মেহেরপুর জেলায় বিভিন্ন সময়ে হারিয়ে যাওয়া ও চুরি হওয়া ৮২টি মোবাইল ফোন এবং প্রতারণার মাধ্যমে হাতিয়ে নেওয়া প্রায় ১৪ লাখ টাকা উদ্ধার করে প্রকৃত মালিকদের হাতে তুলে দিয়েছে জেলা পুলিশ। আজ বৃহস্পতিবার (৭ মে) বেলা ১১টার দিকে পুলিশ সুপারের কার্যালয় প্রাঙ্গণে এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এসব সামগ্রী আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করা হয়।
মেহেরপুর জেলা পুলিশ সুপার উজ্জ্বল কুমার রায় ভুক্তভোগীদের হাতে হারানো মোবাইল ও উদ্ধারকৃত নগদ অর্থ তুলে দেন।
জেলা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মেহেরপুর সদর, গাংনী ও মুজিবনগর থানা এলাকায় মোবাইল হারানো এবং প্রতারণার ঘটনায় ভুক্তভোগীদের করা সাধারণ ডায়েরির (জিডি) ভিত্তিতে জেলা পুলিশের সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন সেল গত ফেব্রুয়ারি থেকে এপ্রিল পর্যন্ত বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে মোট ৮২টি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়, যার মধ্যে সদর থানার ৩৭টি, গাংনী থানার ২৯টি এবং মুজিবনগর থানার ১৬টি ফোন রয়েছে।
এছাড়া ভুলবশত অন্য নম্বরে চলে যাওয়া এবং প্রতারণার মাধ্যমে আত্মসাৎ করা নগদ ৪৯ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়েছে। পাশাপাশি পাঁচটি প্রতারণার মামলায় আরও ১৩ লাখ ২৩ হাজার টাকা উদ্ধার করতে সক্ষম হয় পুলিশ।
নিজেদের হারানো জিনিস ফিরে পেয়ে ভুক্তভোগীরা উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন। তারা জানান, এক সময় ধারণা ছিল মোবাইল হারিয়ে গেলে বা টাকা ভুল নম্বরে চলে গেলে তা আর ফেরত পাওয়া সম্ভব নয়, কিন্তু পুলিশের তৎপরতায় সেই ধারণা বদলে গেছে।
অনুষ্ঠানে পুলিশ সুপার উজ্জ্বল কুমার রায় বলেন, তথ্য-প্রযুক্তির এই যুগে মোবাইল ফোন ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহারে সবাইকে অত্যন্ত সচেতন হতে হবে। তিনি পুরাতন মোবাইল কেনার ক্ষেত্রে বক্স ও ক্যাশ মেমো সংগ্রহ করার এবং বিকাশ বা নগদের ওটিপি কারো সঙ্গে শেয়ার না করার পরামর্শ দেন।
উল্লেখ্য, গত এপ্রিল মাসে সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন সেলের মাধ্যমে ১৮টি ফেসবুক ও ৯টি হোয়াটসঅ্যাপ আইডি রিকভারি করা হয়েছে। এছাড়া নিখোঁজ দুইজন ভিকটিমকে উদ্ধারেও সফল হয়েছে সেলটি। অনুষ্ঠানে জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।