হরমুজ প্রণালিতে মাইন বিস্ফোরণ : যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের নতুন কৌশলগত সমীকরণ

হরমুজ প্রণালিতে সামুদ্রিক মাইন বিস্ফোরণের ঘটনা ইরান যুদ্ধ নিয়ে দুটি গুরুত্বপূর্ণ অর্থ বহন করতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক রোমানিয়ান নৌ কর্মকর্তা ও প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক আলেকজান্দু হুদিস্তেনু।

তার মতে, তেহরান হয়তো পরীক্ষা করে দেখছে যে ওয়াশিংটনের এখনও হামলা চালানোর ইচ্ছে রয়েছে কিনা। পাশাপাশি এটি প্রণালিতে মার্কিন মাইন অপসারণের প্রচেষ্টা যে কার্যকর নয়- সেই সংকেতও দিচ্ছে। এর মাধ্যমে তারা বোঝাতে চাইছে কেবল ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) অনুমোদিত করিডোরই নিরাপদ।

বিস্ফোরণটি নিছক কোনো দুর্ঘটনা হতে পারে কি না- এমন প্রশ্নের জবাবে হুদিস্তেনু জানান, বিষয়টি নিয়ে চূড়ান্ত কিছু বলা এখনই তড়িঘড়ি হয়ে যাবে। কারণ এ পর্যন্ত কেবল ইরানি সূত্রগুলোই ঘটনাটি রিপোর্ট করেছে। তিনি উল্লেখ করেন, সমুদ্রে স্থাপিত বিস্ফোরকগুলো অনেক সময় মূল অবস্থান থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যেতে পারে কিংবা পানির ঠিক নিচে এমনভাবে ডুবে থাকে যা খালি চোখে বা রাডারে শনাক্ত করা প্রায় অসম্ভব।

যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য প্রতিক্রিয়া সম্পর্কে এই বিশ্লেষক বলেন, ওয়াশিংটন হয়তো তাদের সামরিক পছন্দের ক্ষেত্রে একটি ‘সাময়িক সীমারেখায়’ পৌঁছেছে। কারণ কেবল বিমান বা ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়ে ইরানের অবস্থান পরিবর্তন করা সম্ভব হয়নি। যুক্তরাষ্ট্র এখন কূটনৈতিক আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার স্বার্থে কিছুটা ‘শান্ত পরিস্থিতি’ পছন্দ করতে পারে। তবে প্রয়োজন হলে তারা যে আবার হামলা শুরু করতে প্রস্তুত- সেই বার্তাও বজায় রাখবে।

হুদিস্তেনু আরও উল্লেখ করেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পূর্বে হওয়া সমঝোতা স্মারকটি ইতোমধ্যে ভেঙে পড়েছে, যার অধীনে মাইন অপসারণের দায়িত্ব ইরানের সামলানোর কথা ছিল। তবে ইরানের প্রথাগত নৌবাহিনী অনেকটাই ধ্বংস হয়ে যাওয়ায় তেহরান এই প্রণালির নিরাপত্তা সঠিকভাবে নিশ্চিত করতে পারছে না। ফলে এই দুর্বলতাকেই তারা নিজেদের নির্ধারিত বিকল্প ট্রানজিট করিডোর ব্যবহারের যৌক্তিকতা হিসেবে উপস্থাপন করছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *