আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় যাদের ওপর আস্থা রাখার কথা, তাদের বিরুদ্ধেই এবার মাদকের চালান গায়েব করে দেওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা থানায় মাদকবিরোধী অভিযানের নাটক সাজিয়ে ১০ লাখ টাকার বিনিময়ে প্রাইভেটকারসহ বিপুল পরিমাণ মাদকের চালানের খবর ধামাচাপা দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে।
এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) রাতে অভিযুক্ত চার পুলিশ সদস্যকে হাতীবান্ধা থানা থেকে প্রত্যাহার করে লালমনিরহাট পুলিশ লাইনে সংযুক্ত (ক্লোজড) করা হয়েছে। একই সঙ্গে ঘটনাটি তদন্তে কমিটি গঠন করেছে পুলিশ প্রশাসন।
ক্লোজড হওয়া পুলিশ সদস্যরা হলেন- হাতীবান্ধা থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) তুহিন ও রিমন মিয়া এবং সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) আব্দুল হাকিম ও লুৎফর রহমান।
অনুসন্ধানে জানা যায়, গত ১৭ জুলাই দুপুরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে হাতীবান্ধার বোর্ডের হাট বাজারের পূর্বপাশে এক চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ীর বাড়িতে অভিযান চালান ওই চার পুলিশ কর্মকর্তা। অভিযানে একটি সাদা প্রাইভেটকার, মোটরসাইকেল ও বিপুল পরিমাণ মাদক উদ্ধার করা হয়। তবে উদ্ধারকৃত আলামত থানায় না নিয়ে কয়েক কিলোমিটার দূরে ভেলাগুড়ি ইউনিয়ন পরিষদ চত্বরে নিয়ে রাখা হয়।
বিকাল ৩টা থেকে শুরু হয় দীর্ঘ দরকষাকষি। ইউপি কার্যালয়ের সিসিটিভি ফুটেজে সাদা পোশাকে অভিযুক্ত চার পুলিশ কর্মকর্তাকে স্থানীয় ইউপি সদস্য ও সহযোগীদের নিয়ে গোপন বৈঠকে বসতে দেখা যায়। একাধিক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, দরকষাকষি শেষে ১০ লাখ টাকার বিনিময়ে উদ্ধারকৃত গাড়ি ও মাদকের চালানটি ছেড়ে দেওয়া হয়। অভিযোগ রয়েছে, ভিডিও ফুটেজ প্রকাশের ভয়ে এএসআই আব্দুল হাকিম এক স্থানীয় ইউপি কর্মচারীর মোবাইল ফোন থেকে সিসিটিভি মনিটরিং অ্যাপ জোরপূর্বক মুছে দেন।
এর পরদিনই (১৮ জুলাই) ভবানীপুর গ্রামে একই কায়দায় ভিত্তিহীন অভিযানে গেলে গ্রামবাসীর তীব্র প্রতিবাদের মুখে পিছু হটতে বাধ্য হয় এই পুলিশ দলটি। স্থানীয়দের দাবি, এই চার কর্মকর্তা দীর্ঘদিন ধরে এলাকাটিতে ভয়ভীতি দেখিয়ে অর্থ আদায়ের একটি সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছিলেন।
অভিযোগের ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে অভিযুক্ত এসআই তুহিন ঘটনাটি এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন এবং সংবাদ প্রকাশ না করার অনুরোধ জানান।
বিষয়টি নিশ্চিত করে হাতীবান্ধা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশরাফুজ্জামান সরকার বলেন, প্রাথমিক তথ্যের ভিত্তিতে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে এবং অভিযুক্ত চার কর্মকর্তাকে থানা থেকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়েছে।
লালমনিরহাটের পুলিশ সুপার মো. আসাদুজ্জামান বলেন, অভিযোগটি নজরে আসার পর তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা মিললে তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।