আদালত, দুদক, মন্ত্রনালয়সহ উর্ধবতনদের ম্যানেজ করার ঐশ্বরিক ক্ষমতা রয়েছে আমীর হোসাইন চৌধুরীর। ‘বন খেকো’ বন অধিদপ্তরের প্রধান বন সংরক্ষক (সিসিএফ) আমীর হোসাইন চৌধুরী ২৫ মার্চ ২০২০ তারিখে দায়িত্ব গ্রহণ করে এখন পর্যন্ত দায়িত্বে বহাল তবিয়তে আছেন। ৫ আগস্ট এর পর চেয়ার নড়ে গেঝে প্রায় সব দফতর প্রধানদের। শেখ হাসিনা সরকার গেছে, চলে গেছে ইন্টেরিম সরকারও। বর্তমানে তারেক রহমান সরকারেরও দুই মাস চলে পূরণ হলো। দেশের সবক্ষেত্রেই ব্যাপক পরিবর্তন হয়েছে। ম্যাজিক ম্যান আমীর হোসাইন চৌধুরী কোনো এক বিশেষ ম্যাজিক দিয়ে সবাইকে ম্যানেজ করো দোর্দন্ড প্রতাপে বন অধিদপ্তরের বুনো কান্ড চালিয়ে যাচ্ছেন।
বর্তমান প্রধান বন সংরক্ষক আমির হোসাইন চৌধুরীকে বলা হয় আওয়ামী সরকারের প্রেতাত্মা। বন বিভাগের নির্ভরযোগ্য একটি সূত্র জানায়, পোস্টিং বাণিজ্যের মাধ্যমে সাবেক বন মন্ত্রী সাহাব উদ্দিনের আমলে অবৈধভাবে শত শত কোটি টাকা বাণিজ্য করেছে প্রধান বন সংরক্ষকের এই সিন্ডিকেট। এই সিন্ডিকেটের নেপথ্যে নায়ক ছিলেন মন্ত্রী সাহাব উদ্দিনের ছেলে জাকির হোসেন জুমন। বাবা মন্ত্রী হওয়ার পরই জুমন লন্ডন থেকে দেশে চলে আসেন। ঢাকায় বাবার বাসায় থেকে মন্ত্রণালয় ও বনবিভাগের বিভিন্ন বিষয়ে হস্তক্ষেপ শুরু করেন জুমন। মাত্রাতিরিক্ত ঘুষ গ্রহণের কারণে তাকে বনবিভাগের অনেকেই জুম্মন কসাই হিসেবে চিনেন বলে জানিয়েছেন একাধিক কর্মকর্তা। ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকার বিদায় নিলেও তিনি সিন্ডিকেটের মাধ্যমে পোস্টিং বাণিজ্যের মাধ্যমে হাতিয়ে নিয়েছেন শত শত কোটি টাকা।
বন অধিদপ্তরের বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়নে অনিয়ম ও বরাদ্দ করা অর্থ আত্মসাৎ, বদলি ও পদোন্নতিতে ঘুষ-দুর্নীতির নানা ঘটনা ঘটেছে। চারা রোপণে বরাদ্দ অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে। গাছের অস্তিত্ব নেই- এমন স্থানে বসানো হয়েছে সরকারি সাইনবোর্ড। পরিচর্যার অভাবে রোপিত চারাগুলোর বেশিরভাগই মারা গেছে। এ ছাড়া বদলি ও পদায়নের ক্ষেত্রে আর্থিক লেনদেন এবং প্রকল্প বাস্তবায়নে অস্বচ্ছতার বড় ধরনের অনিয়মের প্রমাণ মিলেছে। এসব অনিয়মে মূল ভূমিকায় রয়েছেন খোদ প্রধান বন সংরক্ষক মো. আমীর হোসাইন চৌধুরী। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) প্রাথমিক তদন্তে প্রধান বন রক্ষকের ভক্ষকের ভূমিকার প্রমাণ মিলেছে। ভুক্তভোগীরা বলছেন, পদোন্নতি দেওয়ার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্মচারীর সার্ভিস বই, তার এসিআর (বার্ষিক গোপনীয় প্রতিবেদন) যাচাই করে সুপারিশ করার বিধান রয়েছে। এসবের কোনো কিছুর তোয়াক্কা না করে এক শ্রেণির অসাধু কর্মকর্তা নিজেদের স্বার্থ হাসিলে মরিয়া হয়ে উঠেছেন। এ রকম তৎপরতার ফলে বন বিভাগের মাঠপর্যায়ে চরম বিশৃঙ্খলা দেখা দেওয়ার আশঙ্কা করছেন তারা। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, জ্যেষ্ঠতার তালিকা গোপন করা, জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাকে কনিষ্ঠ কর্মকর্তা বানিয়ে জ্যেষ্ঠতার তালিকা প্রস্তুত করাসহ নান অভিযোগতো আছেই। আমীর হোসাইন চৌধুরীর বিরুদ্ধে প্রকল্প বাস্তবায়ন, নিয়োগ ও পদায়নে অনিয়ম এবং দুর্নীতির বিভিন্ন অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগের প্রেক্ষিতে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) অনুসন্ধান চালালেও রহস্যজনক কারনে কর্তৃপক্ষ নিরব!
