১৪০ কোটির দেশ, বিশ্বকাপে শুধু দর্শক!

২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ শুরু হতেই ভারতীয় ফুটবলপ্রেমীদের পুরোনো আক্ষেপ আবারও সামনে এসেছে। বিশ্বের সবচেয়ে জনবহুল দেশ ভারত, যার জনসংখ্যা ১৪০ কোটিরও বেশি। আয়তনের দিক থেকেও বিশ্বের সপ্তম বৃহত্তম দেশ। অথচ এত বিশাল জনসংখ্যা ও বিপুল প্রতিভার সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও ফুটবলের সবচেয়ে বড় আসর ফিফা বিশ্বকাপের মূল পর্বে কখনোই খেলতে পারেনি ব্লু টাইগার্সরা।

তবে বিশ্বকাপ ঘিরে দেশটির উন্মাদনার কোনো কমতি নেই। বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গ, কেরালা ও গোয়ার মতো রাজ্যগুলোতে বিশ্বকাপ যেন একটি জাতীয় উৎসবে পরিণত হয়।

ভারতের সাবেক অধিনায়ক বৈচুং ভুটিয়া অবশ্য মনে করেন, বিশ্বকাপে খেলা অসম্ভব নয়। ২০২৬ সাল থেকে বিশ্বকাপ ৩২ দলের বদলে ৪৮ দলে হওয়ায় এশিয়ার জন্য সুযোগও বেড়েছে। এবার সরাসরি আটটি এশিয়ান দল বিশ্বকাপে খেলছে, সঙ্গে আন্তঃমহাদেশীয় প্লে অফ পেরিয়ে এসেছে আরও একটি দল।

ভুটিয়ার মতে, ভারতের সবচেয়ে বড় শক্তি জনসংখ্যা নয়, বরং সেই বিপুল জনগোষ্ঠীর মধ্যে লুকিয়ে থাকা প্রতিভা। কিন্তু সেই প্রতিভা গড়ে তোলার জন্য এখনো শক্তিশালী তৃণমূল কাঠামো, দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা এবং ধারাবাহিক বিনিয়োগের অভাব রয়েছে।

ভারতের সর্বশেষ বড় আন্তর্জাতিক সাফল্য আসে ১৯৭০ সালে। যখন দলটি এশিয়ান গেমসে ব্রোঞ্জ জিতেছিল। সেই দলের সদস্য শ্যাম থাপার মতে, এরপর আর কার্যকর গ্রাসরুট ব্যবস্থা গড়ে ওঠেনি। তার অভিযোগ, অনেক পরিবার এখন সন্তানদের ক্রিকেটে পাঠাতে বেশি আগ্রহী। কারণ সেখানে আইপিএলের মতো বড় আর্থিক সুযোগ রয়েছে। ফলে ছোটবেলা থেকেই অসংখ্য সম্ভাবনাময় ফুটবলার হারিয়ে যাচ্ছে। অথচ সঠিক পরিচর্যা পেলে ফুটবলও হতে পারে সমান সম্ভাবনাময় পেশা।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ভারতের ফুটবলও খুব একটা এগোয়নি। ২০২৩ সালে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ জিতে এবং কয়েকটি আন্তর্জাতিক সাফল্যে ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ের সেরা ১০০-তে ফিরেছিল দলটি। কিন্তু সেই ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে পারেনি। ২০২৬ বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের তৃতীয় রাউন্ডে উঠতে ব্যর্থ হওয়ার পর ২০২৭ এএফসি এশিয়ান কাপেও জায়গা নিশ্চিত করতে পারেনি ভারত। বর্তমানে ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ে তাদের অবস্থান ১৩৬তম। অথচ এবার প্রথমবার বিশ্বকাপে খেলা উজবেকিস্তান রয়েছে ৫২তম এবং জর্ডান ৬৩তম স্থানে।

২০২২ সালে অল ইন্ডিয়া ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি হওয়ার পর কল্যাণ চৌবে ‘ভিশন ২০৪৭’ ঘোষণা করেছিলেন। সেই পরিকল্পনায় ৩ কোটি ৫০ লাখ শিশুকে ফুটবলের সঙ্গে যুক্ত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়। তবে এখন পর্যন্ত তার বাস্তব প্রতিফলন খুব একটা দেখা যায়নি।

এদিকে সাবেক অধিনায়ক সুনীল ছেত্রীর মতে, বিশ্বকাপের স্বপ্ন পূরণ করতে হলে আগে নিয়মিত এশিয়ান কাপে খেলার যোগ্যতা অর্জন করতে হবে এবং এশিয়ার সেরা ১৫ থেকে ২০ দেশের মধ্যে জায়গা করে নিতে হবে। সেই ভিত্তি গড়ে তুলতে পারলেই একদিন বিশ্বের সবচেয়ে জনবহুল দেশটিও ফুটবল বিশ্বকাপের মঞ্চে নিজের জায়গা করে নিতে পারবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *