অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টেস্টের দল ঘোষণার পর সবচেয়ে বেশি আলোচনা হচ্ছে সৌম্য সরকারের প্রত্যাবর্তন নিয়ে। প্রায় পাঁচ বছর পর টেস্ট দলে ফিরেছেন এই বাঁহাতি ব্যাটার। একই সঙ্গে স্কোয়াডে জায়গা হয়নি তাওহীদ হৃদয়, মাহমুদুল হাসান জয় ও মাহিদুল ইসলামের। দল ঘোষণার পর এসব সিদ্ধান্তের পেছনের কারণ তুলে ধরেছেন প্রধান নির্বাচক হাবিবুল বাশার।
রোববার ঘোষিত বাংলাদেশ দলে অধিনায়ক হিসেবে আছেন নাজমুল হোসেন শান্ত, আর সহ-অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ। তবে দল চূড়ান্ত করার পথে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ছিল একের পর এক চোট। হাবিবুল বাশার সুমনের মতে, ইনজুরির কারণে পরিকল্পনায় বেশ কয়েকবার পরিবর্তন আনতে হয়েছে নির্বাচকদের। একই সময়ে দক্ষিণ আফ্রিকা ইমার্জিং দলের বিপক্ষে বাংলাদেশ ‘এ’ দলের চার দিনের সিরিজও ছিল তাদের বিবেচনায়।
মাহমুদুল হাসান জয়ের জায়গায় সুযোগ পেয়েছেন সৌম্য সরকার। ২০২১ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সবশেষ টেস্ট খেলেছিলেন তিনি। এরপর জাতীয় দলের বাইরে থাকলেও প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে ধারাবাহিক পারফরম্যান্স করে গেছেন। জাতীয় ক্রিকেট লিগের সর্বশেষ আসরে ৭ ম্যাচে ৬৩৩ রান করে ছিলেন সর্বোচ্চ রানসংগ্রাহক।
সৌম্যকে ফেরানোর কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে বাশার বলেন, ‘সৌম্য অনেক দিন ধরে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলেছে। যেই পেসটা আমরা অস্ট্রেলিয়াতে প্রত্যাশা করছি, এটা খেলে সে অভ্যস্ত। আমরা অন্য ওপেনারের কথাও ভেবেছিলাম। দুর্ভাগ্যবশত এই মুহূর্তে আমাদের ডানহাতি ওপেনার খুব বেশি প্রস্তুত অবস্থায় নেই।’
মাহমুদুল হাসান জয়কে বাদ দেওয়ার পেছনে তার সাম্প্রতিক ফর্মই প্রধান কারণ বলে জানিয়েছেন প্রধান নির্বাচক। ওপেনিংয়ে শেষ ছয় ইনিংসের চারটিতেই এক অঙ্কে আউট হয়েছেন জয়। বিষয়টি ব্যাখ্যা করে বাশার বলেন, ‘(মাহমুদুল) জয় এত ভালো ফর্মে নেই, তাঁকে দেখে একটু ভালনারেবল মনে হচ্ছে। আমরা চিন্তা করেছি তাকে আমাদের ফিরিয়ে আনা দরকার। অস্ট্রেলিয়ায় গেলে হয়তো তার খেলার সুযোগটা একটু কম থাকবে, টিম ম্যানেজমেন্ট হয়তো অন্য কম্বিনেশনে যেতে পারে।’
জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে টেস্ট অভিষেক হলেও অস্ট্রেলিয়া সফরের দলে জায়গা হয়নি তাওহীদ হৃদয়ের। তবে নির্বাচকদের পরিকল্পনায় এখনো আছেন এই ডানহাতি ব্যাটার। তাকে দক্ষিণ আফ্রিকা ইমার্জিং দলের বিপক্ষে বাংলাদেশ ‘এ’ দলের হয়ে চার দিনের ম্যাচ খেলতে পাঠানো হচ্ছে।
হৃদয়কে নিয়ে বাশার বলেন, ‘জিম্বাবুয়ে টেস্টে না খেলা মেহেদী হাসান মিরাজ চলে এসেছে, তাওহিদ হৃদয়ের একাদশে ঢোকার সুযোগ কম। কিন্তু আমরা ওকে ভবিষ্যতে টেস্ট ব্যাটসম্যান হিসেবে চিন্তা করছি। আমাদের সামনে দক্ষিণ আফ্রিকা সিরিজ আছে। তারা খুব ভালো দল, দুটি চার দিনের ম্যাচ আছে। আমরা আসলে ওকে ওখানে পাঠাব।’
একই পরিকল্পনার অংশ হিসেবে বাংলাদেশ ‘এ’ দলের সঙ্গে দক্ষিণ আফ্রিকা যাচ্ছেন মাহমুদুল হাসান জয় ও উইকেটকিপার মাহিদুল ইসলামও। অন্যদিকে দীর্ঘ বিরতির পর জাতীয় দলে ফিরেছেন উইকেটকিপার-ব্যাটার জাকের আলী। গত বছর জুনে সর্বশেষ টেস্ট খেলা জাকেরকে ফিরিয়ে আনার কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে বাশার বলেন, ‘জাকের আলী কিন্তু টেস্ট ম্যাচ যখন খেলছিল খারাপ খেলছিল না। যখন দল থেকে বের হয়ে গেছে ওই সময় ফর্ম নিয়ে লড়াই করছিল। আমাদের ইচ্ছা ছিল হাই পারফরম্যান্সের খেলাগুলো খেলে আবার ফিরে আসুক কারণ মানসিক অবস্থাও খুব একটা ভালো ছিল না।’
বাংলাদেশ ১৩ আগস্ট ডারউইনে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম টেস্ট খেলবে। দ্বিতীয় টেস্ট শুরু হবে ২২ আগস্ট ম্যাকাইয়ে। একই সময়ে বাংলাদেশ ‘এ’ দল দক্ষিণ আফ্রিকা ইমার্জিংয়ের বিপক্ষে দুটি চার দিনের ম্যাচ খেলবে, যেখানে জাতীয় দলের বাইরে থাকা ক্রিকেটারদের নিজেদের প্রমাণ করার সুযোগ থাকবে!
এসএন/পিডিকে