জুলাই গণহত্যার বিচারের দাবিতে ঢাবিতে জাতীয় ছাত্রশক্তির কফিন মিছিল

জুলাই গণহত্যার সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করা এবং শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদনের লক্ষ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে কফিন মিছিল ও সংহতি সমাবেশ করেছে জাতীয় ছাত্রশক্তি। আজ শুক্রবার (১৭ জুলাই) জুমার নামাজ শেষে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদ সংলগ্ন সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের সামনে থেকে এই ব্যতিক্রমী কফিন মিছিলটি শুরু হয়।

মিছিলটি ক্যাম্পাস সংলগ্ন হলপাড়া ও ভিসি চত্বর প্রদক্ষিণ করে টিএসসির রাজু ভাস্কর্যের সামনে গিয়ে একটি সংক্ষিপ্ত সংহতি সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়।

সমাবেশে সংহতি জানিয়ে বক্তব্য দেন ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে রাজপথে সক্রিয় থাকা বিভিন্ন সহযোদ্ধা ছাত্রসংগঠনের নেতারা। ছাত্রসংগঠনগুলোর শীর্ষ নেতাদের বক্তব্যের ক্রমানুসারে, সংহতি প্রকাশ করে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাধারণ সম্পাদক নাহিদুজ্জামান শিপন, বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক মোহাম্মদ সাজ্জাদ হোসেন খান, ছাত্র অধিকার পরিষদের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক সানাউল্লাহ হক এবং ইসলামী শাসনতন্ত্র ছাত্র আন্দোলনের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি সাইফ মোহাম্মদ আলাউদ্দিনসহ অন্যান্যরা।

এর আগে জাতীয় ছাত্রশক্তির কেন্দ্রীয় ও বিভিন্ন ইউনিটের নেতাকর্মীরা মিছিলে অংশ নেন। সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনটির কেন্দ্রীয় সভাপতি জাহিদ আহসান, সিনিয়র সহসভাপতি হাসিব আল ইসলাম, সিনিয়র যুগ্ম সদস্য সচিব নাঈম আবেদিন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সংসদের সভাপতি তাহমিদ আল মুদ্দাসসির চৌধুরী, সম্মিলিত বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি নূর আলম হাসান ও সাধারণ সম্পাদক যাবের বিন নূর।

এ ছাড়া ঢাকা মহানগর উত্তর শাখার সভাপতি অ্যাডভোকেট আশিকুজ্জামান মোল্লা ও সাধারণ সম্পাদক মুহতাসিম ফুয়াদ, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ শাখার সাধারণ সম্পাদক ইমরান ভুঁইয়া তাসকিন, মুখ্য সংগঠক এবি প্রীতম, সরকারি তিতুমীর কলেজ শাখার সদস্য সচিব আল নোমান নিরব এবং সরকারি কবি নজরুল কলেজ শাখার আহ্বায়ক মেহেদী আকন্দসহ বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীরা কর্মসূচিতে যোগ দেন।

সংহতি সমাবেশে বক্তারা জুলাই গণহত্যার সঙ্গে জড়িত সব অপরাধীকে দ্রুত ট্রাইব্যুনালের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির জোর দাবি জানান। একই সঙ্গে তারা অবিলম্বে কাঙ্ক্ষিত রাষ্ট্রীয় সংস্কার সম্পন্ন করা, গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানসমূহকে শক্তিশালী করা এবং একটি বৈষম্যহীন ও জবাবদিহিমূলক নতুন রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানান। ছাত্র নেতারা দৃঢ়তার সঙ্গে বলেন, জুলাইয়ের শহীদরা যে আকাঙ্ক্ষা নিয়ে বুকের রক্ত দিয়েছেন, সেই রক্তের ঋণ পরিশোধের অন্যতম একমাত্র উপায় হলো অপরাধীদের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা এবং জনগণের গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষার পূর্ণ বাস্তবায়ন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *