পারস্য উপসাগর ও ওমান সাগর সংলগ্ন এলাকায় চলমান তীব্র সামরিক সংঘাতের মাঝে এক নাগরিকের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে কাতারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। ওমান উপসাগরে নিখোঁজ হওয়া একটি বাণিজ্যিক জাহাজে থাকা ওই কাতারি নাগরিক সামরিক অভিযানের ফলে সৃষ্ট ক্ষেপণাস্ত্র বা বোমার স্প্লিন্টারের আঘাতে গুরুতর জখম হয়ে মারা যান। এই ঘটনায় জাহাজে থাকা আরেক ব্যক্তি আহত হয়েছেন এবং বর্তমানে তিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ও আশঙ্কামুক্ত রয়েছেন। খবর আলজাজিরার।
কাতারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (টুইটার) দেওয়া এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে জানায়, নিখোঁজ হওয়া জাহাজটি উদ্ধারের পর আমাদের অনুসন্ধান ও উদ্ধারকারী দল নিশ্চিত করেছে, ওই এলাকায় চলমান সামরিক অভিযানের কারণে সৃষ্ট স্প্লিন্টারের আঘাতে এক কাতারি নাগরিক ‘শহীদ’ হয়েছেন। কাতারের মেরিটাইম সার্চ অ্যান্ড রেসকিউ টিম রোববার (২৮ জুন) ভোরে নিখোঁজ হওয়া ওই নৌযানটির অবস্থান শনাক্ত করতে সক্ষম হয়।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান তীব্র ক্ষেপণাস্ত্র ও বিমান হামলার জেরে হরমুজ প্রণালি ও ওমান সাগরে যে যুদ্ধ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, এই প্রথম কোনো আরব দেশের বেসামরিক নাগরিক সেখানে সরাসরি প্রাণ হারালেন। ধারণা করা হচ্ছে, রোববার কুয়েত ও বাহরাইনের মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা অথবা তার আগে ইরানি নৌঘাঁটিতে মার্কিন বিমান হামলার সময় ছিটকে আসা কোনো স্প্লিন্টার ওই জাহাজে আঘাত হেনেছিল।
কাতার দীর্ঘ সময় ধরে এই অঞ্চলে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করলেও তাদের নিজেদের নাগরিকের এই মৃত্যুর ঘটনা মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিতে নতুন কোনো জটিলতার সৃষ্টি করে কি না, তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকেরা।