শীতলক্ষ্যায় নিখোঁজ চারজনের মধ্যে ৩ জনের মরদেহ উদ্ধার

নরসিংদীর শিবপুরে শীতলক্ষ্যা নদীতে ডুবে চারজন নিখোঁজের ঘটনায় তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করেছে ডুবুরি দল। শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে শিবপুর উপজেলার চরলাখপুরে শীতলক্ষ্যা নদী থেকে তাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

যাদের মরদেহ উদ্ধার হয়েছে— শিবপুরের চরলাখপুর এলাকার মজিবুর শেখের বড় মেয়ে শাহিনুরের স্বামী ওবাইদুল্লাহ (৩৫), ছোট মেয়ে শান্তা (২২) ও মজিবুর শেখের পাশের বাড়ির সৌরভ (১৫)। এখনও নিখোঁজ রয়েছেন মজিবুর শেখের নাতি শান্ত (১৭)।

শিবপুর ফায়ার সার্ভিস ও এলাকাবাসী জানায়, ওবাইদুল্লাহ ও তার স্ত্রী শাহিনুর সন্তান নিয়ে শিবপুর উপজেরার চরলাখপুর এলাকায় শ্বশুর মজিবুর শেখের বাড়িতে বেড়াতে আসেন। তাদের সঙ্গে মজিবুর শেখের অপর দুই মেয়ে শাহিদা ও শান্তাও তাদের সন্তানদের নিয়ে বেড়াতে আসেন। শুক্রবার বেলা ৩টার দিকে মজিবুর শেখের ছোট মেয়ে শান্তা বাড়ির পাশের শীতলক্ষ্যা নদীতে গোসল করতে নেমে তলিয়ে যান। তাকে উদ্ধার করতে বড় মেয়ে শাহিনুরের স্বামী ওবাইদুল্লাহ ও মেজো মেয়ে শাহিদার ছেলে শান্ত নদীতে নামেন। এ সময় তারা দুজনও নদীতে তলিয়ে যান। পরে পাশের বাড়ির সৌরভসহ একাধিক ব্যাক্তি নিখোঁজদের খুঁজতে নদীতে নামেন। এ সময় সৌরভও নদীতে তলিয়ে যান।

খবর পেয়ে সন্ধ্যা ৬টার দিকে শিবপুর ফায়ার সার্ভিস ও শিবপুর থানা পুলিশ নিখোঁজদের উদ্ধারে অভিযানে নামে। রাত হয়ে যাওয়ায় নদী থেকে কাউকে উদ্ধার করা যায়নি। পরে আজ শনিবার সকালে ঢাকা থেকে ফায়ার সার্ভিসের একটি ডুবুরি দল ঘটনাস্থলে এসে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। পরে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে একে একে সৌরভ, ওবাইদুল্লাহ ও শান্তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। বাকি একজনকে উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

এলাকার ইউপি সদস্য নাসির উদিন হাওলাদার বলেন, শুক্রবার দুপুরে মজিবুর শেখের ছোট মেয়ে নদীতে গোসলে গিয়ে নিখোঁজ হয়। পরে একে একে বড় মেয়ের জামাই, মেজো মেয়ের ছেলে ও সৌরভ নামে এলাকার একজনসহ ৪ জন নিখোঁজ হয়। সকালে ৩ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

শিবপুর ফায়ার সার্ভিসের টিম লিডার ইসলাম খান বলেন, গতকাল নদীতে নেমে ৪ জন নিখোঁজ হয়েছিল। আমরা এসে নদীতে উদ্ধার অভিযান চালাই। কিন্তু রাত হয়ে যাওয়ায় কাউকে পাইনি। সকালে ঢাকা থেকে ডুবুরি দল আসলে পুনরায় উদ্ধার অভিযান শুরু করি। তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। বাকি একজনকে উদ্ধারে কাজ চলছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *