খুলনার কয়রা উপজেলায় স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) অধীনে বাস্তবায়নাধীন একটি সড়ক উন্নয়নে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। হাতের টানেই উঠে যাচ্ছে সড়কের পিচ। দায়সারাভাবে কাজ হচ্ছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
আজ মঙ্গলবার (২৩ জুন) প্রাইমকোড ছাড়া সড়কটিতে পিচ ঢালাই দেওয়ার সময় ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী প্রতিবাদ করলে ঠিকাদারের লোকজন কাজ ফেলে চলে যায়।
উপজেলার উত্তর মাদারবাড়ী সীমানা থেকে রোনবাগ কেয়ার সড়ক এবং হড্ডা-বেদকাশী সড়ক পাঁকা করণের (কার্পেটিং) কাজ পায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স কামরুল অ্যান্ড ব্রাদার্স। সড়ক দুটি নির্মাণে প্রায় দুই কোটি ৬৪ লাখ টাকা ব্যয় ধরা হয়। ২০২৪ সালের ৩ এপ্রিল কাজ শুরু হয়ে একই বছরের ১৪ নভেম্বর প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করার কথা। তবে মেয়াদের মধ্যে কাজটি সম্পন্ন করতে ব্যর্থ হয় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। পরবর্তীতে প্রকল্পটি রিভাইস হয়ে হড্ডা-বেদকাশী সড়ক বাদ দিয়ে উত্তর মাদারবাড়ী সীমানা থেকে রোনবাগ কেয়ার পর্যন্ত এক কিলোমিটার সড়ক উন্নয়নের জন্য সময় বাড়ানো হয় এবং বরাদ্দ কমানো হয়। তবে অফিসে যেয়েও বর্ধিত সময় ও বরাদ্দের তথ্য পাওয়া যায়নি।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, প্রায় ৫০০ মিটারের মতো রাস্তায় পিচের ঢালাই দেওয়া হয়েছে। তার মধ্যে চারটি স্থানে হাতের টানেই উঠে যাচ্ছে পিচ। গাইডওয়ালের কয়েকটি স্থানে ফাটল ধরেছে। সেখানে আল আমিন, আশিক, আব্দুল হাইসহ কয়েকজনের সঙ্গে কথা হয়। তাদের অভিযোগ, সড়ক নির্মাণে পাথরের মিশ্রণে প্রয়োজনীয় পরিমাণ বিটুমিন ব্যবহার করা হচ্ছে না। দায়সারা প্রাইম কোড দিয়ে পিচ ঢালাই দেওয়া হচ্ছে। রাস্তার ওপরে পড়ে থাকা ময়লা অপসারণ করা হয়নি। ফলে এক সপ্তাহ আগের ঢালাইও হাতের টানে উঠে আসছে। এ ছাড়া কাজ সম্পন্ন হওয়ার আগেই প্রকল্পের আওতায় নির্মিত গাইডওয়ালের বিভিন্ন স্থানে ফাটল দেখা দিয়েছে। এতে নির্মাণকাজের মান নিয়ে জনমনে সন্দেহ সৃষ্টি হয়েছে। তাদের আশঙ্কা, এভাবে কাজ চলতে থাকলে অল্প সময়ের মধ্যেই সড়কের পিচ উঠে গিয়ে সড়কটি চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়বে।
এ বিষয়ে কয়রা উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশলী দপ্তরের উপসহকারী প্রকৌশলী আফজাল হোসেন বলেন, বিটুমিনের রাস্তা অন্তত সাত দিন সময় না গেলে পুরোপুরি জমাট বাঁধে না। আমাদের উপস্থিতিতে কিছু অংশে প্রাইমকোড করা হয়েছিল। পরে ঠিকাদারের লোকজন কিছু অংশে প্রাইমকোড করে, সেখানে পরিমাণে কম দেওয়া হয়। সেসব স্থানে পুনরায় প্রাইমকোড করে ঢালাই দেওয়ার কথা রয়েছে। জুন ক্লোজিংয়ের ব্যস্ততার কারণে আমি যেতে পারিনি, অন্য একজনকে পাঠিয়েছিলাম।
প্রকল্প এলাকায় সাইনবোর্ড না থাকার বিষয়ে আফজাল হোসেন বলেন, সব প্রকল্পে সাইনবোর্ড স্থাপনের নির্দেশনা থাকে না।
ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের পক্ষে কাজ তদারককারী হাসান বলেন, ঠিকমতো প্রাইম কোড করা হয়েছিল, তবে বৃষ্টির কারণে কিছু অংশ ধুয়ে গেছে। আমরা ১৮ মাইল এলাকার প্ল্যান্ট থেকে মিশ্রণ এনে কাজ করছি। প্রয়োজনীয় সরবরাহ সবসময় পাওয়া যায় না। আজ দুই গাড়ি মিশ্রণ পাওয়ায় সেটা দিয়ে কাজ করতে গিয়ে বাধার সম্মুখীন হই। যেসব স্থানে ত্রুটি হয়েছে, সেগুলো সমাধান করে দেওয়া হবে।