পদোন্নতি দেওয়ার ক্ষেত্রে আইন মন্ত্রণালয়ের অভিমতকে উপেক্ষা করা হয়েছে। বন অধিদপ্তরে পদোন্নতি প্রদানে অনিয়ম ও দুর্নীতির একাধিক মামলা আদালতে চলছে। মামলার বিষয়টি বন অধিদপ্তর, সচিবালয় এবং সরকারি কর্ম কমিশনকে অবহিত করার পরও বন অধিদপ্তর নানা পদে তড়িঘড়ি করে পছন্দের লোকদের পদোন্নতি দেওয়ার কার্যক্রম শুরু করে বন বিভাগ।
এ ব্যাপারে জানতে বন অধিদপ্তরের একাধিক কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা কথা বলতে রাজি হননি। প্রধান সংরক্ষক মো. আমীর হোসাইন চৌধুরীকে একাধিকবার কল দিয়েও বক্তব্য পাওয়া যায়নি। একাধিক দিন তার দপ্তরে গিয়েও সাক্ষাৎ পাওয়া যায়নি।
জ্যেষ্ঠতা, যোগ্যতা ও বিদ্যমান বিধিমালা উপেক্ষা করে পদোন্নতি দেয়ায় আমির হোসাইন চৌধুরীর ঝুড়ি নেই। তার গুডলিস্টে থাকলে পদোন্নতি কোনো বিষয়ই না। সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো, একাধিক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনের মামলা, বিভাগীয় তদন্ত ও ফৌজদারি মামলা চলমান থাকা সত্ত্বেও তাদের ডেপুটি রেঞ্জার পদে পদোন্নতি দিয়েছেন প্রধান বন সংরক্ষক (সিসিএফ) আমীর হোসাইন চৌধুরী । ভুক্তভোগীদের দাবি, এই তড়িঘড়ি পদোন্নতির পেছনে রয়েছে অবৈধ অর্থ লেনদেনের শক্তিশালী নেটওয়ার্ক। না হলে সমতা ও জৈষ্ঠতা নীতিমালার সমস্যা সামাধানে মামলা চলমান থাকা অবস্থায় কিভাবে পুনরায় পদোন্নতির কার্যক্রমে সহযোগীতা করেন সংশ্লিষ্টরা।
অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট, যারা বছরের পর বছর ধরে কোটি কোটি টাকার বিনিময়ে পদোন্নতি বাণিজ্য চালিয়ে আসছে। পদোন্নতি পেতে খরচপাতির টাকা তুলতে ব্যাচভিত্তিক কয়েকজনকে সমন্বয়কের তালিকায় রাখা হয়েছে।
বিতর্কিত পদোন্নতির কয়েকটি উদাহরণ :
১) আমীরুল হাসান। বিভিন্ন মামলায় কারাভোগ ও সাময়িক বরখাস্ত থাকা সত্ত্বেও ২০১৬ সালের গ্রেডুয়েশন তালিকায় নাম না থাকলেও তাকে ডেপুটি রেঞ্জার পদে পদোন্নতি দেওয়া হয়। পরে ২০১৮ সালে নিয়মিতকরণের কাগজপত্র দেখিয়ে তিনি এখন রেঞ্জার পদে পদোন্নতির জন্য তৎপর।
২) দুদকের মামলা চলমান থাকা অবস্থায় চিন্ময় মধুকে ডেপুটি রেঞ্জার পদে পদোন্নতি দেওয়া হয়। অপরদিকে, সুলতানুল আলম নামের আরেক কর্মকর্তা একাধিক মামলা থাকা সত্ত্বেও মোটা অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে পদোন্নতি লাভ করেন। পরবর্তীতে আদালতে হাজির হলে তাকে কারাগারে পাঠানো হয় এবং পরে তিনি কারাভোগ করছেন বলে জানা গেছে।
বন অধিদপ্তরের প্রকল্প বাস্তবায়নে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনের অভিযান :
