২০১০ সালের সালের ২৫ মার্চ আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল গঠনের পর প্রথম বারের মতো চালু হচ্ছে অবকাশ বা ছুটি। প্রথম দফায় ছুটি থাকছে আগামী ১ জুলাই থেকে ২০ জুলাই পর্যন্ত। পরবর্তী ডিসেম্বরেও কয়েকদিন ছুটি নিতে পারবেন। এ জন্য সংশোধন আনা হয়েছে ট্রাইব্যুনাল আইনের কার্যবিধিতে।
ট্রাইব্যুনাল সূত্র জানায়, দেশের সব আদালতে অবকাশ বা ছুটির পদ্ধতি থাকলেও আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে গত ১৬ বছরে কোনো অবকাশকালীর পদ্ধতি ছিল না। তবে গত ১৭ মে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইনের কার্যবিধির সংশোধন করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, ট্রাইব্যুনাল আইনের কার্যবিধির ৫৯ (এ) ধারায় ‘অবকাশ’ সংযোজিত হবে।
৫৯ (এ) ধারায় চারটি উপধারা যুক্ত করা হয়েছে। এসব উপধারায় বলা হয়েছে, ট্রাইব্যুনাল ও রেজিস্ট্রি প্রতিবছরের ১ জুলাই থেকে ২০ জুলাই এবং ১৭ ডিসেম্বর থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত অবকাশ পালন করবে। অবকাশকালীন ট্রাইব্যুনালের কার্যক্রম কমপক্ষে একজন সদস্য অথবা চেয়ারম্যানের মাধ্যমে অব্যাহত থাকবে। অবকাশকালে দায়িত্ব পালনকারী চেয়ারম্যান বা সদস্য বছরের অন্য যেকোনো মাসে একই সময়সীমার অবকাশ ভোগ করতে পারবেন।
কার্যবিধির সংশোধনীতে আরও বলা হয়েছে, ট্রাইব্যুনালের কর্মকর্তা ও অন্যান্য কর্মচারী অবকাশকালীন সময়ে পালাক্রমে দায়িত্ব পালন করবেন। অবকাশের সময় কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের দায়িত্ব বণ্টন করবেন ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বা রেজিস্ট্রার। জুলাই ও ডিসেম্বরে উল্লিখিত অবকাশ ছাড়াও সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিরা অন্যান্য যেসব ছুটি ও সরকারি অবকাশ ভোগ করেন, সেসবও ভোগ করতে পারবেন ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান ও সদস্যরা। এই ছুটিতে জরুরি কিছু কাজ চলবে জানিয়ে তিনি বলেন, কাউকে গ্রেপ্তার করে নিয়ে এল, কাউকে জিজ্ঞাসাবাদে নেওয়া প্রয়োজন—এমন ছোটখাট কাজগুলো চলবে। মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারে আন্তর্জাতিক অপরাধ (আইন), ১৯৭৩–এর আওতায় ২০১০ সালের ২৫ মার্চ গঠন করেছিল আওয়ামী লীগ সরকার। প্রথমে তিন সদস্যের একটি ট্রাইব্যুনাল গঠিত হয়েছিল। এরপর ২০১২ সালের ২২ মার্চ আরও একটি ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হয়।
এ বিষয়ে ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, ১ জুলাই থেকে ২০ জুলাই পর্যন্ত ট্রাইব্যুনাল বন্ধ থাকবে। বন্ধের মধ্যে রুটিন কাজ হবে, স্বাভাবিক কাজ হবে না। আগে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের যাত্রা শুরু হলেও অন্য সব আদালতের মতো অবকাশ ছিল না।