স্বামী ও দুই সন্তানকে ফেলে রেখে আপন ভাসুরের সঙ্গে পালিয়ে নতুন সংসার শুরু করেছিলেন এক নারী। কিন্তু পরকীয়ার সেই টানও বেশিদিন স্থায়ী হয়নি। পারিবারিক কলহ আর নতুন এক প্রেমিকের মোহ মিলে শেষ পর্যন্ত সেই ভাসুর স্বামীকেও নৃশংসভাবে খুন হতে হলো সেই নারীর হাতে।
ভারতের গুজরাটের আহমেদাবাদ সিটি ক্রাইম ব্রাঞ্চের নিবিড় অনুসন্ধানে সাধারণ ‘দুর্ঘটনাবশত মৃত্যু’ হিসেবে ধামাচাপা পড়া এই রোমহর্ষক হত্যাকাণ্ডের মূল রহস্য উন্মোচিত হয়েছে। সুরেন্দ্রনগর জেলার ধ্রাঙ্গাধ্রা তালুকের বাসিন্দা শান্তিগিরি বিষ্ণুগিরি গোস্বামীর রহস্যজনক নিখোঁজ ও স্থানীয় একটি খাল থেকে লাশ উদ্ধারের ঘটনার তদন্ত করতে গিয়ে পুলিশ এই চাঞ্চল্যকর পরকীয়া ও খুনের জটিল জাল ফাঁস করে। খবর এনডিটিভির।
পুলিশের তদন্তে জানা যায়, মূল অভিযুক্ত জাগৃতি গোস্বামীর প্রথম বিয়ে হয়েছিল সুখদেবগিরি গোস্বামী নামের এক ব্যক্তির সঙ্গে, যার ঘরে তাদের দুটি সন্তান রয়েছে। তবে বিয়ের কিছুদিন পর জাগৃতি তার স্বামীর বড় ভাই বা ভাসুর শান্তিগিরির প্রেমে পড়েন। একপর্যায়ে প্রথম স্বামী ও সন্তানদের ফেলে রেখে তার সঙ্গেই ঘর ছাড়েন। পরে তারা অন্যত্র বিয়ে করে নতুন জীবন শুরু করেন। শান্তিগিরি ট্রাক ড্রাইভার হিসেবে কাজ করতেন। পেশাগত কারণে শান্তিগিরি সপ্তাহের পর সপ্তাহ বাড়ির বাইরে থাকার সুযোগে কান্তিলাল ওরফে ভরতভাই নামের এক প্রতিবেশীর সঙ্গে আবারও পরকীয়া সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন জাগৃতি। শান্তিগিরির সঙ্গে জাগৃতির অনবরত পারিবারিক কলহের জেরে একপর্যায়ে এই প্রেমিক জুটি শান্তিগিরিকে দুনিয়া থেকে সরিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা করেন। প্রথমে তারা ২৫ হাজার রুপির বিনিময়ে ইউনুস নামের এক ভাড়াটে খুনিকে নিয়োগ করলেও সে ভয় পেয়ে খুন না করেই শান্তিগিরির ঘুমন্ত ছবি তুলে ‘কাজ শেষ’ বলে টাকা হাতিয়ে নেয়। পরদিন সকালে শান্তিগিরি জীবিত জেগে উঠলে ভাড়াটে খুনির সেই প্রতারণা ফাঁস হয়ে যায়।
ভাড়াটে খুনি ব্যর্থ হওয়ার পর জাগৃতি ও কান্তিলাল নিজেরাই শান্তিগিরিকে হত্যার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেন। ঘটনার রাতে কান্তিলাল নিজে শান্তিগিরির গলা টিপে ধরেন। জাগৃতি বালিশ দিয়ে তার মুখ চেপে ধরে শ্বাসরোধ করে তাকে হত্যা করেন। প্রতিবেশীদের চোখ ফাঁকি দিতে প্রথমে লাশটি খাটের পেছনে লুকিয়ে রাখা হয়। এরপর লাশ গুম করার জন্য জাগৃতি তার ‘তৃতীয় প্রেমিক’ দীপক ওরফে মুন্নার সাহায্য নেন। দীপক একটি গাড়ির ব্যবস্থা করার পর তারা তিনজন মিলে শান্তিগিরির লাশটি সুরেন্দ্রনগরের একটি খালে ফেলে দেন। যেন সবাই বিষয়টিকে দুর্ঘটনাবশত পানিতে ডুবে মৃত্যু বলে মনে করে। আইনি ঝামেলা এড়াতে তারা কোনো নিখোঁজ ডায়েরি না করে উল্টো রটিয়ে দেন যে শান্তিগিরি কাজের খোঁজে নিজের ইচ্ছায় বাড়ি থেকে চলে গেছেন।
এই ঘটনায় আহমেদাবাদ ক্রাইম ব্রাঞ্চ মূল হত্যাকারী জাগৃতি গোস্বামী ও তার প্রেমিক কান্তিলাল সাবারিয়াকে আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রেপ্তার করেছে।