বন অধিদপ্তরের বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়নে অনিয়ম, বরাদ্দকৃত অর্থ আত্মসাৎ, বদলি ও পদোন্নতিসহ নানা দুর্নীতির অভিযোগের ভিত্তিতে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) এনফোর্সমেন্ট ইউনিট ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ তারিখে বন ভবনে অভিযান পরিচালনা করেছে। দুদকের এই অভিযান পরিচালনা করেন সহকারী পরিচালক মোঃ ইসমাঈলের নেতৃত্বাধীন এনফোর্সমেন্ট টিম। অভিযানের সময় প্রধান বন সংরক্ষক মোঃ আমির হোসাইন চৌধুরী, উপপ্রধান বন সংরক্ষক এবং টেকসই বন ও জীবিক (সুফল) প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক গোবিন্দ রায়সহ সংশ্লিষ্ট অন্যান্য কর্মকর্তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় এবং গুরুত্বপূর্ণ রেকর্ডপত্র সংগ্রহ করা হয়। অভিযান শেষে এনফোর্সমেন্ট প্রতিবেদন দাখিল করা হয়েছে।
প্রতিবেদন পর্যালোচনায় দেখা যায়, প্রধান বন সংরক্ষক মোঃ আমির হোসাইন চৌধুরীর অধীনে প্রশাসনিক কার্যক্রমের স্বচ্ছতা ও দায়িত্বশীলতার অভাব রয়েছে। বদলি ও পদায়নের ক্ষেত্রে আর্থিক লেনদেন এবং প্রকল্প বাস্তবায়নে স্বচ্ছতার অভাবে গুরুতর অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেছে। জিজ্ঞাসাবাদের সময় তার দপ্তরের বিভিন্ন প্রকল্পে ব্যয়িত অর্থের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়, তবে প্রকল্প বাস্তবায়নে অনিয়মের বিষয়ে তিনি কোনো সন্তোষজনক ব্যাখ্যা দিতে পারেননি। এছাড়া, তার তত্ত্বাবধানে বদলি ও পদোন্নতির ক্ষেত্রে অনিয়মের অভিযোগ উঠে আসে। নির্ধারিত নীতিমালা উপেক্ষা করে আর্থিক সুবিধার বিনিময়ে গুরুত্বপূর্ণ পদে বদলি ও নিয়োগের তথ্য পাওয়া গেছে। দপ্তরের প্রকল্প বাস্তবায়নে অনিয়ম এতটাই প্রকট যে, বন বিভাগের কর্মকর্তাদের মধ্যে দায়িত্বশীলতার সংকট দেখা দিয়েছে। বদলি ও পদায়ন নীতিমালার লঙ্ঘন এবং দুর্নীতির বিস্তারের ফলে বন অধিদপ্তরের প্রকল্প বাস্তবায়ন কার্যক্রম কার্যত অকার্যকর হয়ে পড়েছে।
পরিবেশ ও বন রক্ষায় সরকারের নেওয়া টেকসই বন ও জীবিকা (সুফল) প্রকল্পের দেড় হাজার কোটি টাকার বেশির ভাগই লুটপাট হয়েছে। বন অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা পরস্পর যোগসাজশে এই লুটপাট করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) জমা দেওয়া এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে। দুদকের তৎকালীন সহকারী পরিচালক মো. ইসমাইল হোসেন বন অধিদপ্তরের অনিয়মসংক্রান্ত এই প্রতিবেদন কমিশনে জমা দিয়েছেন। দুদক সূত্রে জানা গেছে, ২০১৮ সালে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার ১ হাজার ৫০২ কোটি টাকা ব্যয়ে টেকসই বনায়নের জন্য ‘সুফল’ প্রকল্প হাতে নেয়। দুদক সূত্রটি জানায়, বনায়নের প্রকল্পের বেশির ভাগ অর্থই কাজ না করে আত্মসাৎ করেছেন বন অধিদপ্তরের কর্মকর্তা ও প্রকল্পসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।
