চিকিৎসক রোকসানা হত্যা : স্বামীকে ৭ দিনের রিমান্ডে নিতে আবেদন

রাজধানীর দক্ষিণখানের ফায়দাবাদ এলাকায় দিনের বেলায় বাসার গ্রিল কেটে ঢুকে সারা রোকসানা পিনু নামের এক নারী চিকিৎসককে শ্বাসরোধে হত্যার অভিযোগে স্বামী সোহেল রানাকে সাত দিন রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করা হয়েছে।

আজ শনিবার (১ আগস্ট) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট হাসান শাহাদাতের আদালতে এ আবেদন করে পুলিশ। আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বিচারক আগামী সোমবার রিমান্ড শুনানির দিন নির্ধারণ করেন এবং আসামিকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) অপরাধ-তথ্য ও প্রসিকিউশন বিভাগের উপপরিদর্শক (এসআই) আবু বক্কর সিদ্দিক বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

এসআই আবু বক্কর সিদ্দিক বলেন, মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই হাবিবুর রহমান রিমান্ডের আবেদনে বলেন, ঘটনায় জড়িত থাকার সন্দেহে নিহত নারীর স্বামী সোহেল রানাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। খুনের কারণ এখনও শনাক্ত করা যায়নি। আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে খুনের কারণ জানা যাবে।

এসআই আবু বক্কর সিদ্দিক জানান, জুতার ছাপের মিল পাওয়াসহ ৯ কারণ দেখিয়ে সোহেল রানাকে রিমান্ডে নিতে আবেদন করা হয়। কারণগুলো হলো—

চিকিৎসক সারা রোকসানা পিনু হত্যা মামলায় ঘটনার সময় বলা হয়েছে বেলা ১১টা ২০ মিনিট থেকে বিকেল ৩টা। যে জানালার গ্রিল কাটা অবস্থায় পাওয়া যায়, সেটি অন্য একটি ছাদের লাগোয়া। ওই ছাদ বেশ প্রশস্ত ও খোলা এবং এর চারপাশে অনেক বহুতল ভবনের জানালা, বারান্দা ও রান্নাঘর দৃশ্যমান। ওই সময়ে দিনের আলো ছিল। আশপাশের বাড়িতে জিজ্ঞাসা করে জানা যায়, কেউ ওই সময়ে ঘটনাস্থলের জানালার পাশে কোনো ব্যক্তিকে গ্রিল কাটতে দেখেননি বা গ্রিল কাটার শব্দ পাননি।

যে জানালাটি কাটা হয়েছে, তার ভেতরের অংশের বারান্দায় একটি জুতার ছাপ পাওয়া যায় এবং নিহত নারীর বাসায় পাওয়া একজোড়া জুতার ছাপের সঙ্গে তার মিল খুঁজে পান সিআইডির সদস্যরা। ওই জুতা সোহেল রানা নিজের বলে স্বীকার করে। তবে জানালার গ্রিলের বাইরের অংশের ছাদে কোনো জুতা বা পায়ের ছাপ পাওয়া যায়নি।

নিহতের মেয়ে হাসিন ওয়ামীর ভাষ্য, তার মা প্রতিদিন স্কুলে যাওয়ার সময় বিছানা থেকে উঠে তার ইউনিফর্মের দিকে তাকাত এবং তারপর ভেতর থেকে দরজা লাগিয়ে আবার বিছানায় ঘুমাতে যেত। কিন্তু ঘটনার দিন তার মা বিছানা থেকে ওঠেনি। তার বাবা তাকে বলেছিল, তার মা পরে উঠে দরজা লাগিয়ে দেবে। সেদিন স্কুলে যাওয়ার আগে ওয়ামী তার মায়ের কোনো নড়াচড়া বা কথা বলতে শোনেনি বা দেখতে পায়নি।

ওয়ামী যখন স্কুল থেকে ফিরে বাবাকে ঘটনার কথা জানায় এবং তার বাবা কর্মস্থল থেকে বাসায় ফিরে চিকিৎসা দেওয়ার তৎপরতা দেখাননি, যা সন্দেহজনক।

জিজ্ঞাসাবাদে সোহেল রানা তার স্ত্রীর প্রতি চরম অসন্তোষ প্রকাশ করেন।

মামলার এজাহার থেকে জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার বেলা ১১টা ২০ মিনিটের দিকে সোহেল রানা পিনুকে একা বাসায় রেখে মেয়েকে স্কুলে পৌঁছে দিয়ে অফিসে যায়। কেউ আনতে না যাওয়ায় বিকেলে ওয়ামী বাসায় চলে আসে। বাসায় এসে দেখে ঘরের দরজা খোলা, তবে চাপানো। ওয়ামী দেখতে পায় তার মা খাটের উপর চিৎ হয়ে শুয়ে আছে। তার মুখের উপর বালিশ রাখা। মাকে ডাকাডাকি করে। কোনো শব্দ না পেয়ে মুখের উপর থেকে বালিশ সরিয়ে দেয় ওয়ামী। মায়ের হাত-পা ঠান্ডা ও শ্বাস বন্ধ আছে বুঝতে পেরে সে বাসা থেকে স্কুলে যায়। প্রিন্সিপালের মোবাইল ফোন থেকে তার বাবাকে ঘটনা জানায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *