একটি শোষণমুক্ত, দুর্নীতিমুক্ত, চাঁদাবাজমুক্ত ও দলীয়করণমুক্ত সমাজ এবং মানবিক বাংলাদেশ বিনির্মাণের লক্ষ্যে দেশের যুবসমাজকে আরেকটি অনিবার্য বিপ্লবের জন্য প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও ১১ দলীয় জোটের শীর্ষ নেতা বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।
গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন, জনদুর্ভোগ লাঘব এবং দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণের দাবিতে আজ শনিবার (২০ জুন) বিকেলে ঐতিহাসিক খুলনা সার্কিট হাউস ময়দানে আয়োজিত এক বিশাল বিভাগীয় সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে জামায়াত আমির এ আহ্বান জানান।
জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ারের সভাপতিত্বে দুপুর ২টা থেকে এই সমাবেশ শুরু হয়। প্রখর রোদ ও তীব্র তাপমাত্রা উপেক্ষা করে খুলনা বিভাগের ১০টি জেলা থেকে বাসসহ বিভিন্ন যানবাহনে করে হাজার হাজার নেতা-কর্মী নগরীর জোড়াগেট, রূপসা ও গল্লামারী এলাকায় এসে নামেন এবং পরে খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে সার্কিট হাউস ময়দানে সমবেত হন। সমাবেশস্থল ছাড়িয়ে নগরীর পাওয়ার হাউস মোড়, ময়লাপোতা মোড় ও কাস্টমস ঘাট পর্যন্ত প্রায় ৩০০ মাইকের মাধ্যমে সমাবেশটি সম্প্রচার করা হয়। বিকেলে প্রধান অতিথি ডা. শফিকুর রহমান বক্তব্য শুরু করেন।
ডা. শফিকুর রহমান তার বক্তব্যে দেশের অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক দল বিএনপির রাজনৈতিক অবস্থানের সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, বিএনপি জাতিকে দেওয়া কথা রাখেনি। আমরা বিএনপিকে স্পষ্ট করে বলতে চাই, দেশ এবং জাতির স্বার্থে আপনারা ভুল করছেন; দ্রুত এই ভুল সংশোধন করে জনগণের কাতারে আসুন এবং জনরায়কে সম্মান করুন। জনরায়কে সম্মান না করার পরিণতি কী হতে পারে, তা দফায় দফায় দেখার পরেও যদি আপনাদের শিক্ষা না হয়, তবে জীবনেও আপনাদের শিক্ষা হবে না।
ডা. শফিকুর রহমান আরও বলেন, খুলনাবাসী অতীতে যে রায় দিয়েছিলেন, তা সংসদে গিয়ে বাস্তবায়ন করা আমাদের দায়িত্ব। চুরি, ডাকাতি বা ইঞ্জিনিয়ারিং করে ভোট কেড়ে নেওয়া হলেও আমরা সংসদে যা আছি, তাই নিয়ে সিংহের মতো লড়াই করে যাব। যদি ফয়সালা সংসদে না হয়—যেখানে কথা বলতে স্পিকারের অনুমোদন লাগে না, সেই খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম, কুমিল্লা, সিলেট, ময়মনসিংহ, রংপুর, রাজশাহী ও বগুড়ার মাঠ থেকে আগ্নেয়গিরি তৈরি হবে এবং সেই দাবানলে সমস্ত আবর্জনা পুড়ে ছারখার হয়ে যাবে। দেশের স্বার্থে এবং গৃহযুদ্ধ এড়াতে শত যন্ত্রণা বুকে নিয়ে নির্বাচনের ফলাফল মেনে নিয়েছেন উল্লেখ করে তিনি হুঁশিয়ারি দেন যে, জামায়াত আর কারও চোখ রাঙানিকে পরোয়া করবে না।
আগামীর আন্দোলনের রূপরেখা ঘোষণা করে জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেন, এই বিপ্লব কোনো নির্দিষ্ট দলকে ক্ষমতায় বসানোর জন্য নয়, কোনো গোষ্ঠী বা পরিবারকে তোষামোদ করার জন্য নয় এবং কোনো আধিপত্যবাদের কাছে মাথা নত করার জন্যও নয়। দুনিয়ার বুকে স্বাধীন, সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে সম্মান, ইজ্জত, শক্তি ও সাহস নিয়ে মাথা তুলে দাঁড়ানোর জন্যই হবে আগামীর এই অনিবার্য বিপ্লব।
যুবসমাজের প্রতি আহ্বান জানিয়ে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, একটি শোষণমুক্ত ও মানবিক বাংলাদেশ গড়তে যুবসমাজকে আবারও রাজপথে অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে। অন্যায়ের কাছে মাথা নত না করার প্রত্যয় ব্যক্ত করে তিনি বলেন, ফাঁসির তক্তায় দাঁড়িয়ে জামায়াত নেতারা যে মুচকি হাসি দিয়ে গেছেন, খানজাহান আলী ও শাহজালালের এই বাংলাদেশের জনগণ আজ অন্যায়ের বিরুদ্ধে সেই হাসি মুখে নিয়ে সর্বোচ্চ ত্যাগের জন্য প্রস্তুত রয়েছে।
সমাবেশে এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের নাম প্রচার করা হলেও অনিবার্য কারণে তিনি অনুপস্থিত ছিলেন। তবে এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী সমাবেশে অংশ নিয়ে বক্তব্য দেন। এছাড়াও ১১ দলীয় জোট ও অন্যান্য রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতাদের মধ্যে বক্তব্য দেন এলডিপি চেয়ারম্যান ড. কর্নেল (অব.) অলি আহমেদ, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিশের আমির আল্লামা মামুনুল হক, নেজামে ইসলামীর ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মাওলানা আবদুল কাইয়ুম সোবাহানী, আমার বাংলাদেশ পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান এবং জাগপার মুখপাত্র রাশেদ প্রধানসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।