২০১৮ সালে শুরু হওয়া ‘সুফল’ প্রকল্পটি পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের আওতায় নেওয়া বৃহত্তম উদ্যোগ। দেশের পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষায় মোট ভূখণ্ডের ২৫ শতাংশ বনভূমি নিশ্চিত করার লক্ষ্য সামনে রেখে এই প্রকল্প নেওয়া হয়। দেশের ২৮টি জেলা ও ৫টি বনাঞ্চল নিয়ে বাস্তবায়নাধীন এই প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয় ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকা। প্রকল্প বাস্তবায়নে দুর্নীতির অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে গত ফেব্রুয়ারিতে বন অধিদপ্তরে অভিযান চালিয়েছিল দুদক। সেসময় কাগজে-কলমে কাজ দেখিয়ে অর্থ আত্মসাতের প্রমাণ পাওয়া যায় বলে জানায় সংস্থাটি। অনুসন্ধানে উঠে আসে, প্রকল্পের অর্থ ব্যয়ে স্বচ্ছতা ছিল না এবং কাজ না করেই বিল গ্রহণ করা হয়েছে। এতে জড়িত হিসেবে প্রধান বন সংরক্ষক আমির হোসাইন চৌধুরী, প্রকল্প পরিচালক গোবিন্দ রায়এর নাম উঠে আসে।
বনের নিয়োগ-পদোন্নতিতে ‘ঘুষের তথ্য’ টিআইবির প্রতিবেদনে :
বন অধিদপ্তরে বন প্রহরী থেকে শুরু করে প্রধান বন সংরক্ষক পদে নিয়োগ, পদোন্নতি, বদলি বা পদায়নে ‘লাখ থেকে কোটি টাকা’ ঘুষ লেনদেনের অভিযোগ উঠে এসেছিলো ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) এক গবেষণা প্রতিবেদনে।
টিআইবি বলছে, “সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের নীতিনির্ধারক ও ব্যক্তিগত সহকারী এবং উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের একাংশ” এই ঘুষ লেনদেনে জড়িত। এক ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে ‘বন অধিদপ্তর: সুশাসনের চ্যালেঞ্জ ও উত্তরণের উপায়’ শীর্ষক এক প্রতিবেদনে বন অধিদপ্তরের ‘দুর্নীতি ও অনিয়মের’ ক্ষেত্র উল্লেখ করে ‘বিধিবহির্ভূত’ লেনদেনের চিত্র তুলে ধরেন টিআইবির ডেপুটি প্রোগ্রাম ম্যানেজার মো. নেওয়াজুল মওলা। তবে অভিযোগ অস্বীকার করে প্রধান বন সংরক্ষক মো. আমীর হোসাইন চৌধুরী দাবি করেছেন, তার অধিদপ্তরে নিয়োগ বা বদলির কোনো ক্ষেত্রে কোনো অনিয়ম বা দুর্নীতি ‘হয়নি’। টিআইবির সংবাদ সম্মেলনে নেওয়াজুল মওলা বলেন, প্রধান বন সংরক্ষক হিসেবে পদোন্নতির জন্য এক কোটি থেকে তিন কোটি টাকা ‘বিধিবহির্ভূত’ লেনদেনের অভিযোগ তারা এ গবেষণা চালাতে গিয়ে পেয়েছেন। এছাড়া বন সংরক্ষক হিসেবে নিয়োগ ও বদলির ক্ষেত্রে ২০ থেকে ২৫ লাখ টাকা, বিভাগীয় বন কর্মকর্তা হিসেবে পদোন্নতি বা বদলির ক্ষেত্রে ১০ লাখ থেকে এক কোটি টাকা, প্রকল্প পরিচালক হিসেবে নিয়োগ পেতে এক থেকে দেড় কোটি টাকা এবং সহকারী বন সংরক্ষক পদে বদলির ক্ষেত্রে এক থেকে পাঁচ লাখ টাকা লেনদেনের তথ্য পাওয়ার কথা জানান তিনি। টিআইবির প্রতিবেদন বলছে, রেঞ্জ কর্মকর্তা, চেক স্টেশন ইনচার্জ, ফরেস্টার, বিট কর্মকর্তা এবং