঞ্চে নিজের অনুভূতি প্রকাশ করে মিরাজ বলেন, ‘আমরা চমৎকার ক্রিকেট খেলেছি। অনেক দিন পর আমরা এখানে এলাম। দলের অসাধারণ পারফরম্যান্স ছিল, যা আমাদের চরিত্র ফুটিয়ে তুলেছে।’
মূল সিরিজ শুরুর আগে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া একাদশের বিপক্ষে একটি তিনদিনের প্রস্তুতি ম্যাচ খেলেছিল বাংলাদেশ। সেখানে প্রথম ইনিংসে দলের বিপর্যয়ের মুখে হাল ধরে দারুণ এক সেঞ্চুরি হাঁকিয়েছিলেন মিরাজ। তবে দ্বিতীয় ইনিংসে তিনিও পারেননি, দলও পারেনি। মাত্র ৫৪ রানে অলআউট হয়েছিল টাইগাররা। সেই হারের পরও দলের মানসিক শক্তিতে কোনো ঘাটতি পড়েনি বলে জানালেন মিরাজ।
এই বিষয়ে মিরাজ বলেন, ‘আমাদের সেই বিশ্বাসটা ছিল। আমরা ভালো করেই জানতাম অস্ট্রেলিয়া বিশ্বমানের দল এবং তাদের স্কোয়াডে অনেক নামী খেলোয়াড় রয়েছে। তবে আমরা এও জানতাম, তাদের বিপক্ষে জয় পেলে তা হবে আমাদের দেশের ক্রিকেটের জন্য বিশাল এক অর্জন। ড্রেসিংরুমের পরিষ্কার বার্তা ছিল—নিজের ওপর বিশ্বাস রাখতে হবে, নয়তো অসম্ভবকে সম্ভব করা যাবে না।’
বাংলাদেশের এই জয়ে এককভাবে কাউকে কৃতিত্ব দেওয়া যাবে না। প্রতিটি দিন নতুন নতুন নায়ক পেয়েছে বাংলাদেশ। প্রথম দিন বলহাতে বাংলাদেশের নায়ক ছিলেন হাসান মাহমুদ। দ্বিতীয় দিন সেই দায়িত্ব নেন তানজিদ হাসান তামিম। তৃতীয় দিন সেভাবে কাউকে খুঁজে পাওয়া না গেলেও চতুর্থ দিনের নায়ক মিরাজ। ফলে বলা যায়, সম্মিলিত পারফরম্যান্সেই জয় পেয়েছে বাংলাদেশ।
দলের এমন পারফরম্যান্সের প্রশংসা করে মিরাজ বলেন, ‘আমরা সঠিক সময়ে ভালো ব্যাটিং ও বোলিং করেছি। প্রথম ইনিংসে তানজিদ তামিম যেভাবে ব্যাট করেছে, শান্ত ও মুমিনুল খুব ভালো করেছে, আর তারপর নিচের সারির ব্যাটারদের সাথে চমৎকার জুটি আমাকে সাহায্য করেছে। ওরা আউট হয়ে গেলে আমি রানগুলো করতে পারতাম না। ওরা ক্রিজে টিকে ছিল বলেই আমি সেটা করতে পেরেছি। আমি ওদের বলেছিলাম, ‘তোমার সামনে কে বল করছে তা নিয়ে ভাববে না।’”