হরমুজ প্রণালি পুনরায় বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য খুলে দেওয়ার সম্ভাবনা এবং বড় বড় করপোরেট প্রতিষ্ঠানের শক্তিশালী আয় প্রতিবেদনের জেরে নতুন ইতিহাস গড়েছে যুক্তরাষ্ট্রের শেয়ারবাজার।
স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) লেনদেন শেষে এসঅ্যান্ডপি ৫০০ সূচক প্রথমবারের মতো সাত হাজার ৭০০ পয়েন্ট অতিক্রম করে সর্বকালের সর্বোচ্চ অবস্থানে পৌঁছেছে। সূচকটি ১ দশমিক ৮ শতাংশ বেড়ে আগের রেকর্ড সাত হাজার ৬২০ দশমিক ৯০ পয়েন্টকে ছাড়িয়ে যায়। চলতি বছরে সূচকটির প্রবৃদ্ধি দাঁড়িয়েছে ১২ দশমিক ৮ শতাংশ, যা দীর্ঘমেয়াদি গড় প্রবৃদ্ধির চেয়েও বেশি। খবর আল জাজিরার।
একই দিনে ডাও জোন্স ইন্ডাস্ট্রিয়াল অ্যাভারেজ টানা দ্বিতীয় দিনের মতো নতুন রেকর্ড গড়ে ১ দশমিক ৭ শতাংশ বেড়ে ৫৪ হাজার ৮৫ দশমিক ৮৮ পয়েন্টে পৌঁছায়।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা খাতের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত ডেটা অ্যানালিটিকস প্রতিষ্ঠান প্যালান্টিয়ার টেকনোলজিসের শেয়ার একদিনেই ২৯ দশমিক ৫ শতাংশ বেড়েছে।
দ্বিতীয় প্রান্তিকে প্রতিষ্ঠানটি এক দশমিক ৯৪ বিলিয়ন ডলার রাজস্ব অর্জনের পূর্বাভাস দিয়ে বাজারকে চমকে দেয়, যা বিনিয়োগকারীদের মধ্যে ব্যাপক ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে।
ওয়াল স্ট্রিটের এই উত্থানের প্রভাব এশিয়ার বাজারেও দেখা গেছে।
আজ বুধবার (৫ আগস্ট) সকালে জাপানের নিক্কেই ২২৫ সূচক প্রায় ৩ শতাংশ এবং দক্ষিণ কোরিয়ার কসপি সূচক ৪ দশমিক ৬ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে যায়।
শেয়ারবাজারে আশাবাদের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামও কমেছে।
বিশ্ববাজারের মানদণ্ড ব্রেন্ট ক্রুড মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) প্রায় ৫ শতাংশ কমার পর বুধবারও (৫ আগস্ট) কিছুটা নিম্নমুখী ছিল। অক্টোবর ডেলিভারির জন্য ব্রেন্ট ক্রুডের দাম প্রতি ব্যারেল ৭৯ দশমিক ১১ ডলারে নেমে আসে, যা আগের সপ্তাহের তুলনায় প্রায় ১৩ শতাংশ কম।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান—উভয় পক্ষই ওমানের মধ্যস্থতায় চলমান আলোচনায় অগ্রগতির ইঙ্গিত দিয়েছে।
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেন, এখনও চূড়ান্ত সমঝোতা না হলেও খুব শিগগিরই একটি চুক্তি হতে পারে বলে তিনি আশা করছেন।
অন্যদিকে মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট জানান, হরমুজ প্রণালি নিয়ে সমঝোতা মঙ্গলবার অথবা বুধবারের মধ্যেই হতে পারে।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাইও ওমানের সঙ্গে নিরাপদ নৌপথ নির্ধারণ বিষয়ে আলোচনা ইতিবাচক হয়েছে বলে জানিয়েছেন।
ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনা এবং ইরানের ওপর আরোপিত মার্কিন নৌ অবরোধের কারণে হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল এখনও স্বাভাবিক হয়নি।
জাহাজ পর্যবেক্ষণকারী প্ল্যাটফর্ম মেরিন ট্র্যাফিকের তথ্য অনুযায়ী, রোববার মাত্র ৯টি জাহাজ হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করেছে। যুদ্ধ শুরুর আগে যেখানে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১৩০টি জাহাজ এই পথ ব্যবহার করত।
তবে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) দাবি করেছে, হরমুজ প্রণালি বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য উন্মুক্ত রয়েছে এবং গত তিন মাসে মার্কিন বাহিনীর সহায়তায় এক হাজারের বেশি জাহাজ নিরাপদে প্রণালিটি অতিক্রম করেছে।