বন প্রহরী পদে বদলি হতে প্রধান বন সংরক্ষকের দপ্তর, আঞ্চলিক ও বিভাগীয় বন কার্যালয়ের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের একাংশকে ‘লাখ লাখ টাকা ঘুষ’ দিতে হয়। রেঞ্জ কর্মকর্তা হিসেবে বদলির ক্ষেত্রে পাঁচ থেকে ১০ লাখ টাকা, চেক স্টেশন ইনচার্জ ও ফরেস্টার পদে বদলি ১০ থেকে ২৫ লাখ টাকা, বিট কর্মকর্তার বদলিতে দুই থেকে পাঁচ লাখ টাকা এবং বন প্রহরী পদে বদলির ক্ষেত্রে ৫০ হাজার থেকে আড়াই লাখ টাকার ‘ঘুষ’ লেনদেন হয় বলে টিআইবির ভাষ্য।
প্রধান বন সংরক্ষক হিসেবে দায়িত্বে আছেন আমীর হোসাইনের পদায়নের ক্ষেত্রেও‘বিধিবহির্ভূত লেনদেনের’ অভিযোগ এসেছে টিআইবির প্রতিবেদনে। এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে প্রধান বন সংরক্ষক বলেন, “আমাকে নিয়োগ দিয়েছে মন্ত্রণালয়, এ বিষয়ে মন্ত্রণালয় বলবে। এছাড়া প্রথম শ্রেণিসহ ওপরের পদে পদোন্নতি মন্ত্রণালয় থেকে হয়। সেটাও মন্ত্রণালয় বলতে পারবে যে কোনো অনিয়ম হয়েছে কিনা।”
সাবেক বনমন্ত্রী ও প্রধান বন সংরক্ষকের দুর্নীতি অনুসন্ধানে দুদক :
বিভিন্ন দুর্নীতির মাধ্যমে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের সাবেক মন্ত্রী মো. শাহাব উদ্দিন, তার ছেলে জাকির হোসেন জুমন ও প্রধান বন সংরক্ষক আমির হোসেনসহ অন্যান্যদের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান শুরু করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। মঙ্গলবার (২৬ আগস্ট, ২০২৫) রাজধানীর সেগুনবাগিচায় দুদকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে সংস্থাটির মহাপরিচালক মো. আক্তার হোসেন এসব তথ্য জানান। আক্তার হোসেন বলেন, সাবেক বনমন্ত্রী মো. শাহাব উদ্দিন, তার ছেলে জাকির হোসেন জুমন ও প্রধান বন সংরক্ষক আমির হোসেনসহ অন্যান্যদের বিরুদ্ধে পোস্টিং বাণিজ্য, সিন্ডিকেটেসহ বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে সরকারি অর্থ আত্মসাৎপূর্বক অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ অনুসন্ধানে কমিশন একটি টিম গঠন করেছে। অনুসন্ধান টিম প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংগ্রহের জন্য বিভিন্ন দপ্তরে চিঠি দিয়েছে। সেসব দপ্তর থেকে প্রাপ্ত তথ্য পর্যালোচনার পর টিম কমিশনের কাছে অনুসন্ধান প্রতিবেদন দাখিল করবে।প্রধান বন সংরক্ষক আমীর হোসাইনকে হাইকোর্টে তলব : আদালতের আদেশ অমান্য করার অভিযোগে প্রধান বন সংরক্ষক মো. আমীর হোসাইন চৌধুরীকে তলব করেছেন হাইকোর্ট। ২৮ আগস্ট ২০২২ তাকে স্বশরীরে হাজির হয়ে আদালতের আদেশ অমান্যের বিষয়ে ব্যাখ্যা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিচারপতি আবু তাহের মো. সাইফুর রহমান ও বিচারপতি এ.কে.এম. রবিউল হাসান সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এই আদেশ দেন।
এসএন/ পিডিকে