ইয়ান দিয়োমান্দে যুক্তরাষ্ট্রে একের পর এক ব্যর্থ এমএলএস ট্রায়ালের পর দুই বছর আগে দেশ ছেড়ে নতুন পথে হাঁটেন। সেই ব্যর্থতা তার স্বপ্নকে থামাতে পারেনি। বরং তাকে আরও দৃঢ় করে তোলে। আজ ১৯ বছর বয়সী এই আইভরি কোস্টের উইঙ্গার বিশ্বমঞ্চে নিজের প্রতিভা দিয়ে আলো ছড়াচ্ছেন। যেখানে তার গতি ও আক্রমণাত্মক খেলা তাকে দ্রুতই নজরে এনে দিয়েছে।
আইভরি কোস্টের হয়ে গত অক্টোবরে অভিষেকের পরই তিনি টানা দুই ম্যাচে গোল করেন। অল্প সময়ের মধ্যেই তিনি দলের আক্রমণভাগের অন্যতম প্রধান ভরসা হয়ে ওঠেন। বিশ্বকাপে জার্মানির বিপক্ষে নামার আগে তিনি এখন ইউরোপীয় ফুটবলের সবচেয়ে প্রতিশ্রুতিশীল তরুণদের একজন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছেন।
কিন্তু এই উত্থানের আড়ালে লুকিয়ে আছে এক গভীর ব্যক্তিগত ট্র্যাজেডি। গত বছর এক পার্টিতে এক অচেনা ব্যক্তির পানীয়তে মাদক মিশিয়ে দেওয়ার পর তার ১৫ বছর বয়সী বোন প্রাণ হারায়। সেই ঘটনা দিয়োমান্দের জীবনে রেখে গেছে শোক। অনুশোচনা ও এক অসীম শূন্যতা। যার কোনো সহজ উত্তর তার কাছে নেই।
দ্য প্লেয়ার্স ট্রিবিউন এ লেখা এক আবেগঘন চিঠিতে দিয়োমান্দে জানান, মাঠই এখন তার একমাত্র আশ্রয়। সেখানেই তিনি মানসিক শান্তি খুঁজে পান এবং মনে করেন বোনের সঙ্গে কথা বলছেন। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, তুমি থাকলে বলতে পারতাম আমরা পেরেছি, এই অনুভূতিই তাকে প্রতিটি ম্যাচে এগিয়ে দেয়।
যুক্তরাষ্ট্রের পর ইউরোপে চেলসি, ক্রিস্টাল প্যালেস, বোর্নমাউথসহ বিভিন্ন ক্লাবে ট্রায়ালের পর তিনি লা লিগার লেগানেস হয়ে আরবি লাইপজিগে যোগ দেন। জার্মান ফুটবলের কঠোর শৃঙ্খলা তাকে আরও পরিণত করেছে। আর প্রথম মৌসুমেই ১২ গোল ও ৮ অ্যাসিস্ট করে তিনি নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। শত মিলিয়ন ইউরোর ট্রান্সফার গুঞ্জনের মাঝেও তিনি ধাপে ধাপে এগোতে চান। নিজের গল্পটা নিজের গতিতেই লিখতে চান।