প্রায় এক মাসের ব্যবধানে চাঁদপুরের মাছের বাজারে ইলিশের দামে কিছুটা স্বস্তি ফিরতে শুরু করেছে। দেশের অন্যতম বৃহত্তম ইলিশের মোকাম চাঁদপুর বড়স্টেশন মাছঘাটে ইলিশের দাম কেজিপ্রতি ৩০০ থেকে ৫০০ টাকা পর্যন্ত কমেছে। তবে দাম কমলেও বাজারে ইলিশের সরবরাহ এখনো আশানুরূপ বাড়েনি।
ব্যবসায়ীদের দাবি, বাজারে আশানুরূপ ক্রেতা না থাকায় তারা বাধ্য হয়ে দাম কিছুটা কমিয়েছেন। তবে সাগরে মাছ ধরার নিষেধাজ্ঞা শেষ হওয়ায় জেলেরা ইতোমধ্যে সাগরে নেমেছেন। আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে সমুদ্রের ইলিশ ঘাটে পৌঁছালে সরবরাহ বাড়বে এবং দাম আরও কমতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।
বড়স্টেশন মাছঘাট ঘুরে দেখা যায়, বর্তমানে স্থানীয় নদীর ইলিশ দিয়ে ক্রেতাদের চাহিদা মেটানো হচ্ছে। আড়তগুলোতে বড় আকারের ইলিশের উপস্থিতি থাকলেও পরিমাণে তা খুব বেশি নয়।
ব্যবসায়ী নবীর হোসেন ও নাহিদ হোসেন জানান, কয়েক সপ্তাহ আগেও এক কেজি ওজনের ইলিশ ৩ হাজার থেকে ৩ হাজার ৫০০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। বর্তমানে তা ২ হাজার ৫০০ থেকে ৩ হাজার টাকার মধ্যে পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া এক কেজির নিচের ইলিশ এখন ১ হাজার ৮০০ থেকে ২ হাজার টাকার মধ্যে বিক্রি হচ্ছে।
তারা মনে করেন, সাগরের ইলিশ আসা শুরু করলে আগামী ৮-১০ দিনের মধ্যে দাম আরও ২০০-৩০০ টাকা কমতে পারে।
ইলিশ আড়তদার জিয়া প্রধানীয়া বলেন, সমুদ্রে মাছ ধরা মাত্র শুরু হয়েছে। সেখানকার ইলিশ চাঁদপুরে পৌঁছাতে আরও এক সপ্তাহ সময় লাগবে। জুলাই মাস থেকে পূর্ণাঙ্গ মৌসুম শুরু হলে সরবরাহ দ্বিগুণ হতে পারে, তখন দাম সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে চলে আসবে।
মাছঘাটে মাছ কিনতে আসা আশিকুর রহমান তুষার জানান, গত সপ্তাহের তুলনায় দাম কিছুটা কমলেও বাজারে মাছের পরিমাণ এখনো বেশ কম।
অন্য এক ক্রেতা নয়ন বলেন, চাঁদপুরের ইলিশ তাজা ও বড় হওয়ায় রাজশাহীর তুলনায় এখান থেকে কেনার আগ্রহ বেশি।
চাঁদপুর মৎস্য বণিক সমবায় সমিতির সাধারণ সম্পাদক শবে বরাত সরকার জানান, বর্তমানে ঘাটে প্রতিদিন মাত্র ১০ থেকে ১২ মণ ইলিশ সরবরাহ হচ্ছে, যা চাহিদার তুলনায় অনেক কম। তবে আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে সমুদ্রের মাছ আসা শুরু করলে সরবরাহ ঘাটতি কেটে যাবে এবং দামের প্রকৃত চিত্র বোঝা যাবে। সরবরাহ না বাড়লে দাম বড় আকারে কমার সম্ভাবনা কম হলেও বর্তমান বাজার পরিস্থিতি বিবেচনায় দাম কিছুটা নিম্নমুখী থাকতে পারে।