৮৪ বছরে এসে বড় আফসোস অমিতাভের, কী সেই আক্ষেপ

প্রায় ছয় দশকের দীর্ঘ ও সফল অভিনয় ক্যারিয়ারের পর ৮৪ বছর বয়সে এসে এক বড় আফসোসের কথা প্রকাশ করেছেন মেগাস্টার অমিতাভ বচ্চন। জীবনের এত বছর পেরিয়ে গেলেও কোনও বাদ্যযন্ত্র বাজানো শিখতে না পারাই নাকি তার জীবনের সবচেয়ে বড় অনুশোচনা।

‘কৌন বনেগা ক্রোড়পতি ১৮’-এর সেটে কৃতজ্ঞ নামের এক প্রতিযোগীর সঙ্গে আলাপকালে এই অনুভূতির কথা জানান বিগ বি। সেই প্রতিযোগী তাকে জিজ্ঞেস করেছিলেন, তিনি কি জীবনের কোনও একটি পুরনো দিনে ফিরে যেতে চান, নাকি কখনও যাপন না করা নতুন কোনও দিনের অভিজ্ঞতা নিতে চান? উত্তরে অমিতাভ বচ্চন দ্বিতীয় বিকল্পটি বেছে নেন।

অমিতাভ জানান, তিনি সেই দিনটির অভিজ্ঞতা নিতে চান, যেদিন তিনি অবশেষে কোনও বাদ্যযন্ত্র বাজানো শিখবেন। সংগীতের প্রতি গভীর অনুরাগের কথা জানিয়ে তিনি বলেন, আমার সংগীত শেখার তীব্র ইচ্ছা ছিল, কিন্তু আমি শিখতে পারিনি। গায়ক, সংগীতশিল্পী ও সেতারবাদকেরা যখন এত সুন্দর পরিবেশন করেন, তা শুনে আমার কষ্ট হয়, কেন আমি কখনও সংগীত শিখলাম না! আমি ঘরে সম্ভাব্য সব ধরনের বাদ্যযন্ত্র সংগ্রহ করে রেখেছি।

বাড়িতে প্রায় সব ধরনের বাদ্যযন্ত্র থাকা সত্ত্বেও কেন তা শেখা হয়নি, তা নিয়ে ৮৪ বছর বয়সী এই অভিনেতা আরও বলেন, আমি এমনকি ঘরে রাখা বাদ্যযন্ত্রগুলোকে ফুল ও মালা দিয়ে সাজিয়ে রাখি, এই আশায় যে কোনও একদিন হয়তো আমি এগুলো বাজানো শিখতে পারবো।

৮৪ বছর বয়স পর্যন্ত বাদ্যযন্ত্র না শিখতে পারাকে নিজের ‘গভীর আক্ষেপ’ হিসেবে বর্ণনা করেন তিনি। বাদ্যযন্ত্র বাজাতে না জানলেও নিজের ক্যারিয়ারে বেশ কিছু তুমুল জনপ্রিয় গানে কণ্ঠ দিয়েছেন অমিতাভ। ১৯৭৯ সালে ‘মি. নটবরলাল’ সিনেমার ‘মে রে পাস আও মে রে দোস্তো’ গানের মাধ্যমে গায়ক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন তিনি। পরবর্তীতে ‘সিলসিলা’ ছবির ‘রং বরসে’ ও ‘নীলা আসমান’, ‘অমর আকবর অ্যান্থনি’র ‘মাই নেম ইজ অ্যান্টনি গনসালভেস’ এবং ‘লাওয়ারিশ’ সিনেমার ‘মে রে অঙ্গনে মে’ গানে কণ্ঠ দেন।

পরবর্তীতে ২০০০-এর দশকে আদনান সামির সঙ্গে ‘কাভি নেহি’, ‘বাগবান’ সিনেমার ‘হোরি খেলে রঘুবীরা’, ‘কাহানি’র ‘একলা চলো রে’ এবং ‘১০২ নট আউট’ সিনেমার ‘বাডুম্বা’-র মতো জনপ্রিয় গানে তার কণ্ঠ ছড়িয়ে পড়েছিল শ্রোতাদের হৃদয়ে। বর্তমানে সনি এন্টারটেইনমেন্ট টেলিভিশনে সোম থেকে শুক্রবার রাত ৯টায় প্রচারিত ‘কৌন বনেগা ক্রোড়পতি ১৮’-এর সঞ্চালনা করছেন এই বর্ষীয়ান অভিনেতা।

সূত্র: এনডিটিভি

এসএন/পিডিকে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *