স্মৃতির পরিবারের পাশে কুসিক প্রশাসক, আর্থিক সহায়তা

কুমিল্লা নগরীর ছোটরা এলাকায় ভাঙা ড্রেনের স্ল্যাবে পড়ে নিহত আট বছর বয়সী মাহফুজা আক্তার স্মৃতির পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছেন কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের (কুসিক) প্রশাসক ইউসুফ মোল্লা টিপু। আজ সোমবার (২২ জুন) রাতে নগরীর মফিজাবাদ কলোনিতে গিয়ে স্মৃতির মা-বাবার সঙ্গে দেখা করে লাখ টাকা আর্থিক সহায়তা তুলে দেন তিনি।

শোকাহত পরিবারকে সান্ত্বনা দিতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন কুসিক প্রশাসক ইউসুফ মোল্লা টিপু। তিনি বলেন, ‘গতকাল রাতটা আমি ঘুমাতে পারিনি। বারবার স্মৃতির মুখটা চোখের সামনে ভেসে উঠেছে। আমার নিজের মেয়ের কথাও মনে হয়েছে। একটি শিশুর এমন মৃত্যু কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।’

কুসিক প্রশাসক আরও বলেন, ‘এ ঘটনায় আমারও দায় আছে। দুর্ঘটনার পর থেকেই নগরীর বিভিন্ন সড়কে থাকা ভাঙা স্ল্যাব চিহ্নিত করে অপসারণের কাজ শুরু করেছি। আমি চাই না আর কোনো পরিবার স্মৃতির পরিবারের মতো এমন শোক বয়ে বেড়াক। কুমিল্লা নগরীতে আর কোনো ভাঙা স্ল্যাব থাকবে না।’

এ সময় নগরীর দীর্ঘদিনের অপরিকল্পিত উন্নয়ন ও অব্যবস্থাপনাকে দায়ী করে ইউসুফ মোল্লা টিপু বলেন, ‘বিগত সময়ে যেসব ভুল হয়েছে, তার খেসারত আজ আমাদের দিতে হচ্ছে। তবে ভবিষ্যতে যেন এমন মর্মান্তিক ঘটনা আর না ঘটে, সেজন্য আমরা সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছি।’

এ সময় স্মৃতির মা-বাবার হাতে হাত রেখে কুসিক প্রশাসক যেকোনো প্রয়োজনে পাশে থাকার আশ্বাস দেন। পরে বাবা বিল্লাল হোসেনের হাতে এক লাখ টাকা সহায়তা হিসেবে তুলে দেন।

গতকাল রোববার রাতে কুমিল্লা নগরীর ছোটরা এলাকায় বৃষ্টির পানিতে ঢেকে থাকা একটি ভাঙা ড্রেনের স্ল্যাবে পড়ে মারা যায় শিশু মাহফুজা আক্তার স্মৃতি। মায়ের হাত থেকে ছিটকে পড়ে মুহূর্তেই নিভে যায় তার ছোট্ট জীবনের প্রদীপ। হৃদয়বিদারক এ ঘটনায় কুমিল্লা নগরজুড়ে নেমে আসে শোকের ছায়া।

এক বছরেরও কম সময়ে দুই সন্তান হারিয়ে পরিবারটি এখন শোকে স্তব্ধ। নগরীর বদরপুর এলাকার বাসিন্দা বিল্লাল হোসেনের পৈতৃক বাড়ি চাঁদপুর জেলায়। জীবিকার তাগিদে তিনি দীর্ঘদিন ধরে কুমিল্লায় বসবাস করছেন। স্ত্রী ও সন্তানদের নিয়ে ছোট্ট সংসারটি ছিল তার জীবনের সবচেয়ে বড় আশ্রয়। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে একে একে দুই সন্তানকে হারিয়ে এখন অসহায় হয়ে পড়েছেন তিনি।

আজ সোমবার জোহর নামাজের পর জানাজা শেষে স্মৃতির মরদেহ টমসমব্রিজ কবরস্থানে দাফন করা হয়। জানাজায় স্বজন, প্রতিবেশী ও স্থানীয়রা অংশ নেন। কিন্তু সবার চোখ ছিল সন্তান হারানোর অসহনীয় বেদনায় ভেঙেপড়া মা কোহিনূরের দিকে।

স্থানীয়রা জানায়, বিল্লাল-কোহিনূর দম্পতির তিন সন্তানের মধ্যে একমাত্র ছেলে প্রায় সাত মাস আগে অসুস্থ হয়ে মারা যায়। সেই শোক কাটিয়ে উঠতে না উঠতেই গতকাল রোববার রাতে প্রাণ হারাল তাদের মেজো মেয়ে স্মৃতি।

মামার বিয়ের অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে নানাবাড়ি থেকে মায়ের হাত ধরে বাড়ি ফিরছিল ছোট্ট স্মৃতি। বৃষ্টির কারণে সড়কে জলাবদ্ধতা থাকায় রিকশা না পেয়ে ফুটপাত ধরে হাঁটছিলেন কোহিনূর। হঠাৎ করেই মায়ের হাত থেকে ছিটকে ফুটপাতের পাশের খোলা ড্রেনে পড়ে যায় শিশুটি। প্রবল স্রোতে মুহূর্তেই তলিয়ে যায় সে। প্রায় ২০ মিনিটের প্রাণপণ চেষ্টায় স্থানীয়রা ড্রেনের ভেতর থেকে তাকে উদ্ধার করে দ্রুত হাসপাতালে নেয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *