রান তাড়ায় নামতেই ইনিংসের প্রথম ওভারেই জোড়া ধাক্কা। স্কোরবোর্ডে কোনো রান যোগ হওয়ার আগেই সাজঘরে দুই ওপেনার। তবে শুরুর সেই বিপর্যয় সামলে দলকে সহজ জয় এনে দিলেন জো রুট ও জর্ডান কক্স। এই অবিচ্ছিন্ন জুটির কল্যাণে এজবাস্টন টেস্টে বড় জয় তুলে নেওয়ার পাশাপাশি ঘরের মাঠে পাকিস্তানকে প্রথমবারের মতো টেস্ট সিরিজে হোয়াইটওয়াশ করার ঐতিহাসিক স্বাদ পেল ইংল্যান্ড।
আজ শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) এজবাস্টন টেস্টের চতুর্থ দিনে ৮ উইকেটের বড় জয় তুলে নিয়েছে ইংলিশরা। ম্যাচের প্রথম সেশনেই জয়ের জন্য প্রয়োজনীয় ১৩০ রানের লক্ষ্য টপকে যায় স্বাগতিকরা।
ম্যাচের শুরু থেকেই চালকের আসনে ছিল ইংল্যান্ড। প্রথম ইনিংসে পাকিস্তানকে মাত্র ১৩৩ রানে গুটিয়ে দিয়ে ৪৫৩ রানের বিশাল সংগ্রহ দাঁড় করায় তারা। ফলে প্রথম ইনিংসে বড় ব্যবধানে হারের শঙ্কায় পড়েছিল সফরকারীরা। তবে দ্বিতীয় ইনিংসে ঘুরে দাঁড়িয়ে দারুণ লড়াকু মানসিকতা দেখায় পাকিস্তান, স্কোর বোর্ডে জমা করে ৪৪৯ রান।
এর আগে হেডিংলিতে অনুষ্ঠিত সিরিজের প্রথম টেস্টে সফরকারীদের ইনিংস ও ১০৩ রানের বিশাল ব্যবধানে হারিয়েছিল ইংল্যান্ড। এরপর লর্ডসের দ্বিতীয় টেস্টেও ধরে রাখে জয়ের ধারা। এই ম্যাচে তারা জয় পায় ১৯৪ রানের বড় ব্যবধানে। আর শেষ টেস্টেও সেই ধারা বজায় রেখে পাকিস্তানকে ধবলধোলাই করল ইংলিশরা।
লিডসে ৬৬ রানের ইনিংস খেলে সিরিজ শুরু করা ইংলিশ ক্যাপ্টেন জো রুট শেষটাও রাঙালেন দুর্দান্ত ফিফটি দিয়ে। ৮টি চারের সাহায্যে ৬২ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলে দলের জয় নিশ্চিত করেই মাঠ ছাড়েন তিনি।
তার সঙ্গে দারুণ সঙ্গ দিয়ে সিরিজে নিজের তৃতীয় ফিফটি তুলে নেন জর্ডান কক্স। ৮টি চারের সাহায্যে ৫৯ রান করে অপরাজিত থাকেন তিনি। রুটের সঙ্গে তার ১২৮ রানের অপরাজিত জুটিই ইংল্যান্ডকে সহজে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দেয়।
এদিকে, ম্যাচের প্রথম ইনিংসে চমৎকার ৬৫ রানের ইনিংস খেলার পাশাপাশি বল হাতে দুই উইকেট শিকার করে ম্যাচসেরার পুরস্কার জিতে নেন ড্যান লরেন্স। আর পুরো সিরিজে দুর্দান্ত বোলিং করে যৌথভাবে সিরিজসেরার ট্রফিটা নিজেদের করে নেন পাকিস্তানের মোহাম্মদ আব্বাস ও ইংল্যান্ডের ওলি রবিনসন।
লক্ষ্য তাড়ায় নেমে প্রথম ওভারেই ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়েছিল ইংল্যান্ড। ইনিংসের প্রথম বলেই কট বিহাইন্ড হয়ে সাজঘরে ফেরেন বেন ডাকেট। ওভারের শেষ বলে এমিলিও গে-কে এলবিডব্লিউর ফাঁদে ফেলেন পেসার আব্বাস। মাত্র ২ রানে ২ উইকেট হারিয়ে যখন দল চাপে, তখনই ত্রাতা হয়ে উইকেটে আসেন রুট ও কক্স।
প্রথম বলেই বোলার রাজাউল্লাহকে চার মেরে খাতা খোলেন রুট। তিন বল পর একই বোলারকে আবারও বাউন্ডারি হাঁকান তিনি। রুটের মতোই সাবলীল ব্যাটিং শুরু করেন কক্সও। প্রথম ঘণ্টার লড়াইয়ে পাকিস্তানের বোলারদের আর কোনো উইকেটের সুযোগই দেননি এই জুটি।
মোহাম্মদ ইমরানকে চার মেরে মাত্র ৫৭ বলে ফিফটি পূর্ণ করেন রুট। অন্যদিকে, সাইম আইয়ুবের বলে বাউন্ডারি হাঁকিয়ে ৬৮ বলে নিজের ফিফটি তুলে নেন কক্স। এই দুজনে মিলে পাকিস্তানের বোলিং আক্রমণকে পাত্তাই না দিয়ে ২৫তম ওভারেই দলের জয় নিশ্চিত করেন।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
পাকিস্তান ১ম ইনিংস : ৩৩.৫ ওভারে ১৩৩/১০
ইংল্যান্ড ১ম ইনিংস : ৮৯ ওভারে ৪৫৩/১০
পাকিস্তান ২য় ইনিংস : ৯৬.৪ ওভারে ৪৪৯/১০
ইংল্যান্ড ২য় ইনিংস : (লক্ষ্য ১৩০) ২৪.২ ওভারে ১৩০/২ (ডাকেট ০, গে ০, কক্স ৫৯*, রুট ৬২*; আব্বাস ৮-১-২৭-২, রাজাউল্লাহ ৫-০-৩৯-০, আলি ৪-০-২৩-০, ইমরান ৪.২-০-২৪-০, সাইম ৩-০-১৭-০)
ফলাফল : ইংল্যান্ড ৮ উইকেটে জয়ী
সিরিজ : ৩ ম্যাচের সিরিজে ৩-০ ব্যবধানে জয়ী ইংল্যান্ড
ম্যাচ সেরা : ড্যান লরেন্স
সিরিজ সেরা : ওলি রবিনসন ও মোহাম্মাদ আব্বাস