শাহজালালে ল্যাপটপসহ বিভিন্ন পণ্যের ১০১ কার্টন জব্দ

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের এয়ারফ্রেইট এলাকায় অভিযান চালিয়ে গতকাল বৃহস্পতিবার (৩১ জুলাই) ১০১ কার্টন পণ্য জব্দ করেছে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর। জব্দ পন্যের মধ্যে ব্যবহৃত ল্যাপটপ, অটোমোবাইল পার্টস, হাতঘড়ি, হার্ডড্রাইভ, মিনি পিসি রয়েছে।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. আল আমিন শেখ এ তথ্য জানিয়েছেন।

এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আল আমিন শেখ বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের এয়ারফ্রেইট এলাকায় অভিযান চালিয়ে মিথ্যা ঘোষণায় আমদানি করা ১০১ কার্টন পণ্য জব্দ করেছে। জব্দ পণ্যের মধ্যে প্রাথমিকভাবে ব্যবহৃত ল্যাপটপ, ব্যবহৃত অটোমোবাইল পার্টস, হাতঘড়ি, হার্ডড্রাইভ ও মিনি পিসিসহ বিভিন্ন পণ্য রয়েছে। 

গতকাল বৃহস্পতিবার কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের সদর দপ্তর এবং এয়ারফ্রেইট সার্কেলের কর্মকর্তারা যৌথভাবে এ অভিযান পরিচালনা করেন। অভিযানস্থল ছিল হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের এয়ারফ্রেইট এলাকার ডেলিভারি গেট নম্বর ৮-সংলগ্ন ইয়ার্ড।

প্রাথমিক তথ্যে জানা যায়, আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান সরদার গ্লোবাল ট্রেড সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে এয়ার ওয়েবিল নম্বর ১৭৬-৬৩৫১৮৭২২ মাধ্যমে পণ্যচালানটি আমদানি করে। চালানে মোটর পার্টস, কসমেটিকস, মিনি পিসি, ট্যাবলেট, প্রজেক্টর ও কম্পিউটার পার্টসের ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল। পণ্যচালানটি খালাসের উদ্দেশ্যে আমদানিকারকের সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট ফাহিম ফাইফ স্টার লিমিটেডের অ্যাসাইকুডা ওয়ার্ল্ড সিস্টেমে বিল অব এন্ট্রি নম্বর সি-৭৬৪১৭৭, গত ২৯ জুলাই দাখিল করা হয়। 

তবে পণ্যচালানটির বিষয়ে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের কাছে পূর্ব থেকেই গোপন তথ্য ছিল। ওই তথ্যের ভিত্তিতে চালানটি জব্দ করে কায়িক পরীক্ষা শুরু করা হয়। সেখানে দেখা যায়, নতুন পণ্যের ঘোষণার আড়ালে পুরোনো ও ব্যবহৃত পণ্য আমদানি করা হয়েছে, যা ঘোষণাবহির্ভূত এবং আমদানি বিধি লঙ্ঘনের শামিল।

মোট ১০১টি কার্টনের মধ্যে ল্যাপটপ (এইচপি, ডেল, লেনোভো, মাইক্রোসফট) ৪৫০ পিস, অটোমোবাইল পার্টস ৯৬৩ দশমিক ৮ কেজি, এইচডিডি ৬টিবি ৯৬পিস, কসমেটিক্স ২৯১ দশমিক ১৪ কেজি, মিনি পিসি ৯৬ পিস (ব্যবহৃত)। প্রায় কোটি টাকার এই পণ্যগুলো আমদানি নিষিদ্ধ ও নিয়ন্ত্রিত হওয়ায় পণ্য শুল্ক-কর দিয়ে আইনানুগভাবে খালাসের কোনো সুযোগ নেই।

অভিযান পরিচালনাকারী কর্মকর্তারা বলেন, আমদানি শর্ত পূরণযোগ্য না হওয়ায় জনস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর কসমেটিক্স এভাবে খালাসের অপচেষ্টা করা হয়। ব্যবহৃত ইলেকট্রনিক্স সামগ্রী আমদানি নিষিদ্ধ কারণ এগুলো নতুন হিসেবে বিক্রির মাধ্যমে সাধারণ ভোক্তাদের প্রতারণা করার ঝুঁকি রয়েছে। একইসঙ্গে পরিবেশের জন্য এগুলো ক্ষতিকর। আর মোটর পার্টস আসলে অসংযোজিত গাড়ি কিনা, যার চেসিস হয়তো কন্টেইনারে আলাদাভাবে আনা হতে পারে এ রকম অভিযোগ খতিয়ে দেখতে বিস্তারিত তদন্ত করা হবে। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট আমদানিকারক ও সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টের দায় নিরূপণসহ কাস্টমস আইন অনুযায়ী পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *