ইরানি হামলার পর জেরুজালেম-তেল আবিবে মার্কিন দূতাবাসের কার্যক্রম বন্ধ

ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় জেরুজালেমে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস তাদের জেরুজালেম ও তেল আবিবের কনস্যুলার সেবা সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করেছে।

আজ সোমবার (৮ জুন) ভোরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে প্রকাশিত এক নিরাপত্তা সতর্কবার্তায় দূতাবাস জানায়, পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র সরকারের সব কর্মী এবং তাদের পরিবারের সদস্যদের নিরাপদ আশ্রয়ে অবস্থান করতে বলা হয়েছে। খবর আনাদোলুর। 

বিবৃতিতে বলা হয়, ইসরায়েলের হোম ফ্রন্ট কমান্ড বিভিন্ন অঞ্চলে সতর্কতা জারি করায় কর্মীদের ‘রেড অ্যালার্ট’ সাইরেন বাজলেই সুরক্ষিত আশ্রয়কেন্দ্রে যাওয়ার জন্য প্রস্তুত থাকতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বর্তমান পরিস্থিতিতে জেরুজালেমে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস এবং তেল আবিবে অবস্থিত এর শাখা কার্যালয়ের কনস্যুলার বিভাগ সোমবার বন্ধ থাকবে বলে জানানো হয়েছে।

এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে পুনরায় আলোচনার টেবিলে ফিরে আসার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি মনে করেন, কয়েক দিনের মধ্যেই তেহরানের সঙ্গে একটি চূড়ান্ত সমঝোতা সম্ভব হতে পারে।

ফক্স নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, তোমরা ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছ, সেটাই যথেষ্ট। এখন আলোচনায় ফিরে এসে একটি চুক্তি করো।

ট্রাম্প আরও বলেন, আগামী সোমবার, মঙ্গলবার অথবা বুধবারের মধ্যেই একটি চুক্তি স্বাক্ষর হতে পারে।

রোববার (৭ জুন) রাতে ইরান উত্তর ইসরায়েলের দিকে একাধিক দফায় ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে। এর আগে ইসরায়েল বৈরুতের দক্ষিণাঞ্চলে বিমান হামলা চালায়। ইসরায়েলের দাবি, হামলার লক্ষ্য ছিল হিজবুল্লাহর একটি কমান্ড ও পরিকল্পনা কেন্দ্র।

লেবাননের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, ওই হামলায় অন্তত দুইজন নিহত এবং ১১ জন আহত হয়েছেন।

গত এপ্রিলের শুরুতে কার্যকর হওয়া নাজুক যুদ্ধবিরতির পর এই প্রথম ইরান সরাসরি ইসরায়েলের দিকে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালাল। ৮ এপ্রিল একটি অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও এর বাস্তবায়ন নিয়ে মতবিরোধ এবং আঞ্চলিক পরিস্থিতির পরিবর্তনের কারণে পরবর্তী আলোচনা স্থবির হয়ে পড়ে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *