যুক্তরাষ্ট্রের দাবানলে দমকলকর্মী আটকা পড়ার ঘটনা ২০ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ 

যুক্তরাষ্ট্রে ভয়াবহ দাবানলের মধ্যে দমকল কর্মীদের আটকে পড়ার ঘটনা ২০ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। চলতি বছর এখন পর্যন্ত এমন ১২টি ঘটনা ঘটেছে, যাতে ছয়জন দমকল কর্মী নিহত এবং বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন।

ফেডারেল সংস্থা ওয়াইল্ড ফায়ার লেসন্স লার্নড সেন্টারের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালে এখন পর্যন্ত ১২টি আটকে পড়ার ঘটনা ঘটেছে। গত ২০ বছরে এমন ঘটনার গড় ছিল ৯টি। ২০০৬ সালের পর চলতি বছরের এই সময় পর্যন্ত এটিই সর্বোচ্চ সংখ্যা। খবর রয়টার্সের।

দমকল কর্মীদের আটকে পড়া বলতে এমন জীবন-হুমকিপূর্ণ পরিস্থিতিকে বোঝায়, যখন দাবানলে দমকল কর্মীদের পালানোর পথ বা নিরাপদ এলাকায় পৌঁছানোর সুযোগ নষ্ট করে দেয়।

যুক্তরাষ্ট্রে চলতি বছর এখন পর্যন্ত প্রায় ৬৪ লাখ একর জমি দাবানলে পুড়েছে—১২ আগস্ট পর্যন্ত এটি রেকর্ড সর্বোচ্চ। একই সময়ে ৪৬ হাজার ৫০০-এর বেশি দাবানল মোকাবিলা করতে হয়েছে দমকল কর্মীদের, যা এক দশকেরও বেশি সময়ের মধ্যে সর্বোচ্চ।

ঐতিহাসিকভাবে কম শীতকালীন তুষারপাত, রেকর্ড তাপমাত্রা এবং পশ্চিমাঞ্চলে দীর্ঘস্থায়ী খরার কারণে এ বছর দাবানলের পরিস্থিতি অত্যন্ত ভয়াবহ হয়ে উঠেছে।

সাতজন বর্তমান ও সাবেক দমকল কর্মী রয়টার্সকে জানিয়েছেন, ট্রাম্প প্রশাসনের দ্রুততম সময়ে সব দাবানল নিয়ন্ত্রণের নীতি দমকল কর্মীদের অস্বাভাবিক ঝুঁকি নিতে বাধ্য করছে কি না, তা নিয়ে তারা উদ্বিগ্ন।

কৃষিমন্ত্রী ব্রুক রোলিন্স এপ্রিল মাসে কর্মীদের দেওয়া এক চিঠিতে দ্রুত প্রাথমিক আক্রমণ এবংপূর্ণ দমন কৌশল ব্যবহারের ওপর জোর দিয়েছিলেন।

তবে দমকল কর্মীদের অধিকার নিয়ে কাজ করা সংগঠন গ্রাসরুট ওয়াইল্ডল্যান্ড ফায়ারফাইটারসের প্রেসিডেন্ট রিভা ডানকান বলেন, প্রচণ্ড শুষ্কতা ও শক্তিশালী বাতাসের মতো পরিস্থিতিতে প্রতিটি আগুনের সামনে সরাসরি কর্মীদের পাঠানো সবসময় নিরাপদ বা উপযুক্ত নয়।

চলতি বছরের প্রায় এক-চতুর্থাংশ আটকে পড়ার ঘটনায় হেলিকপ্টার থেকে আগুনের কাছে নামানো হেলিট্যাক ক্রু জড়িত ছিলেন।

সবচেয়ে প্রাণঘাতী ঘটনা ঘটে ২৭ জুন কলোরাডোর নোলস ফায়ারে। সেখানে চারজন হেলিট্যাক ফায়ারফাইটার নিহত এবং একজন গুরুতর দগ্ধ হন। এটি ১৩ বছরের মধ্যে সবচেয়ে প্রাণঘাতী আটকে পড়ার ঘটনা।

ওয়াশিংটনে কয়েকটি ঘটনায় দমকল কর্মীদের আগুনে আক্রান্ত গাড়ি ছেড়ে পালাতে হয়েছে। ওয়াশিংটন ও ওরেগনেও বুলডোজার চালকরা আগুনের মধ্যে আটকা পড়েন।

যুক্তরাষ্ট্রে প্রতি বছর গড়ে প্রায় ১৭ জন বন্যভূমি দমকল কর্মী নিহত হন। এর মধ্যে প্রায় চারজনের মৃত্যু সাধারণত আটকে পড়ার কারণে ঘটে।

কিন্তু ২০২৬ সালে এখন পর্যন্ত দাবানল মোকাবিলায় নিহত ১৩ জনের মধ্যে ছয়জনই আটকে পড়ার শিকার হয়েছেন।

সাবেক মার্কিন বন পরিষেবা কর্মকর্তা স্কট ফিটজউইলিয়ামস বলেন, সব দাবানল দ্রুত নিভিয়ে ফেলার ওপর অতিরিক্ত চাপ দমকল কর্মীদের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে এবং অতীতের ব্যর্থ নীতির দিকে ফিরে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি করছে।

তার দাবি, ২০২৫ সালে ফেডারেল সরকারের কর্মী সংকোচনের সময় ৬ হাজারের বেশি মার্কিন বন পরিষেবা পদ বিলুপ্ত হওয়ায় ১১ হাজার ৩০০ দমকল কর্মীর সহায়ক কাঠামো দুর্বল হয়েছে এবং কর্মীদের ক্লান্তিও বেড়েছে।

এদিকে নতুন গঠিত মার্কিন বন পরিষেবা জানিয়েছে, আটকে পড়ার ঘটনাগুলো পর্যালোচনা করে দমকল কর্মীদের নিরাপত্তা আরও উন্নত করার উপায় খোঁজা হচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *