অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম টেস্টে মাঠে নামার আগে একটি তিনদিনের প্রস্তুতি ম্যাচ খেলেছিল বাংলাদেশ। ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া একাদশের বিপক্ষে মাত্র ৫৪ রানেই অলআউট হয়েছিল নাজমুল হোসেন শান্তরা। বোলিংয়েও দেখা মেলেনি ভালো কিছুর। এমন পারফরম্যান্সের পর সংবাদ সম্মেলনে প্রশ্ন হয়েছিল, ২ নাকি ৩ দিনে শেষ হবে ডারউইন টেস্ট। অর্থাৎ ২ বা ৩ দিনেই হেরে যাবে বাংলাদেশ।
প্রস্তুতি ম্যাচের সেই পারফরম্যান্সের পর প্রবল সমালোচনার মুখেও পড়েছিল বাংলাদেশ। সেই সমালোচনাকেই যেন ঘুরে দাঁড়ানোর জ্বালানি বানাল বাংলাদেশ। জবাব দিল মাঠের পারফরম্যান্স দিয়ে।
ডারউইনে চারদিনে মোট ১১ সেশন খেলা হয়েছে। এরমধ্যে প্রায় ৭টি সেশনে ব্যাট করেছে বাংলাদেশ। আর বাকি ৪ সেশনে বোলিং করেছে। কিন্তু এই ১১ সেশনের একটি সেশনেও বাংলাদেশকে পেছনে ফেলতে পারেনি স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়া। প্রতিটি সেশনেই অসিদের ওপর ডমিনেট করেছে বাংলাদেশ।
প্রথম দিনের প্রথম দুই সেশনে বোলিংয়ে দাপট দেখিয়েছে বাংলাদেশ। হাসান মাহমুদের বুদ্ধিদীপ্ত বোলিংয়ে চোখে সরষে ফুল দেখেছে অসি ব্যাটাররা। এরপর দিনের সেশনে বাংলাদেশ দাপট দেখিয়েছে ব্যাটিংয়ে।
দ্বিতীয় দিনের তিন সেশনেই বাংলাদেশের ব্যাটারদের কাছে অসহায় হয়ে পড়েছিল অস্ট্রেলিয়ার বোলাররা। হতাশার চরম পর্যায় দেখা গেছে মিচেল স্টার্ক, জস হ্যাজলউড, প্যাট কামিন্সদের। বিশেষ করে তৃতীয় সেশনে যেভাবে টেলএন্ডার ব্যাটাররা ব্যাট করেছে, সেটি হতাশার পর্যায় ছিল।
এরপর তৃতীয় দিনের প্রথম সেশনও ব্যাটিংয়ে ডমিনেট করেছে বাংলাদেশ। দ্বিতীয় সেশনে থেকে আবারও শুরু হয় বাংলাদেশের বোলিং জাদু। তৃতীয় সেশনেও সেটি অব্যাহত থাকে।
আর আজ চতুর্থ দিনের দুই সেশনে তো বাংলাদেশের সামনে সেভাবে দাঁড়াতেই পারেনি বাংলাদেশ। প্রথম সেশনে বোলিংয়ে মিরাজের স্পিন জাদু। এরপর দ্বিতীয় সেশনে প্রথমে ব্যাটিং পরে সাদমান ইসলাম, মুমিনুল হকদের ব্যাটিং। সবমিলিয়ে ডারউইনে চারদিনের ১১ সেশনের সবগুলোই বাংলাদেশের।