মাটির নিচের (আন্ডারগ্রাউন্ড) টেলিফোন ক্যাবল তার চুরির একের পর এক ঘটনায় খুলনা বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয় ও বিভিন্ন সরকারি দফতরসহ প্রায় ৩ হাজার গ্রাহকের টেলিফোন দীর্ঘদিন ধরে অচল হয়ে রয়েছে।
সর্বশেষ গত ৩ জুন খুলনার আবু নাসের হাসপাতালের সামনে মাটির নিচের টেলিফোন ক্যাবলের তার চুরির ঘটনা ঘটে। ওই দিনই খালিশপুর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়। এর আগে গত ২৬ মে খালিশপুর এনএসআই অফিসের সামনেও একই ধরনের তার চুরির ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনাতেও একই দিন খালিশপুর থানায় জিডি করা হয়।
খুলনা অঞ্চলের বিটিসিএলের প্রধান জেনারেল ম্যানেজার শেখ মাহফুজুর রহমান জানান, খুলনা ডিসি অফিসের সামনে, সোনাডাঙ্গা ও শিল্প ব্যাংকের সামনেসহ বিভিন্ন স্থানে কালভার্টের নিচের পাইপ থেকে মাটির নিচের দামি তামার তার চুরি হয়ে গেছে। এছাড়া ওয়াসার রাস্তা খোঁড়াখুঁড়ি এবং সিটি কর্পোরেশনের ড্রেন নির্মাণকাজের সময় ড্রেন খোঁড়া স্থান থেকেও এই মূল্যবান তারগুলো চুরি হচ্ছে। প্রতিটি চুরির ঘটনায় থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে।
বিটিসিএলের খালিশপুর জোনের বিভাগীয় কর্মকর্তা জুবায়ের রহমান জানান, খালিশপুর এনএসআই অফিসের পুকুরপাড় এলাকায় আন্ডারগ্রাউন্ড ক্যাবল চুরির পর এ এলাকার প্রায় ৮০০ টেলিফোন অচল হয়ে পড়েছে। এই জোনের আওতায় বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়সহ বহু গুরুত্বপূর্ণ সরকারি দফতর রয়েছে। ক্যাবল মেরামত ব্যয়বহুল ও সময়সাপেক্ষ হওয়ায় শিগগিরই এসব ফোন চালুর সম্ভাবনা নেই। তাই গ্রাহকদের কথা বিবেচনা করে হিসাব বিভাগকে আপাতত মাসিক বিল বন্ধ রাখার অনুরোধ জানানো হয়েছে।
এদিকে বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে যাদের জরুরি টেলিফোন প্রয়োজন, তাদের ইন্টারনেট-সংযুক্ত নতুন টেলিফোন লাইন দেওয়া হচ্ছে। তবে এই ফোন ব্যবহারের জন্য বিদ্যুৎ সরবরাহ থাকতে হবে এবং টেলিফোন বিলের পাশাপাশি ইন্টারনেট বিলও পরিশোধ করতে হবে।
খুলনা অঞ্চলের বিটিসিএলের প্রধান জেনারেল ম্যানেজার শেখ মাহফুজুর রহমান বলেন, আমাদের কর্মীরা তারসহ চোর ধরে পুলিশে সোপর্দ করলেও দুই-এক দিনের মধ্যেই তারা জামিনে মুক্তি পেয়ে যায়। এসব চুরি হওয়া মূল্যবান তার শহরের শেখপাড়ার পুরোনো লোহা বিক্রির দোকানে বিক্রি হচ্ছে।
অন্যদিকে ক্ষোভ প্রকাশ করে নূর নগর এলাকার অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক জিল্লুর রহমান জানান, তার টেলিফোনটি ছয় মাসেরও বেশি সময় ধরে অচল। কিন্তু প্রতি মাসে নিয়মিত ফিক্সড বিল আসছে। এ বিষয়ে অভিযোগ জানাতে টেলিফোন অফিসে যোগাযোগ করা হলে, অফিসের নিজস্ব টেলিফোন লাইনটিও বন্ধ পাওয়া যায়।