নরসিংদীর রায়পুরায় কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি ও দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ৩ হাজার ১০২ জন প্রান্তিক কৃষক-কৃষাণীর মাঝে বিনামূল্যে বিভিন্ন উন্নত জাতের বীজ, সার এবং ফলদ বৃক্ষের চারা বিতরণ করা হয়েছে। গতকাল শুক্রবার (২৬ জুন) সকাল ১০টায় রায়পুরা উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণে উপজেলা কৃষি অফিসের উদ্যোগে এই প্রণোদনা সামগ্রী বিতরণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
রায়পুরা উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. মাসুদ রানার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নরসিংদী-৫ (রায়পুরা) আসনের সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মো. আশরাফ উদ্দিন বকুল। তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে উপকারভোগী কৃষকদের হাতে এই সরকারি কৃষি উপকরণগুলো তুলে দেন।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মুস্তাফিজুর রহমান। তিনি জানান, উপজেলার ২৪টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভার মোট ২ হাজার ৩০০ জন কৃষকের প্রত্যেককে ৫ কেজি করে রোপা আমন ধানের বীজ, ২০ কেজি ডিএপি সার এবং ১০ কেজি এমওপি সার দেওয়া হয়েছে। এছাড়া মসলা জাতীয় ফসলের উৎপাদন বাড়াতে ১৭০ জন মরিচ চাষিকে ১০ গ্রাম করে হাইব্রিড মরিচের বীজ এবং ১০ কেজি করে সার প্রদান করা হয়।
কৃষি কর্মকর্তা আরও জানান, সরকারের অগ্রাধিকারভিত্তিক দেশব্যাপী বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির অংশ হিসেবে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উদ্যোগে ৬৩২ জন কৃষকের প্রত্যেককে ৫টি করে বিভিন্ন ফলদ বৃক্ষের চারা, চারা সুরক্ষায় প্রয়োজনীয় বাঁশের খুঁটি এবং ৪০ কেজি করে মানসম্মত জৈব সার দেওয়া হয়েছে।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মো. আশরাফ উদ্দিন বকুল বলেন, কৃষিই আমাদের দেশের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি। কৃষকদের উৎপাদন খরচ কমিয়ে এনে অধিক ফলন নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই বর্তমান সরকার নিয়মিত এই ধরণের কৃষি প্রণোদনা কর্মসূচি বাস্তবায়ন করে যাচ্ছে।
আশরাফ উদ্দিন বকুল কৃষকদের উদ্দেশে আরও বলেন, সরকারের দেওয়া এসব উচ্চফলনশীল বীজ ও সার সঠিকভাবে জমিতে ব্যবহার করলে গ্রামীণ পর্যায়ে কৃষি উৎপাদন বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে। এতে কৃষকেরা যেমন অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হবেন, তেমনই দেশের সামগ্রিক খাদ্য নিরাপত্তাও আরও সুদৃঢ় হবে। একই সাথে তিনি কৃষকদের সনাতন পদ্ধতি পরিহার করে আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর কৃষিকাজে আরও বেশি সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা, উপসহকারী কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তাবৃন্দ, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা উপকারভোগী কৃষক-কৃষাণীরা উপস্থিত ছিলেন।