যুক্তরাজ্যের সম্ভাব্য পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যাম দায়িত্ব নিলে প্রতিরক্ষা খাতের ৪ দশমিক ৭ বিলিয়ন পাউন্ডের অর্থঘাটতি মোকাবিলার কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারেন। এ ঘাটতি পূরণে সরকারি ব্যয় কমানো, কর বৃদ্ধি বা ঋণের ওপর নির্ভর করতে হতে পারে।বুধবার (১ জুলাই) এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার ১৫ বিলিয়ন পাউন্ডের নতুন প্রতিরক্ষা পরিকল্পনা ঘোষণা করেন। ইউরোপে নিরাপত্তা ঝুঁকি বৃদ্ধি এবং ২০৩০ সালের মধ্যে রাশিয়া ন্যাটোভুক্ত কোনো সদস্য দেশে হামলা চালাতে পারে; এমন আশঙ্কার প্রেক্ষাপটে এ পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
তবে পরিকল্পনা প্রকাশের পর সরকারি নথিতে দেখা যায়, অতিরিক্ত ব্যয়ের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ অর্থের উৎস এখনো নির্ধারণ করা হয়নি। ফলে বছরের শেষ দিকে বাজেটে এ অর্থের সংস্থান করতে হবে।
যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষা ক্রয়বিষয়ক মন্ত্রী লুক পোলার্ড বলেন, কোনো পরিকল্পনা ঘোষণার পর পরবর্তী বাজেটে তার অর্থায়নের বিস্তারিত নির্ধারণ করা সরকারের জন্য অস্বাভাবিক নয়।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি মাসের শেষ দিকে অ্যান্ডি বার্নহ্যাম প্রধানমন্ত্রী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে স্টারমারের প্রতিরক্ষা পরিকল্পনা নিয়ে তিনি এখনো প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য করেননি।
এদিকে বিরোধী দল ও সাবেক সামরিক কর্মকর্তারা পরিকল্পনার সমালোচনা করে বলেছেন, প্রতিরক্ষা ব্যয় কবে জিডিপির ৩ শতাংশে উন্নীত করা হবে, সে বিষয়ে কোনো নির্দিষ্ট সময়সূচি নেই। ন্যাটোর লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী ২০৩৫ সালের মধ্যে যুক্তরাজ্যকে জিডিপির ৩ দশমিক ৫ শতাংশ প্রতিরক্ষা খাতে ব্যয় করতে হবে।
স্টারমার জানিয়েছেন, অতিরিক্ত অর্থের একটি বড় অংশ সরকারের অন্যান্য খাতের ব্যয় পুনর্বিন্যাসের মাধ্যমে জোগাড় করা হবে। তবে এ কারণে সড়ক ও জ্বালানি অবকাঠামো খাতে বরাদ্দ কমানোর সিদ্ধান্ত সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।
থিংক ট্যাংক ইনস্টিটিউট ফর ফিসকাল স্টাডিজ (আইএফএস) বলেছে, বর্তমান পরিকল্পনা বাস্তবায়নে বছরে অতিরিক্ত ১ দশমিক ২ বিলিয়ন পাউন্ড প্রয়োজন হবে। ফলে নতুন প্রধানমন্ত্রীকে দায়িত্ব নেওয়ার পরই কর, ব্যয় ও ঋণ নিয়ে কঠিন আর্থিক সিদ্ধান্ত নিতে হবে।
আইএফএসের মতে, ২০৩৫ সালের মধ্যে প্রতিরক্ষা ব্যয় জিডিপির ৩ দশমিক ৫ শতাংশে উন্নীত করতে যুক্তরাজ্যের বছরে আরও প্রায় ২৫ বিলিয়ন পাউন্ড অতিরিক্ত ব্যয় প্রয়োজন হবে।
এসএন/পিডিকে