সাড়ে চার ঘণ্টা পর নিয়ন্ত্রণে টঙ্গীর ওষুধ কারখানায় আগুন

গাজীপুরের টঙ্গীর চেরাগ আলী এলাকার বেক্সিমকো সড়কে  ড্রাগস ইন্টারন্যাশনাল ওষুধ কারখানার আগুন প্রায় সাড়ে চার ঘণ্টায় নিয়ন্ত্রণে এসেছে। ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সুলতানুল আফ্রীন জুনায়েদ এ তথ্য জানিয়েছেন।

আজ বুধবার (১৪ অক্টোবর) সকাল সোয়া ১০টার দিকে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের টঙ্গী, গাজীপুর ও ঢাকার ২১টি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রায় সাড়ে চার ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। অগ্নিকাণ্ডে বিপুল কেমিক্যাল ও অন্যান্য সামগ্রী পুড়ে গেছে, ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে পাশের দুটি ভবওন। এসময় আগুন নেভাতে গিয়ে ফায়ার সার্ভিসের আবুল কালাম নামে এক ফায়ার ফাইটার আহত হয়েছেন। তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

ফায়ার সার্ভিস জানায়, সকাল সোয়া ১০টার দিকে টঙ্গীর চেরাগ আলী এলাকায় বেক্সিমকো সড়কে ড্রাগ ইন্টার ন্যাশনাল কারখানার ইউনিট ২-এর চতুর্থ তলায়  আগুন লাগে। মুহূর্তেই আগুনের লেলিহান শিখা চারপাশে ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে টঙ্গী ফায়ার সার্ভিসের তিনটি ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে যোগ দেয়‌। পরে আগুনের ব্যাপকতা দেখে আরও ফায়ার স্টেশনের সহযোগিতা চাওয়া হয়। এ সময় টঙ্গী, গাজীপুর ও ঢাকা স্টেশনসহ সদর দপ্তরের ২১টি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে যোগ দেয়। এ সময় তাদের সঙ্গে সেনাবাহিনীর পানিবাহী গাড়ি, সিটি করপোরেশনের ভলান্টিয়ার ও পানিবাহি গাড়ি যোগ দেয়। তবে আগুনের সূত্রপাত ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। 

অগ্নিকাণ্ড নিয়ন্ত্রণের ব্যাপারে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সুলতানুল আফ্রীন জুনায়েদ বলেন, আগুন লাগার ১০ মিনিটের মধ্যে টঙ্গী ফায়ার সার্ভিসের তিনটি ইউনিট আগুন নেভাতে ঘটনাস্থলে পৌঁছে। পর্যায় ক্রমে ২১টি ইউনিট আগুন নেভাতে একযোগে কাজ করে। পরে ১টা ৩৫ মিনিটে আগুন মোটামুটি নিয়ন্ত্রণে আসে। এখন ডাম্পিং চলছে যা আগামীকাল পর্যন্ত হতে পারে। এ ঘটনায় কেউ হতাহত হয়নি, সবাইকে আমরা বের করে আনতে সক্ষম হয়েছি।

মহাপরিচালক আরও বলেন, ড্রাগ ইন্টারন্যাশনাল একটি প্রাইভেট কোম্পানি। এর চতুর্থ তলায় আগুন লাগে। আগুন ওই ভবনের চতুর্থ তলা ছাড়াও পাশের বিল্ডিংয়ে ছড়িয়ে পড়ে। প্রধানমন্ত্রী নির্দেশনা দিয়েছেন, যেহেতু এটি ওষুধ কারখানা এবং কেমিক্যাল থাকতে পারে, সেই আগুন যেন ছড়িয়ে পড়তে না পারে। তার নির্দেশে আমরা আগুন চারপাশে ছড়িয়ে পড়তে দেইনি। কারখানায় যেখানে আগুন লাগে সেখানে কেমিক্যাল ছিল। এ ছাড়া রাবার ও অ্যালুমিনিয়াম থাকায় আগুন জ্বলে এবং এটি ব্যাপকতা লাভ করে। এজন্য ফায়ার সার্ভিসের পাশাপাশি সেনাবাহিনীর কেমিক্যাল ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করে। এ ছাড়া বিজিবি, পুলিশ ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা কাজ করে। উদ্ধারকারী টিম ও অ্যাম্বুলেন্স মোতায়েন রাখা হয়। 

মহাপরিচালক আরও বলেন, আগুনের কারণে ভবনের চতুর্থ তলা ও দ্বিতীয় তলা বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এখানে মূলত পাউডার, ইনজেকশন ও অন্যান্য ড্রাই ওষুধ তৈরি হতো। 

অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন জেলা প্রশাসক মো. নূরুল করিম ভুইয়া। তিনি বলেন, শুরুতে আমাদের কনসার্ন ছিল জীবনের কোনো ক্ষতি হয় কী না। তবে ফায়ার ফাইটারদের সাহসী পদক্ষেপে কেউ হতাহত হয়নি। এখন আগুন নিয়ন্ত্রণে এসেছে, ডাম্পিং চলছে। 

তদন্ত কমিটি গঠন নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে জেলাপ্রশাসক বলেন, আগে আগুন নিয়ন্ত্রণ ও সম্পদ রক্ষা। তারপর অন্য বিষয় চিন্তা করা যাবে। 

এদিকে, অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় পর গণমাধ্যমকর্মীদের ভেতরে প্রবেশে বাধা দেয় কারখানা কর্তৃপক্ষ। কারখানার ফটক ও আশপাশের এলাকায় বিপুল উৎসুক জনতা ভিড় করে। এ সময় ঢাকা ময়মনসিংহ মহাসড়কে গাড়ির জটলা তৈরি হলে থেমে থেমে যানজটের সৃষ্টি হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *