সব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ১৫১ শয্যায় উন্নীত হবে : স্বাস্থ্যমন্ত্রী

দেশের সব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে আগামী তিন বছরের মধ্যে পর্যায়ক্রমে ১৫১ শয্যার হাসপাতালে উন্নীত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।

আজ সোমবার (৩১ আগস্ট) দুপুরে মানিকগঞ্জ জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে জেলা প্রশাসক নাজমুন আরা সুলতানার সভাপতিত্বে আয়োজিত বিশেষ মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, শুধু শয্যা বাড়ানো নয়, উপজেলা পর্যায়েই নারী, শিশু ও কিডনি রোগীদের জন্য বিশেষায়িত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা হবে। প্রতিটি ১৫১ শয্যার হাসপাতালে নারীদের জন্য ২০টি, শিশুদের জন্য ২০টি এবং ডায়ালাইসিসের জন্য ১০টি শয্যা থাকবে।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, মানিকগঞ্জে কিডনি রোগীদের চিকিৎসায় চলতি বছরের মধ্যেই বড় ধরনের সক্ষমতা বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। মানিকগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৫০টি এবং জেলা হাসপাতালে ১০টি—মোট ৬০টি ডায়ালাইসিস মেশিন চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এগুলো চালু হলে প্রতিদিন অন্তত ১২০ জন রোগী জেলা থেকেই ডায়ালাইসিস করাতে পারবেন।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, চিকিৎসার জন্য ঢাকামুখী মানুষের চাপ কমাতে স্বাস্থ্যসেবা উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায় পর্যন্ত নিয়ে যাওয়া হবে। প্রতিটি ইউনিয়নে তিনটি করে ‘হেলথ ওয়েলবিং সেন্টার’ স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। এসব কেন্দ্রে মিডওয়াইফ ও প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যকর্মী থাকবেন।

প্রান্তিক পর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে ৪২ হাজার ৩৯০ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের অনুমোদন প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলেও জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী। এসব স্বাস্থ্যকর্মী বাড়ি বাড়ি গিয়ে রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, উচ্চতা ও ওজন পরিমাপের পাশাপাশি স্তন ও জরায়ুমুখ ক্যানসারের প্রাথমিক স্ক্রিনিং করবেন।

হামের টিকা নিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, দায়িত্ব নেওয়ার পর দেশে টিকার মজুত না থাকায় জরুরি ভিত্তিতে বিশ্বব্যাংক, ইউনিসেফ ও গ্যাভির সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। ২১ দিনের মধ্যে ৪৯২ কোটি টাকার বেশি অর্থ পরিশোধ করে প্রয়োজনীয় টিকা দেশে আনা হয়েছে।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, গত এপ্রিল থেকে দেশজুড়ে টিকাদান কর্মসূচিতে এক কোটি ৮৫ লাখের বেশি শিশুকে টিকা দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে তা শতভাগ অর্জন করা হয়েছে। বাদপড়া শিশুদের জন্য পরবর্তী সময়ে মপ-আপ কর্মসূচিতে আরও ১১ লাখের বেশি শিশুকে টিকা দেওয়া হয়।

আগামী সেপ্টেম্বরের শেষ নাগাদ ১৯ দিনের বিশেষ টিকাদান কর্মসূচি চালানো হবে। এর মাধ্যমে দেশের সব শিশুকে পুনরায় টিকার আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, হাম অত্যন্ত সংক্রামক রোগ। বিশেষ করে ছয় মাসের কম বয়সী শিশুরা টিকার আওতায় না থাকায় তাদের ঝুঁকি বেশি। তাই অভিভাবকদের সতর্ক থাকার পাশাপাশি আক্রান্ত শিশুদের সংস্পর্শ এড়িয়ে চলার আহ্বান জানান তিনি।

দেশে উন্নত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করে বিদেশে চিকিৎসা নেওয়ার প্রবণতা কমানো সরকারের অন্যতম লক্ষ্য বলেও জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, মানুষের দোরগোড়ায় মানসম্মত চিকিৎসা পৌঁছে দিতে পারলে একদিকে রোগীর ভোগান্তি কমবে, অন্যদিকে চিকিৎসার জন্য বিদেশে গিয়ে বিপুল বৈদেশিক মুদ্রা ব্যয়ের প্রবণতাও কমবে।

সভায় দেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট নিয়েও কথা বলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। আগের সরকারের সময়ে কুইক রেন্টাল ও ক্যাপাসিটি চার্জের নামে বিপুল অর্থ অপচয় ও পাচার হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় নতুন গ্যাসকূপ খননের কাজ দ্রুত এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে বন্ধ থাকা ৯ থেকে ১০টি বিদ্যুৎকেন্দ্র পুনরায় চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। আগামী দুই থেকে তিন মাসের মধ্যে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ যুক্ত হওয়ার প্রত্যাশার কথাও জানান তিনি।

এ ছাড়া বিদ্যুৎ উৎপাদনে সৌরশক্তিকে অগ্রাধিকার দিয়ে আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে সৌরবিদ্যুৎ থেকে কয়েক হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে বলে জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী।

মতবিনিময় সভায় খাদ্যমন্ত্রী ও মানিকগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য আফরোজা খানম রিতা, মানিকগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য এস এ জিন্নাহ কবীর, মানিকগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য মঈনুল ইসলাম খান শান্তসহ জেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতা এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *