স্বামী-স্ত্রীর আপত্তিকর ছবি দিয়ে অপপ্রচার, থানায় টাকার বিনিময়ে মীমাংসার অভিযোগ

ময়মনসিংহের মুক্তাগাছা থানায় মোবাইল ও ই-মেইল হ্যাক করে ছবি অপপ্রচারের অভিযোগে আটক এক যুবককে মামলা না দিয়ে ছেড়ে দিতে এক লাখ ৮০ হাজার টাকা লেনদেনের চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে। মুক্তাগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কামরুল ইসলামের (ওসি) মধ্যস্থতায় থানায় বসেই অভিযোগকারী ও বাদী পক্ষ আপসনামা সম্পন্ন করে সাধারণ ডায়েরি (জিডি) প্রত্যাহার করে নিয়েছে।

নথি ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মুক্তাগাছা পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের কাউনডাঙ্গারচর এলাকার বাসিন্দা মো. আব্দুল্লাহর (২৪) মোবাইল ও ই-মেইল হ্যাক করে তার ও তার স্ত্রীর ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে অপপ্রচার চালানো হচ্ছিল। এ ঘটনায় গত ২৭ আগস্ট মুক্তাগাছা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি দায়ের করেন তিনি। ওই জিডির সূত্র ধরে ২৮ আগস্ট রাতে ত্রিশাল থানা পুলিশের সহযোগিতায় ত্রিশাল উপজেলার বিয়ারা উত্তরপাড়া এলাকার আরমান আহম্মেদকে (২১) আটক করে মুক্তাগাছা থানা পুলিশ।

অভিযোগ রয়েছে, আটকের রাতে আভিযানিক দল আসামির পরিবারকে টাকা-পয়সা নিয়ে ত্রিশাল থানায় আসার তাগিদ দেন। তবে সদর ও মুক্তাগাছা সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আসাদুজ্জামান শাকিল ওসির কাছে বিষয়টির খবর নিলে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জেনে যাওয়ায় তাৎক্ষণিক রফা করা সম্ভব নয় জানিয়ে পুলিশ সদস্যরা পরিবারটিকে শনিবার সকালে মুক্তাগাছা থানায় আসতে বলেন।

শনিবার (২৯ আগস্ট) সকালে মুক্তাগাছা থানায় উভয় পক্ষ উপস্থিত হলে ওসির মধ্যস্থতায় দর-কষাকষির একপর্যায়ে এক লাখ ৮০ হাজার টাকায় মীমাংসার চুক্তি হয়।

ঘুষ লেনদেনের বিষয়টি আসামির ভাই আবদুল্লাহ সরাসরি স্বীকার করে জানান, ওসি নিজেই পুরো বিষয়টি ডিল করেছেন এবং টাকা নিয়ে থানা ভবনেই সমাধান করে দিয়েছেন।

অন্যদিকে লেনদেনকৃত টাকার একটি অংশ পাওয়ার কথা স্বীকার করেছেন অভিযোগকারী মো. আব্দুল্লাহও। তিনি জানান, পুলিশের মধ্যস্থতায় লিখিত মুচলেকার মাধ্যমে তারা আপস করেছেন। তবে কত টাকা পেয়েছেন—সেই প্রশ্ন করা মাত্রই তিনি ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন। মীমাংসাপত্রে দেখা যায়, বিবাদী আরমান লিখিত মুচলেকা প্রদান করেন যে ভবিষ্যতে ছবি প্রচার করবেন না, আর বাদী জিডি প্রত্যাহারের আবেদন জমা দেন।

বিষয়টি নিয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আসাদুজ্জামান শাকিল জানান, অন্য একটি মামলার বিষয়ে খোঁজ নিতে মুক্তাগাছা থানায় গিয়ে এই প্রসঙ্গটি জানতে পারি। অর্থনৈতিক লেনদেনের বিষয়টি আপনার কাছ থেকে শুনেছি। বিষয়টি পুলিশ সুপারকে জানিয়ে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

ঘুষ লেনদেনের অভিযোগের বিষয়টি মুক্তাগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামরুল ইসলাম প্রথমে অস্বীকার করেন। পরবর্তীতে যথেষ্ট প্রমাণ থাকার কথা বুঝতে পেরে সংবাদ না প্রকাশের জন্য অনুনয়-বিনয় করেন।

অন্যদিকে ময়মনসিংহের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ কামরুল হাসান জানান, এ ঘটনায় অবশ্যই মামলা হওয়া দরকার ছিল। ওসি বিষয়টিকে তার কাছে সহজভাবে উপস্থাপন করেছিলেন। ঘুষ লেনদেনের বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হবে। আসামিকে পুনরায় গ্রেপ্তারের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *