ময়মনসিংহের ফুলবাড়ীয়া উপজেলায় নিখোঁজের ১০ দিন পর কাস্টমস হাউসে কর্মরত আবু রায়হান তালুকদার (৪০) নামে এক ব্যক্তির ১৫ টুকরা করা মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বাড়ির পাশের একটি পুকুরে ভাসতে থাকা তিনটি ব্যাগ ও একটি কাপড়ের পোটলা থেকে আজ রোববার (২ আগস্ট) বেলা আড়াইটার দিকে মরদেহের খণ্ডিত অংশগুলো উদ্ধার করা হয়।
নিহত আবু রায়হান তালুকদার উপজেলার এনায়েতপুর ইউনিয়নের সোয়াইতপুর উত্তরপাড়ার বাসিন্দা। তিনি কমলাপুর কাস্টমস হাউসে সিপাহি পদে কর্মরত ছিলেন।
ফুলবাড়ীয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাশেদুল হাসান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
স্বজনদের উদ্ধৃতি দিয়ে পুলিশ জানায়, ২৩ জুলাই রাতে ঢাকা থেকে বাড়িতে আসেন আবু রায়হান। পরের দিন শুক্রবার কর্মস্থলে ফেরার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হন তিনি।
পরিবারের দাবি, কেয়ারটেকার রাজু ও তার বন্ধু জিতুল তাকে এগিয়ে দেওয়ার কথা বলে সঙ্গে নিয়ে যান। এরপর থেকেই তিনি নিখোঁজ ছিলেন।
দুই দিন পর কর্মস্থল থেকে সহকর্মীরা পরিবারের সদস্যদের জানান, আবু রায়হান অফিসে যোগ দেননি। তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনও বন্ধ পাওয়া যায়। অনেক খোঁজাখুঁজির পরও সন্ধান না মেলায় ২৭ জুলাই তার বড় ভাই মো. নূরুল ইসলাম ফুলবাড়ীয়া থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।
নিহত বাবুর স্বজনদের অভিযোগ, রায়হান নিখোঁজ হওয়ার পর থেকেই কেয়ারটেকার রাজু ও তার বন্ধু জিতুল আত্মগোপনে রয়েছেন। তারা দুজনই এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকতে পারেন বলে পরিবারের সন্দেহ।
ঢাকায় চাকরি করলেও বৃদ্ধ মাকে দেখতে প্রায় প্রতি সপ্তাহেই গ্রামের বাড়িতে আসতেন রায়হান। রাজু নামে এক কিশোরকে তিনি বাড়িতে রেখে মায়ের দেখাশোনার দায়িত্ব দিয়েছিলেন। এ জন্য তার লেখাপড়ার খরচ ও মাসিক ভাতাও বহন করতেন।
আজ সকালে বাড়ির পাশের পুকুরে তিনটি ব্যাগ ও একটি কাপড়ের পোটলা ভাসতে দেখে স্থানীয়দের সন্দেহ হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পোটলাগুলো উদ্ধার করে। খুলে দেখা যায়, তিনটি পোটলার ভেতরে ১৫ টুকরো করা মরদেহের খণ্ডিত অংশ।
এর আগে গত শুক্রবার উপজেলার অনন্তপুর এলাকার বাজুয়া নদী থেকে ডুবুরি দল আবু রায়হানের ব্যবহৃত একটি চাবির রিং উদ্ধার করেছিল।
ফুলবাড়ীয়া থানার ওসি রাশেদুল হাসান বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, হত্যার পর মরদেহ ১৫ টুকরো করে ব্যাগ ও কাপড়ের পোটলায় ভরে পুকুরে ফেলে রাখা হয়েছিল। কয়েক দিন পানিতে থাকায় পচে ভেসে উঠেছে। মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে।
ওসি বলেন, অভিযুক্তদের বিষয়ে খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে। প্রকৃত খুনিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।