সৌদি আরবে পাকিস্তানের সেনা সদস্য ও সামরিক উপস্থিতি নতুন কিছু নয়, বরং বহু দশক ধরেই বিভিন্ন সক্ষমতা ও পেশাগত ক্ষেত্রে সেখানে পাকিস্তানি বাহিনী দায়িত্ব পালন করে আসছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম সিএনএনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এই তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন দেশটির আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরের (আইএসপিআর) মহাপরিচালক লেফটেন্যান্ট জেনারেল আহমেদ শরীফ চৌধুরী। খবর জিও নিউজের।
বুধবার (৭ অক্টোবর) সিএনএনের প্রশ্নের জবাবে আইএসপিআর ডিজি বলেন, ‘মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তির আওতায় নতুন করে সেনা মোতায়েনের গুঞ্জনের মধ্যে মনে রাখতে হবে, সৌদিতে পাকিস্তানের সশস্ত্র বাহিনীর অবস্থান কয়েক দশকের পুরোনো। পাকিস্তান, সৌদি আরব এবং তুরস্কের মধ্যেকার নতুন এই ‘মক্কা জোট’ হুট করে বা কোনো শূন্যতা থেকে তৈরি হয়নি; বরং তিন দেশের মধ্যবর্তী দীর্ঘদিনের কূটনৈতিক, রাজনৈতিক, সামরিক এবং ঐতিহাসিক সম্পর্কের ওপর ভিত্তি করে এই ঐকমত্য গড়ে উঠেছে।
সম্প্রতি সৌদি আরবের রিয়াদে ‘মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তির’ এক জরুরি বৈঠকে যৌথ প্রতিরক্ষা প্রতিশ্রুতি অবিলম্বে বাস্তবায়ন এবং নির্ধারিত সামরিক সক্ষমতা ও বাহিনী দ্রুত মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত যৌথ বিবৃতি অনুসারে, গত সোমবার রিয়াদে অনুষ্ঠিত ওই জরুরি বৈঠকে পাকিস্তান, সৌদি আরব এবং তুরস্ক একযোগে সামরিক প্রস্তুতি ও সামর্থ্য বাড়ানোর এই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে।
তিন দেশের পক্ষ থেকে জানানো হয়, নিজস্ব জাতীয় আইন ও অনুমোদিত কাঠামোর আওতায় এই সামরিক মোতায়েন সম্পন্ন করা হবে। এর মূল উদ্দেশ্য হলো যেকোনো প্রতিরক্ষা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় পারস্পরিক সামরিক একীভূতকরণ, দ্রুত সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং সামগ্রিক প্রতিরক্ষাকে জোরদার করা।
উল্লেখ্য, গত আগস্ট মাসে পাকিস্তান, সৌদি আরব ও তুরস্কের মধ্যে ঐতিহাসিক ‘মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি’ স্বাক্ষরিত হয়। এই সমঝোতার প্রধান শর্ত অনুযায়ী— জোটভুক্ত যেকোনো একটি সদস্য রাষ্ট্রের ওপর সশস্ত্র আক্রমণ বা আগ্রাসনকে সবকটি দেশের ওপর হামলা হিসেবে গণ্য করা হবে।