গ্রীষ্মের তীব্র দাবদাহে রাজবাড়ীর গ্রামগঞ্জ ও শহরের বিভিন্ন সড়কের পাশে দেখা মিলছে মৌসুমি ফল তালের শাঁসের। সুস্বাদু ও শীতল প্রকৃতির এই খাবারকে কেন্দ্র করে জেলার বিভিন্ন এলাকায় জমে উঠেছে মৌসুমি ব্যবসা। অল্প পুঁজিতে লাভজনক হওয়ায় অনেকেই এই ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত হচ্ছেন।
প্রতিদিন সকাল থেকে রাজবাড়ী শহরের রেলগেট, বড়পুল, সদর হাসপাতাল মোড়, মুরগী ফার্ম এলাকা, বাসস্ট্যান্ডসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে তালের শাঁস বিক্রেতাদের সরব উপস্থিতি দেখা যায়। কেউ ভ্যানে, কেউ আবার বাঁশের ঝুড়ি নিয়ে বসেছেন রাস্তার ধারে। ক্রেতার চাহিদা অনুযায়ী মুহূর্তেই কাঁচা তাল কেটে শাঁস বের করে বিক্রি করছেন তারা।
ব্যবসায়ীরা জানান, জেলার বিভিন্ন গ্রাম থেকে কাঁচা তাল সংগ্রহ করে শহরে এনে বিক্রি করা হয়। আকার ও মানভেদে প্রতিটি তালের শাঁস ১০ থেকে ৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। মৌসুমের এ সময়ে প্রতিদিন কয়েক হাজার টাকার বিক্রি হওয়ায় অনেকের সংসারে স্বস্তি ফিরেছে।
রাজবাড়ী শহরের তালের শাঁস বিক্রেতা সাদ্দাম খাঁ বলেন, বছরের মাত্র দুই-তিন মাস এই ব্যবসা করা যায়। এ সময় প্রতিদিন ভালো বিক্রি হয়। গ্রামের তালের গাছ আগাম কিনে নিয়ে শাঁস সংগ্রহ করি। এতে সংসারের বাড়তি আয় হয় এবং পরিবারের খরচ মেটাতে সুবিধা হয়।
আরেক ব্যবসায়ী মজিবর রহমান বলেন, প্রতি বছরই এই মৌসুমে তালের শাঁস বিক্রি করি। অল্প পুঁজিতে ভালো লাভ হয়। তাই অনেকেই এখন এই ব্যবসার প্রতি আগ্রহী হচ্ছেন। রাজবাড়ীতে প্রায় ৫০ জনের বেশি লোক এ ব্যাবসার সঙ্গে জড়িত বলে জানান তিনি।
ক্রেতাদের মধ্যেও রয়েছে ব্যাপক আগ্রহ। শহরের বাসিন্দা শহিদ মিয়া বলেন, গরমে তালের শাঁস খেতে খুবই ভালো লাগে। এটি শরীরকে ঠান্ডা রাখে এবং স্বস্তি দেয়। তাছাড়া বিক্রেতারা যেভাবে দ্রুতগতিতে ধারালো দা দিয়ে তাল কেটে শাঁস বের করেন, সেটিও দেখার মতো একটি দৃশ্য।
তালের শাঁস ক্রেতা বাবু বলেন, তালের গাছ অনেক উঁচু। গাছ থেকে তাল পেরে খাওয়া অনেক কষ্টের। এ ফল সব সময় পাওয়া যায় না। প্রতি মৌসুমে পাওয়া যায়, তাই এখান থেকে কিনে খাওয়াই প্রশান্তির। ২০ টাকা দরে দুইটি তালের শাঁস কিনে খাচ্ছি। ভালো সুস্বাদু ও প্রশান্তির এটি।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, তালের শাঁস শুধু সুস্বাদুই নয়, এটি পুষ্টিগুণেও সমৃদ্ধ। রাজবাড়ীর সিভিল সার্জন ডা. এস এম মাসুদ বলেন, তালের শাঁসে প্রচুর পানি, খনিজ লবণ ও প্রাকৃতিক শর্করা রয়েছে। এটি শরীরের পানিশূন্যতা দূর করতে সহায়তা করে এবং গরমে শরীরকে সতেজ রাখে। তবে স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশে সংরক্ষণ ও বিক্রির বিষয়টি নিশ্চিত করা জরুরি।
প্রতিবছর গ্রীষ্ম মৌসুমে রাজবাড়ীতে তালের শাঁসের এই অস্থায়ী ব্যবসা বহু মানুষের জন্য বাড়তি আয়ের সুযোগ তৈরি করে। একই সঙ্গে স্থানীয় মানুষ ও পথচারীরা সহজলভ্য, স্বাস্থ্যকর ও প্রাকৃতিক এই মৌসুমি ফলের স্বাদ উপভোগ করছেন। ফলে তালের শাঁস এখন শুধু একটি মৌসুমি খাবার নয়, বরং অনেক ক্ষুদ্র উদ্যোক্তার জীবিকারও গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে।