যুক্তরাষ্ট্রের আরও ২৫০ বছর টিকে থাকা নিয়ে সন্দিহান ৩৮ শতাংশ মার্কিনি

স্বাধীনতার ২৫০ বছর পূর্তির দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে থাকা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ নিয়ে খোদ দেশটির নাগরিকদের মধ্যেই গভীর সংশয় দেখা দিয়েছে। সাম্প্রতিক এক জরিপে দেখা গেছে, উদ্বেগজনক সংখ্যক আমেরিকান মনে করেন না যে আগামী ২৫০ বছরে দেশটি তার বর্তমান একক রূপে টিকে থাকবে। খবর রয়টার্সের।

রয়টার্স/ইপসোস পরিচালিত একটি নতুন সমীক্ষায় দেখা গেছে, ৩৮ শতাংশ উত্তরদাতা বিশ্বাস করেন না যে, এখন থেকে ২৫০ বছর পর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র একটি একক দেশ হিসেবে টিকে থাকবে।

জরিপে অংশ নেওয়া আমেরিকানদের একাংশ মনে করেন, ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রথমবার হোয়াইট হাউসে প্রবেশের পর থেকে বিশ্ব মঞ্চে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান আগের চেয়ে দুর্বল হয়ে পড়েছে। প্রায় ৩০ শতাংশ আমেরিকান মনে করেন, চরমভাবে বিভক্ত এই যুক্তরাষ্ট্রই বিশ্বের সেরা দেশ। অথচ ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদের সময় (২০১৭ সালের নভেম্বরে) পরিচালিত জরিপে এই হার ছিল ৩৮ শতাংশ।

আগামী ৪ জুলাই যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রে স্বাক্ষরের ২৫০ বছর পূর্তি হতে যাচ্ছে। এই ঐতিহাসিক মুহূর্তকে ঘিরে ট্রাম্প বেশ কিছু অনুষ্ঠানের ঘোষণা দিয়েছেন, যা পুরো দেশের জন্য নিরপেক্ষ উদযাপন হওয়ার কথা থাকলেও তিনি নিজেকেই এর কেন্দ্রবিন্দুতে রেখেছেন।

হোয়াইট হাউসের প্রাঙ্গণে ট্রাম্পের ৮০তম জন্মদিনের সঙ্গে মিলিয়ে গত রোববার (১৪ জুন) একটি ইউএফসি ইভেন্ট আয়োজন করা হয়। সেখানে হেভিওয়েট ফাইটার জশ হোকিট বিজয়ী হওয়ার পর আমেরিকার প্রাক্তন ফার্স্ট লেডি মিশেল ওবামাকে লক্ষ্য করে একটি জঘন্য ও অপমানজনক মন্তব্য করেন।

আগামী ২৪ জুন থেকে শুরু হতে যাওয়া ‘ফ্রিডম ২৫০ লাইভ কনসার্ট’ থেকে প্রাথমিকভাবে ঘোষিত প্রায় সমস্ত শিল্পী নিজেদের নাম প্রত্যাহার করে নিয়েছেন। তাঁদের অভিযোগ, এটিকে নিরপেক্ষ অনুষ্ঠান বলে তাঁদের সঙ্গে প্রতারণা করা হয়েছিল, অথচ এটি মূলত ট্রাম্প অনুগতদের দ্বারা আয়োজিত। ফলে তড়িঘড়ি করে ট্রাম্প-সমর্থক কান্ট্রি গায়ক লি গ্রিনউড, ক্রিস্টোফার ম্যাকিও এবং মার্কিন সামরিক বাহিনীর ব্যান্ডগুলোকে যুক্ত করা হয়েছে।

আগামী ৪ জুলাই সন্ধ্যায় নতুন করে সাজানো লিংকন মেমোরিয়াল রিফ্লেক্টিং পুলে প্রধান বক্তা হিসেবে থাকবেন ট্রাম্প। সমালোচকদের মতে, এটি মূলত একটি ‘ট্রাম্প র‍্যালি’ হতে যাচ্ছে- যেখানে তিনি রাজনৈতিক মূল বক্তব্য দেবেন।

রয়টার্স/ইপসোসের সমীক্ষায় অধিকাংশ মার্কিন নাগরিক এই উদযাপন অতিরিক্ত রাজনৈতিক হয়ে উঠছে বলে মন্তব্য করেছেন। এর জবাবে হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র ডেভিস ইঙ্গেল বলেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প নিশ্চিত করছেন- যুক্তরাষ্ট্র তার প্রাপ্য জাঁকজমকপূর্ণ জন্মদিনটি পাচ্ছে। কেবল যারা তীব্র ট্রাম্প-বিদ্বেষী তারাই এতে সমস্যা খুঁজে পাবেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *