অর্থ না বাড়ালে সামরিক কার্যক্রম কমাতে হবে: ব্রিটিশ প্রতিরক্ষা প্রধান

অতিরিক্ত অর্থ বরাদ্দ না পেলে যুক্তরাজ্যের সশস্ত্র বাহিনীকে প্রশিক্ষণ, মহড়া ও সামরিক কার্যক্রম কমিয়ে আনতে হবে বলে সতর্ক করেছেন দেশটির প্রতিরক্ষা প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল স্যার রিচার্ড নাইটন।

মঙ্গলবার (১৬ জুন) এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানিয়েছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি।

ব্রিটিশ পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষ হাউস অব লর্ডসের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও প্রতিরক্ষা কমিটিতে দেওয়া বক্তব্যে তিনি বলেন, সরকারের প্রস্তাবিত প্রতিরক্ষা বিনিয়োগ পরিকল্পনায় (ডিফেন্স ইনভেস্টমেন্ট প্ল্যান) স্বল্পমেয়াদে বাহিনীর দৈনন্দিন কার্যক্রম পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় অর্থের ঘাটতি রয়েছে।

স্যার রিচার্ড নাইটন বলেন, প্রয়োজনীয় অর্থ না বাড়ানো হলে আমাদের কার্যক্রম, প্রশিক্ষণ ও মহড়ার পরিমাণ কমিয়ে আনতে হবে। এতে সামরিক বাহিনীর প্রস্তুতি ও সক্ষমতা চাপের মুখে পড়বে বলেও তিনি সতর্ক করেন।

এর আগে পর্যাপ্ত অর্থ বরাদ্দ না পাওয়ার অভিযোগ তুলে পদত্যাগ করেন ব্রিটিশ প্রতিরক্ষামন্ত্রী জন হিলি। তিনি বলেন, বর্তমান অর্থ পরিকল্পনা দেশটির সশস্ত্র বাহিনীর প্রস্তুতি কমিয়ে দেবে এবং অভিযানে থাকা সদস্যদের ঝুঁকি বাড়াবে।

পার্লামেন্টে পদত্যাগের বিষয়ে বক্তব্য দিতে গিয়ে হিলি বলেন, আমার সিদ্ধান্ত দেশের ভবিষ্যৎ, সামরিক বাহিনী ও মিত্রদের নিরাপত্তার স্বার্থে নেওয়া হয়েছে।

তিনি অভিযোগ করেন, বর্তমান প্রতিরক্ষা বিনিয়োগ পরিকল্পনায় ব্যয় বৃদ্ধির গতি খুব ধীর এবং ২০৩০ সালের মধ্যে প্রতিরক্ষা খাতে মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ৩ শতাংশ ব্যয়ের বিষয়ে কোনো স্পষ্ট সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়নি।

ব্রিটিশ সরকার ২০৩৫ সালের মধ্যে প্রতিরক্ষা ব্যয় জাতীয় আয়ের ৩ দশমিক ৫ শতাংশে উন্নীত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

প্রতিরক্ষা প্রধান নাইটন বলেন, প্রতিদিনের সামরিক কার্যক্রম, প্রশিক্ষণ ও মহড়া পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় অর্থই এখন সবচেয়ে বড় উদ্বেগের বিষয়। এই অর্থের মাধ্যমেই সেনাসদস্যদের বর্তমান সরঞ্জাম ব্যবহার করে যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত রাখা হয়।

তিনি জানান, নতুন প্রতিরক্ষামন্ত্রী ড্যান জারভিস বর্তমানে অর্থ পরিকল্পনাটি পর্যালোচনা করছেন। তবে অতিরিক্ত অর্থ বরাদ্দের বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।

এদিকে, হিলির পর সশস্ত্র বাহিনী বিষয়ক মন্ত্রী আল কার্নসও পদত্যাগ করেছেন। তিনি অভিযোগ করেন, বর্তমান পরিকল্পনা দেশের প্রতিরক্ষা চাহিদা পূরণের জন্য যথেষ্ট নয় এবং আধুনিক ড্রোন যুদ্ধের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোতে পর্যাপ্ত গুরুত্ব দেওয়া হয়নি।

প্রধানমন্ত্রী স্যার কিয়ার স্টারমার জানিয়েছেন, সরকার প্রতিরক্ষা বাজেট জিডিপির ২ দশমিক ৩ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ২ দশমিক ৬ শতাংশ করছে। তবে ভবিষ্যৎ সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য অর্থ ব্যয়ের অগ্রাধিকার নিয়ে নতুন প্রতিরক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা চলছে।

এসএন/কে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *