বিশ্ব বাবা দিবসের বিশেষ ক্ষণে নিজের জীবনের সবচেয়ে বড় অনুপ্রেরণা ও শক্তির উৎস বাবাকে নিয়ে এক আবেগঘন স্মৃতিচারণ করেছেন ছোটপর্দার জনপ্রিয় অভিনেতা তৌসিফ মাহবুব। মধ্যবিত্ত পরিবারের সীমাবদ্ধতা পেরিয়ে বাবার অসামান্য আত্মত্যাগ কীভাবে আজকের ‘তৌসিফ মাহবুব’কে গড়ে তুলেছে, সেই না-বলা গল্পই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভক্তদের সাথে ভাগ করে নিয়েছেন এই তারকা। অভিনেতার সেই শৈশবের গল্প ও বাবার প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতাবোধ ছুঁয়ে গেছে লাখো ভক্তের হৃদয়।
তৌসিফ তাঁর শৈশবের এক অবিশ্বাস্য ত্যাগের স্মৃতি রোমন্থন করে জানান, ১৯৯৩ সালের দিকে যখন তাঁর বাবার ব্যবসা থেকে মাসিক আয় ছিল মাত্র আট হাজার টাকা, ঠিক তখন তাঁর বাবা তাঁকে চার হাজার টাকা বেতনের একটি নামী ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলে ভর্তি করিয়েছিলেন। নিজের আয়ের অর্ধেকটাই ছেলের পড়াশোনার পেছনে খরচ করার পেছনে বাবার একটাই স্বপ্ন ছিল তাঁর ছেলে যেন একদিন বড় হয়ে সবার চেয়ে আলাদা এবং ভালো কিছু করে। বাবা সেদিন নিজের কঠিন বাস্তবতার চেয়ে ছেলের ভেতরের সম্ভাবনাকে বেশি গুরুত্ব দিয়েছিলেন।
এই জনপ্রিয় অভিনেতা অকপটে স্বীকার করেছেন যে, তাঁর জন্য দেখা বাবার সেই স্বপ্নের মূল্য ছিল অপরিসীম, যার পেছনে লুকিয়ে ছিল অসংখ্য ত্যাগ, অক্লান্ত পরিশ্রম। কারণ তাঁর বাবা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করতেন, সন্তানের শিক্ষার পেছনে ব্যয় করা অর্থ কোনো সাধারণ খরচ নয়, বরং এটি সন্তানের ভবিষ্যতের সবচেয়ে বড় এবং শ্রেষ্ঠ বিনিয়োগ।
বাবার সেই স্বপ্নের প্রতিচ্ছবি আজ কতটুকু হতে পেরেছেন, তা নিয়ে তৌসিফের মনে সংশয় থাকলেও বাবার অবদানের কথা তিনি ভোলেননি। আবেগাপ্লুত কণ্ঠে তৌসিফ বলেন, আজ তিনি সমাজের বুকে যে অবস্থানে দাঁড়িয়ে আছেন, তার মজবুত ভিত্তিটা মূলত তাঁর আব্বুই গড়ে দিয়েছিলেন। বাবা তাঁর কাছে শুধু একজন জন্মদাতাই নন, বরং তাঁর জীবনের প্রথম শিক্ষক এবং প্রথম অনুপ্রেরণা।
সীমাবদ্ধতার চার দেয়ালে বন্দি থেকেও কীভাবে অসীম চিন্তা করতে হয় এবং বড় বড় স্বপ্ন দেখতে হয় তা বাবার কাছ থেকেই শিখেছেন বলে জানান তৌসিফ। লেখার শেষ প্রান্তে পৃথিবীর সব বাবার প্রতি শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা জানিয়ে এই অভিনেতা বলেন, ‘শুভ বাবা দিবস। আজীবন বেঁচে থাকুক পৃথিবীর প্রতিটি বাবা।’ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তৌসিফ মাহবুবের এই হৃদয়স্পর্শী পোস্টটি ইতিমধ্যেই বেশ সাড়া ফেলেছে এবং প্রশংসায় ভাসছেন তাঁর বাবা।